কাওরাকান্দি নৌ ঘাটে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়


Published: 2021-04-12 13:27:41 BdST, Updated: 2021-05-11 00:34:41 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ চরম মাত্রায় বেড়ে যাওয়ায় সরকার এক সপ্তাহের লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেয়। যা গত কালকে শেষ হলেও পরিস্থিতি বিবেচনা করে বৃদ্ধি করা হয়। কিন্তু কাঁঠাল বাড়ি ঘাটে লকডাউনের নেই কোনো চিহ্ন মাত্র।

সোমবার (১২এপ্রিল) সরেজমিনে কাঁঠাল বাড়ি কাওরাকান্দি ঘাটে দেখা যায় মালবাহী ট্রাকগুলো স্টান্ড করে রাখা হয়েছে। ঢিলেঢালা লকডাউনের কারনে গ্রামে অবস্থান করা লোকজন ঢাকার উদ্দেশ্য ফেরিঘাটে অপেক্ষমান। লঞ্চ বন্ধ থাকায় ফেরিতে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় পরিলক্ষিত হয়। তিল পরিমাণ জায়গা নেই ফেরিতে।

মাহফুজ (১৪) নামের এক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সরকার লকডাউন দিছে যাতে মানুষ ঘরে অবস্থান করে। কিন্তু এখানে এসে দেখলাম যে কেউ তা মানছেন না। বরং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা তো দূরের কথা কে কার আগে ফেরির উঠবে তা নিয়ে ব্যস্ত। এরকম লকডাউন দেওয়া আর না দেওয়া সমান। এতে সাধারণ জনগণ আরও সমস্যায় পড়েন।

যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়, বালাই নেই স্বাস্থ্যবিধির

 

আব্দুস সামাদ (৪৫) নামের এক ব্যক্তি ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, গত সপ্তাহে লকডাউন ঘোষণার পর বাড়িতে চলে আসছিলাম।কারখানা থেকে এখন মালিক যেতে বলতেছে তাই সত বাধা পেরিয়ে হলেও তো যেতে হয়। যদিও শুনতেছি ১৪ তারিখ থেকে শুনলাম সরকার কড়াকড়ি লকডাউনের ঘোষণা দিছে কিন্তু এখানে এসে সাধারণ মানুষের ঢাকায় যাওয়ার যে ভিড় দেখতেছি তাতে মনে হয় মানুষ লকডাউনের কিংবা করোনা নয় জীবিকা নিয়ে বেশি চিন্তিত।

দাদন (৬০) নামের এক কাপড় ব্যবসায়ী ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন গত বছর প্রায় ৬ মাস ঠিক মতো দোকান খুলতে পারি নাই। এ বছরে ও গত সপ্তাহে থেকে তাই শুরু হচ্ছে। সামনে রমজান মাস দোকান ভাড়া মাস প্রতি ২৫০০০ টাকা আনুষঙ্গিক খরচ সহ মাসে লাখ টাকা গুনতে হয়।এভাবে লকডাউন চলতে থাকলে দোকান বন্ধ রাখতে হলে আমাদের পথে বসতে হবে। সময়ে সময়ে লকডাউন নয় বরং সরকারের দীর্ঘ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা উচিত।

লঞ্চে গাদাগাদি করে যাত্রী পরিবহন

 

ফেরির একজন স্টাফের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে ফেরিতে যাত্রী ও মালবাহী গাড়ির চাপ বেশি। ফেরিতে আমরা যথাযথ সামাজিক দূরত্ব স্বাস্থ্য সচেতনতা ও নিয়মিত হাত দোয়ার জন্য পানির ব্যবস্থা করে রাখলেও জনসাধারণের মধ্যে নেই কোনো সাবধানতা। এত সংখ্যক মানুষের নিয়ন্ত্রণ করা আমাদের একার পক্ষে সম্ভব নয় বরং উচিত সকলের নিজ নিজ সচেতনতা ও স্বদিচ্ছা।

দায়িত্বরত মাদারীপুর জেলা পুলিশের একজন কর্মকতা ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, আমরা যথাসম্ভব চেষ্টা করছি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে। আসলে জনগণের উচিত সাবধানতা অবলম্বন করা। সরকার ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সকল কমান্ড নিয়ে আমরা সবসময় নৌ ঘাটে মনিটরিং এর ব্যবস্থা করে যাচ্ছি।

উল্লেখ্য যে, গত কয়েকদিন লকডাউনে গণপরিবহন তথা, লঞ্চ বন্ধ থাকায় লোকজন বিকল্প হিসেবে ফেরি, ট্রলার, স্পিডবোট করে চলাচল করছে।

ঢাকা, ১২ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//আইএইচ//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।