শিক্ষা, জ্ঞান ও বিজ্ঞান


Published: 2020-11-28 16:50:33 BdST, Updated: 2021-01-20 01:04:11 BdST

প্রফেসর মোঃ আবদুস সালাম: শিক্ষা একটি মানসিক প্রক্রিয়া, যার মধ্য দিয়ে মানুষের অন্তনির্হিত শক্তি ও সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত ও প্রস্ফুটিত হয় এবং জ্ঞান অর্জন ও জ্ঞান সৃষ্টির পথ উন্মুক্ত হয়। এই জ্ঞানের মাধ্যমে ব্যক্তি তার সমাজকেও সমৃদ্ধ করে। শিক্ষা ব্যক্তি ও সমষ্টির জ্ঞান, সৃজনশীলতা, সুকুমার বৃত্তি, কর্মদক্ষতা, চরিত্র ও মানসিক শক্তির বিকাশ ঘটায়। দুটি দৃষ্টিকোন থেকে শিক্ষার উদ্দেশ্যকে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। একটি ব্যক্তিক, অপরটি সমষ্টিক বা রাষ্ট্রীক দৃষ্টি ভঙ্গি।

ব্যক্তিক দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়টি একটি পুরাতন প্রবাদ বাক্য- “লেখা পড়া করে যেই গাড়ি ঘোড়া চড়ে সেই”- দিয়েই সঠিক ভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। কেননা ঐ প্রবাদ বাক্যের মর্মার্থ আমাদের দেশের মানুষের মানসভূমে গভীর ভাবে শিকড় বিস্তৃত করে আছে। ঔপনিবেশিক শাসনে সুদীর্ঘকাল কাটানোর ফলে আমরা আত্মকেন্দ্রিক ও ব্যক্তি উন্নয়নকে মুখ্য ভেবে এসেছি এবং ব্যতিক্রমবাদে আমরা সবাই একইভাবে চিন্তা করি।

পরার্থপরতা বা Altruism আমাদের ব্যক্তি অভিধানে নেই। অথচ বাস্তব জীবনে আমরা অন্যের সহযোগিতা ছাড়া এক পা-ও চলতে পারি না। মেয়েদের ক্ষেত্রে অনেকের চিন্তা তো আরও সংকীর্ণ ও আত্মকেন্দ্রিক। অধিকাংশ বাবা তাদের মেয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠান একটা শিক্ষিত ও ভাল অর্থ উপার্জকারী পাত্র শিকারের জন্য। ধনাঢ্য পিতামাতার মেয়েদের ক্ষেত্রে এটি বেশী প্রযোজ্য। তবে অবশ্যই ব্যতিক্রম আছে। পারিবারিক সংস্কৃতির উপর এটি নির্ভর করে।

কিন্তু ধনী-গরীব নির্বিশেষে এই সংর্কীণ চিন্তা পরিহার করার সময় এসেছে। নারীরা এখন “মহলের” অলঙ্কার ‘মহিলা’ নয়; নারীরা এখন মানুষ। উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশের সকল নারীকে নিজ শক্তিতেই জ্বলে উঠতে হবে, নিজের মেধা ও প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়েই যেমন নিজের জীবনের উন্নতি, তেমনি সমাজ ও জাতীয় জীবনে অবদান রাখতে হবে।

“Education is the method of civilization” “শিক্ষাই সভ্যতার বাহন।” সভ্যতার অগ্রসরতা মানেই মানব সমাজের বিকশিত বিভায় চারিদিকে আলোকিত হওয়া। সমাজ ‘নারী ও পুরুষ’ নামক দু’টি চাকার গাড়ী। চাকা দু’টি সমানতালে না চললে সভ্যতা সামনের দিকে না এগিয়ে একই জায়গায় একটি দুষ্ট চক্রের (Vicious Circle) মধ্যে ঘুরতে থাকবে।

মধ্যযুগীয় মৌলবাদী উৎপাত এখনও আমাদের সমাজকে সেই দুষ্ট চক্রেই ঘুরাপাক খাওয়ানোর প্রচেষ্টায় সর্বদাই সর্বশক্তি ব্যয় করে যাচ্ছে। জঙ্গীবাদের ভয়ানক প্রভাব থেকে সমাজকে মুক্ত ক’রে না রাখতে পারলে, আমাদের সমস্ত অর্জন ধুলিস্যাৎ হয়ে গিয়ে আমরা ভয়াবহ অন্ধকারে নিপতিত হবো।

