লেবাননের লেকে ভেসে উঠেছে ৪০ টন মৃত মাছ!


Published: 2021-05-02 02:19:23 BdST, Updated: 2021-09-23 03:20:29 BdST

লাইভ ডেস্ক: পরিবেশ বাদীরা কোথায় আছেন? কি অবস্থা আপনাদের। এতো বড় ঘটনা কিন্তু কোন খবর নেই পরিবেশবাদীদের। তারা মুখে কুলুপ ও কানে তুলা দিয়ে লুকিয়ে আছেন বলেও মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ। বলেছেন এটা তো ভিন্ন ভূমি এখানে আসা কিংবা এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিলে প্রবেলেম? এদিকে লেবাননে একটি দূষিত লেকে কয়েক টন মৃত মাছ ভেসে উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) দেশটির কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে আরব নিউজ।

দেশটির স্থানীয় কয়েকজন জেলে লিটানি নদীর পাশে ওই লেকে মাছগুলো মরে যাওয়ার কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছে না। তারা বলছেন, এর আগে এমন দৃশ্য তারা দেখেনি। তবে দেশটির এক পানি বিশেষজ্ঞ বলছেন, প্রাথমিকভাবে মাছগুলো কোনো ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কিংবা পানি দূষণের কারণেও মারা যেতে পারে।

বৃহস্পতিবার লেকটির পাঁচ কিলোমিটার তীরজুড়ে মৃত মাছগুলো পড়ে থাকতে দেখা গেছে। মাছগুলোকে মাটির নিচে পুঁতে ফেলা হয়েছে। লিটানি নদীর কর্তৃপক্ষ নাসারাল্লাহ আল হাজ বলেন, আমরা ৪০ টন মৃত মাছ স্থানান্তরিত করেছি। এ ঘটনার পর মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

কারাউন নামের ওই লেকটি ১৯৫৯ সালে লিটানি নদীর ওপর জলাশয় হিসেবে জলবিদ্যুৎ উত্পাদন ও সেচের জন্য জল সরবরাহের তৈরি করা হয়েছিল। তবে সম্প্রতি বিপুল পরিমাণে দূষিত পানি, শিল্প বর্জ্য, কৃষিকাজে ব্যবহৃত কীটনাশক ও সারের কারণে লেকটিকে বিষাক্ত করে তুলেছে।

স্বেচ্ছাসেবকরা এলাকা পরিস্কার করতে শুরু করেছে

 

২০১৬ সালেও লেবাননে কারাউন লেকে প্রচুর মৃত মাছ ভেসে ওঠে। সে সময়ও পানি বিষাক্ত হয়ে যাওয়ার কারণকেই দায়ী করা। কিন্তু নেয়া হয়নি কোন উদ্যেগ। যার ফলে এবারকার বিপর্যয়টা ভয়াবহ।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, দূষিত জলের জেরেই ঘটেছে এই ঘটনা। লেবাননের সবথেকে বড় নদী লিটানি। ওই নদীর তীরবর্তী এলাকায় রয়েছে কারাউন লেক। সেখানেই ভেসে এসে জমা হয়েছে এই পরিমাণ মৃত মাছ। এত মাছ এক জায়গায় জমা হওয়ায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে ওই এলাকায়। স্বেচ্ছাসেবকরা এলাকা পরিস্কার করতে শুরু করেছে।

তবে যে খবর জানা যাচ্ছে তা হল, বছরের পর বছর ধরে সুয়ারেজ ও অন্যান্য বর্জ্য এক জায়গায় জমা হচ্ছে। এর জেরেই লিটানি নদীর জল দূষিত হচ্ছে এবং মাছ মৃত্যুর কারণ এটাই। স্থানীয় এক কর্মী আহমাদ আসকার জানিয়েছেন, ‘লেকের কাছে গত কয়েক দিন ধরে এই অবস্থা চলছে। মাছ ভেসে উঠছিল অস্বাভাবিক পরিমাণে। যার গন্ধ অসহনীয়’। স্থানীয় জেলেদের থেকে জানা গিয়েছে, গত কয়েক দিনে এত মরা মাছ জমতে জমতে পরিস্থিতি এই অবস্থায় এসে পৌঁছেছে।

কর্তৃপক্ষ এও জানিয়েছে, মৃত মাছগুলি বিষাক্ত এবং এগুলি ভাইরাস সৃষ্টি করছে। তাই সমস্ত দিক দেখে বিচার করে লিটানি নদীতে মাছ না ধরার কথা বলা হয়েছে। এই ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। দূষণের জেরে ২০১৮ সাল থেকেই লিতানি নদী এবং সংলগ্ন হ্রদগুলোয় মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছিল সেখানকার সরকার। জানা গিয়েছে নদীর তীরবর্তী হ্রদটি তৈরি করা হয়েছিল ১৯৫৯ সালে। জলবিদ্যুৎ উৎপাদন ও কৃষিকাজের জন্য সেখান থেকে জল নেওয়া হত।

প্রসঙ্গত, লেবাননে এমন ঘটনা বেশ কয়েক মাস ধরে বাড়ছে। মার্চ মাসেও সেই দেশের কয়েকটি উপকূলীয় এলাকায় বিষাক্ত তেল ছড়িয়ে পড়েছিল। সামুদ্রিক জীব বৈচিত্র প্রশ্নের মুখে পড়েছিল। সমুদ্র সৈকত পরিষ্কারের উদ্যোগ নিয়েছিল স্বেচ্ছাসেবকরা।

মূলত, ২০২০ সালে আগস্ট মাসে রাজধানী বৈরুতের বন্দরে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়েছিল। লেবাননের অর্থনীতিকে যা সংকটে ফেলে দিয়েছিল। তখন থেকেই সেখানে একের পর এক পরিবেশগত সমস্যাও বাড়তে শুরু করে। সমস্যা বাড়ছে বই কমছে না।

ঢাকা, ০১ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআইটি

 

 

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।