এই গরমে ডিহাইড্রেশন থেকে বাঁচবেন কিভাবে?


Published: 2021-04-27 16:55:28 BdST, Updated: 2021-08-06 03:48:03 BdST

মো. বিল্লাল হোসেন: বেশ কিছুদিন যাবত আমাদের দেশে প্রচুর পরিমাণে গরম পড়তে শুরু করেছে। দিনের তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড এর কাছাকাছি থাকে বা কখনো কখনো এর উপরেও চলে যায়। এত বেশি তাপমাত্রা আমাদের শরীরে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি করে তন্মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দুটি সমস্যা হল ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা এবং হিট স্ট্রোক। এই লেখায় আমি আপনাদেরকে ডিহাইড্রেশন সম্বন্ধে ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করব।

ডিহাইড্রেশন কি?
পরিবেশের তাপমাত্রা অধিক হওয়ার ফলে দেহ থেকে প্রয়োজনীয় পানি বের হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ডিহাইড্রেশন বলা হয়। ডিহাইড্রেশনের ফলে দেহের জন্য প্রয়োজনীয় মিনারেল সমূহের ঘাটতি দেখা দেয়। ডিহাইড্রেশন তাপমাত্রাজনিত মারাত্মক একটি সমস্যা। পানিশূন্যতার ফলে আমাদের ডায়রিয়া,বমি এবং জ্বর হতে পারে যা অনেক সময় খুবই মারাত্মক আকার ধারণ করে। বিশেষ করে শিশুরা ও যাদের বয়স ৬০ বছর কিংবা তার কাছাকাছি এ ধরনের লোকই বেশি পরিমাণে পানি শূন্যতায় আক্রান্ত হয়ে থাকে।

ডিহাইড্রেশনের কারণসমূহ:
স্বাভাবিক অবস্থায় আমাদের দেহ থেকে ঘাম, কান্না, শ্বাস-প্রশ্বাস, মূত্র ও পায়খানার মাধ্যমে পানি নিঃসরিত হয়। একজন স্বাস্থ্যবান ব্যক্তির ক্ষেত্রে পানি শূন্যতা পূরণ হয় বিভিন্ন ধরনের তরল পানীয় পান ও খাবার খাওয়ার মাধ্যমে। কিন্তু যখন কোন ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে যায় বিশেষ করে যাদের জ্বর, ডায়রিয়া কিংবা বমি হয় তাদের ক্ষেত্রে ডিহাইড্রেশন ঘটে।

এছাড়াও এটি অতিরিক্ত তাপমাত্রা যুক্ত স্থানে থাকার কারণে বা রোদে থাকার কারণে হয়ে থাকে। এটি মূলত ঘটে তখনই যখন আমাদের দেহের প্রয়োজনীয় মিনারেল যেমন সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ইত্যাদি দেহ থেকে বের হয়ে যায়। এছাড়াও ডিহাইড্রেশন হয়ে থাকে অনেক সময় ডাইইউরেটিক্স জাতীয় ঔষধ সেবনের কারণে। কেননা এ জাতীয় ঔষধ গুলো দেহ থেকে তরল এবং ইলেকট্রোলাইট সমূহ শোষণ করে থাকে। ফলে সহজেই ডিহাইড্রেশন হয়ে যায়।

ডিহাইড্রেশনের লক্ষণসমূহ:
ডিহাইড্রেশনের অনেকগুলো লক্ষণ রয়েছে সেগুলির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণসমূহ নিম্নে উল্লেখ করা হলো-
* অতিরিক্ত তৃষ্ণা পাওয়া
* মূত্র নিঃসরণ কমে যাওয়া
* ত্বক শুকিয়ে যাওয়া
* মাথা ব্যথা করা
* অবসাদ
* মাথা ঘোরা
* কোন কাজ করতে গেলে সন্দেহে ভোগা
* মুখ ও মিউকাস মেমব্রেন শুকিয়ে যাওয়া
* হৃদস্পন্দন এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের হার বেড়ে যাওয়া

তবে শিশুদের ক্ষেত্রে আরো কিছু অতিরিক্ত লক্ষণ দেখা যেতে পারে যেমন-
* মুখ এবং গলা শুকিয়ে যাওয়া
* কান্নার সময় চোখ দিয়ে পানি বের না হওয়া
* অনেকক্ষণ যাবত ডায়াপার ভিজে না যাওয়া
* উদাসীনতা
* বিরক্তিভাব ইত্যাদি।

কিভাবে ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধ করবেন?

কিছু পূর্ব সতর্কতা ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধে দারুণ ভূমিকা পালন করে। সেগুলো নিম্নে তুলে ধরা হলো-
* প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন বিশেষ করে যখন প্রচুর রোধে থাকেন অথবা কাজের মধ্যে থাকেন

* আপনার দেহ থেকে যে পরিমাণে তরল বের হয়ে যাচ্ছে অবশ্যই তার থেকে বেশি পানি পান করুন এবং তরল জাতীয় খাবার খান।

* বাইরে যে সকল কাজ থাকে সেগুলো দিনের ঠান্ডা সময় গুলোতে বা তুলনামূলক কম তাপমাত্রার সময় গুলোতে করার চেষ্টা করুন। আপনি চাইলে সকালে এবং বিকেলে আপনার কাজগুলো শেষ করতে পারেন।

* দেহে ইলেক্ট্রোলাইট এর ভারসাম্য রক্ষা করতে বিভিন্ন ধরনের তরল পানীয় যেমন ডাবের পানি কিংবা স্যালাইনের পানি পান করুন।

* শিশুদের জন্য পেডিওলাইট নামক এক ধরনের তরল পানীয় পাওয়া যায় সেগুলো তাদেরকে পান করানোর চেষ্টা করুন। কখনোই বাড়িতে পানীয় কিংবা লবণের দ্রবণ তৈরি করে পান করানোর চেষ্টা করবেন না।

এসব নিয়ম মেনে চললে এই রমজানে ও আপনি থাকবেন সুস্থ সবল এবং ডিহাইড্রেশন মুক্ত। তাই আসুন প্রত্যেকে প্রত্যেকের জায়গা থেকে একটু সচেতন হই। প্রচুর পরিমাণে পানি পান করি। ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধ করি।

লেখক: মো. বিল্লাল হোসেন
শিক্ষার্থী, ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ।

ঢাকা, ২৭ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।