আধুনিক যুগে প্রতি রাষ্ট্রের একটি শিক্ষানীতি থাকে এবং সে অনুসারে শিক্ষা পদ্ধতিকে সাজানো হয়। আমাদের দেশেও একাধিক শিক্ষানীতি প্রণীত হয়েছে। কিন্তু কোনটিই পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়িত হয়নি।

অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে ২০১১ সালে সর্ব সম্মত একটি শিক্ষানীতি গৃহীত হয়েছে। এই শিক্ষানীতি অনুসারে- বাংলাদেশের শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অতি সংক্ষেপ হলো:

“ব্যক্তিগত ও জাতীয় নৈতিক, মানবিক, সাংস্কৃতিক, বিজ্ঞান ভিত্তিক ও সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা কল্পে শিক্ষার্থীদের মননে, কর্মে ব্যবহারিক জীবনে উদ্দীপন সৃষ্টি করা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করা এবং জাতীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারা বিকশিত ক’রে প্রজন্ম পরস্পরায় সঞ্চালনের ব্যবস্থা করা। জাতি-ধর্ম-গোত্র নির্বিশেষে আর্থ সামাজিক শ্রেণী বৈষম্য দূর করা।

এছাড়া অসম্প্রদায়িক, বিশ্বভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য ও মানুষে মানুষে সহমর্মিতা গড়ে তোলা এবং মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে তোলা।” বর্তমান কালে গোটা বিশ্ব তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সহায়তায় ডিজিটাল বিপ্লবের জোয়ারে ভেসে জ্ঞানভিত্তিক সমাজে প্রবেশ করেছে। আমাদের আর পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই। “ফল ভিত্তিক শিক্ষা” থেকে আমাদের “শিখণ ভিত্তিক শিক্ষা” পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে। ফল ভিত্তিক শিক্ষায় জ্ঞান অর্জন নিশ্চিত হয় না; কিন্তু শিখণ ভিত্তিক শিক্ষায় জ্ঞান অর্জন নিশ্চিত হয় এবং মান সম্মত শিক্ষা লাভ হয়।

শিক্ষার্থীর শিখণ ভিত্তিক শিক্ষা পদ্ধতিতে দেশ প্রেম ও নৈতিক মূল্যবোধ শিখতে পারে। মানুষ ছাড়া আমাদের দেশে তেমন কোন বিশেষ সম্পদ নেই। কাজেই শিক্ষার মাধ্যমেই আমাদের দেশের মানুষকে মানব সম্পদে পরিণত হতে হবে।

বিশ্বের অনেক দেশ আছে, যেখানে প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য আছে। কিন্তু তারা শিক্ষার মাধ্যমে নিজেদের মানব সম্পদ হিসেবে তৈরী করতে না পারায় উন্নত দেশ হতে পারেনি। কঙ্গোঁয় সোনার খনি আছে, নাইজেরিয়া খনিজ তেল সমৃদ্ধ দেশ।

সৌদি আরব বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ। এদের কোন কোনটি ধনী দেশ হলেও উন্নত দেশ নয়। আমরা জানি, শিক্ষা গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জ্ঞান অর্জন ও জ্ঞান সৃষ্টির পথ উন্মুক্ত হয়। তাহলে প্রশ্ন আসতে পারে, জ্ঞান কী ? আপত দৃষ্টিতে এক মনে হলেও শিক্ষা ও জ্ঞান এক নয়।

শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আমরা যে তথ্য, বোধশক্তি ও দক্ষতা অর্জন করি তাকেই আমরা জ্ঞান বলি। “Knowledge is the information , understanding and skills that we gain through education and experience.”

শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে জ্ঞান অর্জিত হয়।শিক্ষিত না হলেও অভিজ্ঞতা ও সঞ্চারিত ঐতিহ্য পরস্পরার মাধ্যমেও মানুষ জ্ঞানী হতে পারেন। শিক্ষা তার জ্ঞানকে আরও বিকশিত, পরিশীলিত, পরিমার্জিত করতে পারে। শুধুমাত্র সার্টিফিকেট অর্জনের জন্য পুথিগত বিদ্যা কপচিয়ে যারা শিক্ষিত হন তাদের অনেকেই জ্ঞানী ব্যক্তি হিসেবে পরিগণিত হতে পারেন না। বিজ্ঞানে সর্বোচ্চ ডিগ্রীধারী কোন ব্যক্তির মধ্যে যখন অপবৈজ্ঞানিক কুসংস্কার দেখা যায়, তখন তিনি বৈজ্ঞানিক জ্ঞান অর্জন করেছেন- বলা যাবে না।

দার্শনিক সক্রেটিসের মতে- “Knowledge is Virtue.” অর্থাৎ সদগুণই জ্ঞান। আর স্পষ্ট করে বলা যায়- “নৈতিক উৎকর্ষই জ্ঞান।” মিথ্যার অপনোদন ও সত্যের বিকাশই হলো প্রকৃত জ্ঞান। পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা, নিরীক্ষা এবং যুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে মানুষ পারস্পারিক চিন্তার বিনিময় ঘটিয়েই জ্ঞান অর্জন করে।

সমাজ ও সভ্যতার ইতিহাস পর্যালোচনায় আমরা দেখতে পাই, সমাজে পুঞ্জিভূত অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রথমে যুক্তির বিদ্রোহ ঘটেছে এবং এই যুক্তিক্ষমতা দিয়ে প্রাচীন বিশ্বাসের ভিতকে নাড়িয়ে দিয়েছে ; সমাজ মনস্কতায় একটি দায়বদ্ধতার বাঁধন সৃষ্টি হয়েছে। তখনই পরিবর্তন এসেছে। সংকীর্ণ ধর্মীয় মৌলবাদ সেই যুক্তির বিদ্রোহকে গলাটিপে এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার অঙ্গীকরকে নস্যাৎ করে সর্ব কিছুকে অন্ধ বিশ্বাসের দূর্গের মধ্যে আবদ্ধ করতে চায়। অনেক ক্ষেত্রে সফল হয় এবং হচ্ছে।

‘নাস্তিক’ শব্দ শুনলেই আমরা অনেকেই আঁতকে উঠি। কোন কোন ক্ষেত্রে এটি গালিও বটে। তবে জেনে রাখা ভাল, প্রাচীন ধর্ম মতে যে ব্যক্তি ঈশ্বরে বিশ্বাস করে না- সে নাস্তিক। কিন্তু বর্তমান ধর্ম মতে- যে নিজেকে বিশ্বাস করে না সে বড় নাস্তিক।

জ্ঞানের স্তর তিনটি যথা:-
(১) যে ব্যক্তি জ্ঞানের প্রথম স্তরে প্রবেশ করে, সে অহংকারী হয়ে উঠে, যেন সে সব কিছুই জেনে ফেলেছে।
(২) জ্ঞানের দ্বিতীয় স্তরে যে ব্যক্তি প্রবেশ করে, সে বিনয়ী হয়।
(৩) আর জ্ঞানের তৃতীয় স্তরে যে ব্যক্তি প্রবেশ করে, সে নিজের অজ্ঞতা উপলব্ধি করতে পারে। আমরা সবাই আত্মজিজ্ঞাসায় লিপ্ত হলে নিজের জ্ঞানের পরিধি সম্পর্কে উপলব্ধি করতে পারবো।

বিজ্ঞান অর্থ বিশেষ জ্ঞান বুঝালেও প্রকৃত পক্ষে,পরীক্ষা, নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞানকে আমরা বিজ্ঞান বলি। অর্থাৎ বিজ্ঞান হচ্ছে- গোছানো জ্ঞান, একটি পদ্ধতি, জ্ঞানের ক্রমসঞ্চিত রূপ, উৎপাদনের হাতিয়ার, সে হাতিয়ার উন্নয়নের হাতিয়ার এবং সর্বোপরি মানুষের বিশ্বাস ও মানস চেতনার উপর প্রভাব সৃষ্টিকারী সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র।

