"শুধু 'খাবার' এই শব্দটা শোনার পর ঘুম থেকে লাফিয়ে উঠেছে অসংখ্য মানুষ "


Published: 2020-08-21 12:20:06 BdST, Updated: 2020-10-26 18:43:21 BdST

করোনাকালে প্রান্তিক মানুষকে সহায়তার স্বীকৃতি হিসেবে জাতিসংঘের ‘রিয়েল লাইফ হিরো’ উপাধি পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ছাত্র তানভীর হাসান সৈকত। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এর সাবেক সদস্য ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন ৷

১৯ আগস্ট বিশ্ব মানবতা দিবস উপলক্ষে গত সোমবার মানবতাবাদী ও মানবিক সহায়তার সম্মুখযোদ্ধাদের বিশেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘রিয়েল লাইফ হিরোস’ নামের ক্যাম্পেইন করে ইউএনওসিএইচএ ৷ এর উদ্দেশ্য মানবিক কাজের স্বীকৃতি ও মানুষকে মানবিকতায় উদ্বুদ্ধ করা ৷

স্বীকৃতির শিরোনামে বলা হয়, টেলিভিশন ও সিনেমার গল্পে আমরা অনেক হিরোকে দেখি যারা মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেন কিন্তু তানভীর হাসান সৈকত বাস্তব জীবনে একজন সত্যিকারের মানবিক হিরোর মতো কাজ করেছেন।

ডাকসু সদস্য নির্বাচিত হয়ে গণরুম প্রথা উচ্ছেদ, ক্যাম্পাসে যানবাহনের ভাড়া নির্ধারণ, হল ক্যান্টিনের খাবারের মান বাড়ানো ইত্যাদি নিয়ে সোচ্চার ভূমিকা রেখেছেন তানভীর হাসান সৈকত।

ডাকসু নেতা তানভীর হাসান সৈকতের সাথে ক্যাম্পাসলাইভটুয়েন্টিফোর এর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিনিধি মিজানুর রহমানের সঙ্গে আলাপচারিতায় উঠে এসেছে ঢাকা শহরের ছিন্নমূল মানুষের কিছু কথা।

ক্যাম্পাসলাইভ : জাতিসংঘের 'রিয়েল লাইফ হিরো' স্বীকৃতি পেয়ে আপনার অনুভূতি কী?
সৈকত : আমি করোনাকালে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি আমার বিবেকবোধ থেকে। মানুষের জন্য কাজ করে আমি যে আত্মতৃপ্তি পাই সেটাই আসল। কে স্বীকৃতি দিল বা দিল না সেটা কোন মূখ্য বিষয় না। তবে সারা বিশ্বে মানবাধিকারের জন্য কাজ করে যাচ্ছে জাতিসংঘ। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় একটি সংগঠন। ফলে এই প্রতিষ্টানের স্বীকৃতি পেয়ে নিজেকে সত্যি গর্বিত মনে হচ্ছে। যেহেতু আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব করছি তাই আমার অর্জন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরই অর্জন কারণ তাদের প্রতিনিধি হয়ে কাজ টা করতে পেরেছি।

ক্যাম্পাসলাইভ : মানব সেবামূলক কাজে কবে থেকে আপনার আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে? এক্ষেত্রে আপনার আর্দশের ব্যক্তি কে?

সৈকত : আমি মনে করি সেবা করার মানসিকতা টা একটা রক্তের ব্যাপার। জন্মগতভাবে সেবা করার একটা তাড়না থাকে। আমি ছোটবেলা থেকে যেভাবে পেরেছি মানুষের ও শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। তবে এর আগে এইরকম বড় পরিসরে মানুষের পাশে দাড়ানোর সুযোগ হইনি।

ক্যাম্পাসলাইভ : সেবামূলক কাজে আপনার আর্দশের ব্যক্তি কে?

সৈকত : আমি ছোট বেলা থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ধারণ করেই বড় হয়েছি। তিনি নিজের সারাটি জীবন দেশ ও দেশের মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছেন। শেষপর্যন্ত দেশের মানুষের হাতেই খুন হয়ে খালি হাতে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। তিনি আমার কাছে একটা আদর্শ এবং সেই আদর্শে উজ্জীবীত আমি।

ক্যাম্পাসলাইভ : এই কাজ করে কতটুকু তৃপ্তি পান?