শিক্ষার ক্ষেত্রে, দীর্ঘকাল বিজ্ঞান কোন আলাদা শাখা ছিল না। ধর্ম ও দর্শনের শিক্ষার মধ্যেই বিজ্ঞান শিক্ষা একটি অংশ ছিলো। জ্ঞানের পরিধি বিস্তৃতির ফলে কালক্রমে, কলা, বাণিজ্য, বিজ্ঞান উচ্চতর স্তরে এসে ভিন্ন ভিন্ন জায়গা দখল করেছে। সভ্যতার সূচনালগ্নে রান্না-বান্নার মতো খাবার তৈরীর কৌশল, খুব সরল যন্ত্রপাতি তৈরীর জন্য কামার, কুমারের কিছু প্রযুক্তি ভিত্তিক কাজ ছিলো। এমন কি বিজ্ঞানের কৌশল কাজে লাগিয়ে ম্যাজিসিয়নরা মানুষকে বিমুগ্ধ করে জীবন ধারণ করেছে।

বিজ্ঞান সব সময় পরিবর্তনশীল। পরিবর্তনশীলতায় বিশ্বাস বিজ্ঞান মনস্কতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট। সমাজ, সভ্যতা, সংস্কৃতি, ধর্ম- সব কিছুই পরিবর্তনশীল। বিজ্ঞান সত্য সন্ধানী। বিজ্ঞানের দর্শন- যুক্তিবাদের দর্শন। বিজ্ঞানের অবদানে মানুষের ইহজাগতিক জীবন উতরোত্তর সমৃদ্ধিতে ভরে উঠেছে এবং আরও উঠবে। বিজ্ঞানের বিজয় যুক্তিবাদের জয় এবং যুক্তিহীনতার পরাজয়। বিজ্ঞানের উৎকর্ষতা যতই বৃদ্ধি পেয়েছে, মানুষ প্রাকৃতিকে ততই জয় করেছে।।

বিজ্ঞানের অবদানে চারিদিকে অসংখ্য পরিবর্তন আমরা স্বচক্ষে দেখছি; কিন্তু পরিতাপের বিষয়- অন্তরে আমরা পরিবর্তন বিরোধী একটি চেতনা লালন করি। বিজ্ঞানের জয়-জয়াকারের মধ্যে বাস ক’রে আজও আমরা অনেক ক্ষেত্রে মানসিকভাবে প্রাচীন ও মধ্যযুগে বাস করছি। বিজ্ঞানে উচ্চ ডিগ্রীধারী অনেকেই আমরা কুসংস্কার ও ধর্মান্ধতায় এত নিমজ্জিত যে, অশিক্ষিত কাঠমোল্লা, পীর-ফকির, দরবেশের কেরামতিতে বিশ্বাস করি। ভূত, প্রেত, জ্বীন- ইত্যাকার অলৌকিক সত্তায় বিশ্বাস ক’রে আধুনিক চিকিৎসার আশ্রয় না নিয়ে জ্বীনের কবিরাজ নামক প্রতারকের খপ্পরে পড়ি।

অস্তিত্বহীন অলৌকিক ও অতিমানবিক শক্তিকে খুশী রাখার জন্য আমরা নানাবিধ আচার অনুষ্ঠান করি। আমাদের সমাজে এখনও গণকঠাকুর, হস্তরেখাবিদ এবং জ্যেতিষবিদদের রমরমা ব্যবসা।

প্রচলিত এসব অপসংস্কৃতির মূল কারণ- প্রথমত: আমাদের বিজ্ঞান শিক্ষার পদ্ধতিতে ত্রুটি। দ্বিতীয়ত: বিজ্ঞান শিক্ষার জীবন ও সমাজ বিচ্ছিন্নতা। আমাদের বিজ্ঞান শিক্ষা যান্ত্রিকতায় ভরা। বিজ্ঞানের কোন একটি বিষয় পঠন পাঠনের সময় সে বিষয়ের যে একটি ইতিহাস ও দর্শন আছে, তা আমরা আলোচনা করি না। ফলে একটি যান্ত্রিক মনোভাবের জন্ম দেয়। ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় আমরা অতীত থেকে বর্তমানে এসে পৌঁছেছি এবং এই বর্তমান থেকে ভবিষ্যতের এক নতুন সমাজে পৌঁছোবো।