সৈকত : এটা মূলত ব্যক্তিগত তৃপ্তিবোধের বিষয়। আমি মানুষের জন্য কাজ করতে পারলেই একটা অন্যরকম সুখ অনুভব করি।এই সুখ অনুভব থেকে মূলত আমি কাজ করি। ভবিষ্যতেও আমি এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখবো।

ক্যাম্পাসলাইভ : আপনার আর্থিক যোগানের উৎস কোথায়?

সৈকত : আমি মনে করি কেউ সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করলে টাকার জন্য সেটা থেমে যায় না। সেটা আমি এবার প্রমাণ করেছি। আমি একজন ছাত্র মানুষ। আমার কাছে এতটাকা ছিল না । আমি আমার জমানো তেরো হাজার টাকা দিয়ে কার্যক্রম শুরু করি। পরবর্তী সময়ে আমার এই কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক,, শিক্ষার্থী, সংবাদকর্মী থেকে শুরু করে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ আমাকে আর্থিকভাবে সাহায্য করেছে।

ক্যাম্পাসলাইভ: রাজনীতিতে কখন থেকে যুক্ত হলেন?

সৈকত : রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে পরিবার থেকে মূলত আমি অনুপ্রেরণা পেয়েছি। আমার দাদা পৌর আওয়ামিলীগের প্রতিষ্ঠাকালীন নেতা ছিলেন। স্কুল জীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলাম। আমি পৌর শহিদ স্মৃতি একাডেমি, লক্ষীপুরের স্কুল ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলাম। এরপর ঢাকা সিটি কলেজে অধ্যয়নের সময় হাজারীবাগ থানা ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলাম। মোতাহার হোসেন প্রিন্সের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতির করি। এরপর সাইফুর রহমান সোহাগের সাথে রাজনীতি করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দায়িত্ব পালন করি।

ক্যাম্পাসলাইভ : আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

সৈকত : এখন ছাত্র রাজনীতি করছি। এরপর মূলধারার রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে দেশের মানুষের জন্য কাজ করবো। আসলে দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে শুধু নিজের ইচ্ছা থাকলেই হয়। আমার মূল লক্ষ্য মানুষের জন্য কাজ করা,ইনশাল্লাহ আমি যখনই সুযোগ পাই আমি মানুষের জন্য কাজ করে যাব।

ক্যাম্পাসলাইভ : তরুণদের জন্য আপনার বার্তা কী?

সৈকত : বর্তমান সরকারের যে সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল (এসডিজি) সেটার লক্ষ্যমাত্রা যদি অর্জন করতে হলে তরুণদের সম্পৃক্ততা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেক্ষেত্রে তরুণরা শুধু মাত্র রাজনীতি বিমুখ হয়ে একাডেমিক কার্যক্রমে লিপ্ত থাকলে কখনো সম্ভব না। রাজনীতির গুণগত মানের পরিবর্তন আনতে হলে ভালো শিক্ষার্থীদের রাজনীতিতে আসতে হবে। তাদের রাজনীতি সচেতন হতে হবে।

ক্যাম্পাসলাইভ : ছিন্নমূল ও বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে এমন কী অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন যা আমাদের সকলের জানা জরুরী?

সৈকত : আমাদের ঢাকা শহরে অসংখ্য মানুষ রয়েছে যারা আসলে গৃহহীন। তাদের জীবনই হলো দু'বেলা খাবারের সংগ্রাম। করোনাকালের শুরু থেকে যখন আমরা মানুষের কাছে খাবার দিতে যাই তখন অসংখ্য মানুষকে পেয়েছি যারা শুধু 'খাবার' এই শব্দটা শোনার পর ঘুম থেকে লাফ দিয়ে উঠেছে।

মানুষের খাবারের প্রতি যে আকাঙ্খা সেটা বাস্তবতার মুখোমুখি না হলে বুঝানো যাবে না। মানুষের প্রথম মৌলিক চাহিদা খাদ্য কিন্তু শহরের অসংখ্য মানুষ আছে যাদের এই খাবারের নিশ্চয়তা নাই। আমরা কারওয়ান বাজার থেকে শুরু করে সকল জায়গায় দেখেছি যে খাবারের জন্য মানুষের হাহাকার। একজন অনাহারী মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার পর যে হাসি সেটা কোটি টাকার চেয়েও মূল্যবান।

ক্যাম্পাসলাইভ : ধন্যবাদ আপনাকে।
সৈকত : আপনাকেও ধন্যবাদ।

ঢাকা, ২০ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআইটি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।