বিখ্যাত বিজ্ঞানের ইতিহাসবিদ জর্জ আলফ্রেড সার্টন বলেছেন- “আমাদের বর্তমান- সকল অতীত ও সকল ভবিষ্যতে পরিব্যাপ্ত। আমরা যারা সবকিছু শাশ্বত বলে ভাবতে অভ্যস্ত- তাদের জন্য অতীত নেই, কোন ভবিষ্যত নেই- আছে কেবল অনন্ত বর্তমান।” ভাবনার শাশ্বততা সম্পূর্ণ বিজ্ঞান বিরোধী।

এই বিজ্ঞান বিরোধী অসুখে আমাদের দেশের অশিক্ষিত তো বটেই শিক্ষিত, এমন কি, বিজ্ঞানে শিক্ষিত অনেক ব্যক্তি বেশী করে ভোগেন।

বিংশ শতাব্দির বিজ্ঞান প্রমান করেছে সমাজও সভ্যতা পরিবর্তনশীল। এক বিংশ শতাব্দিতে পা দিয়ে বুঝতে পারছি- আমাদের চিন্তার কাঠামোটিও পরিবর্তনশীল। তবে আমাদের দেশের বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা আজও এটি আত্মস্থ করতে পারেনি। যুক্তিহীন ঐতিহ্যবাহী চিন্তা তাদের মনকে দখল করে রেখেছে। আমাদের দেশের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে, গবেষণা কেন্দ্র আছে। অনেক যুগান্তকারী আবিষ্কারও হচ্ছে। কিন্তু বিজ্ঞান সংস্কৃতি নেই। বিজ্ঞান নিজে ধর্ম-বর্ণ-স্থান-কাল-পাত্র নিরপেক্ষ।

কিন্তু বিজ্ঞান চর্চা সে রকম নিরপেক্ষ নয়। মধ্য যুগে বিজ্ঞানের প্রধান প্রতিপক্ষ ছিলো- ধর্ম, ঐতিহ্যিক চিন্তা ও কুসংস্কার। ইউরোপ সে প্রবল প্রতিপক্ষকে পরাজিত করেই এগিয়েছিল। আমাদের দেশে বিজ্ঞানের প্রতিপক্ষ এখনও প্রবল।

আমাদের দেশে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ভোগ বিলাসের উপকরণ যোগান দিচ্ছে। কিন্তু নেই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর সংস্কৃতি। তাই তো আমরা ঠিক গতিতে এগোতে পারছিনা।

বিজ্ঞান আজ আমাদের জীবনের সর্বক্ষেত্রে বিরাজমান। বিদ্যুৎ চলে গেলে- আমাদের জীবন স্তব্ধ হয়ে যায়। মোবাইলটা বিকল হলে- চোখে অন্ধকার দেখি। যান্ত্রিক যানবাহন না চললে আমাদের সবকিছু থেমে যায়। সব কিছু যখন ঠিক মতো চলে তখন আমরা বিজ্ঞানের অবদানকে উপলব্ধি করতে পারি না, যেমন আমরা বাতাসের উপস্থিতি টের পাইনা।

মাছ কে ডাঙ্গাঁয় তুললে, যেমন পানির অভাব বোধ করে, তেমনি মানুষকে নির্জন কোন জঙ্গঁলে ফেলে দিয়ে এলে বিজ্ঞানের অভাব টের পাবে। বিজ্ঞান শিক্ষা জীবনের জন্য যেমন অপরিহার্য, তেমনি বিজ্ঞান মনষ্ক হওয়া অত্যাবশক। পশ্চাদ্গামীতা ও কুসংস্কার থেকে মুক্তি পাবার একমাত্র পথ বিজ্ঞানকে সমাজ ও জীবন সংলগ্ন করে দেখা। বিজ্ঞানের যে দর্শন আছে তাকে উপলব্ধি করা।

লেখকঃ
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও সাবেক রেজিস্ট্রার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

ঢাকা, ২৮ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআইটি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।