পরীমণির নেপথ্যের কথা! অজানা গল্প!


Published: 2021-08-06 05:48:59 BdST, Updated: 2021-09-27 16:24:51 BdST

শোবিজ লাইভ:আলোচনা আর সমালোচনা যেন শেষ নেই। চোখ খুললেই মডেল ও অভিনেত্রী পরীমণির গল্প আর কেচ্ছা। কে না জানে তার নাম। নামের বাহরি তাকে একধাপ এগিয়ে দিয়েছে। তবে কে এই পরীমণি- কিভাবে উঠে এলেন? এর নেপথ্যে রয়েছে হাজারো অজানা কথা। অসংখ্য চরিত্র। অসংখ্য সেলিব্রেটিদের ছায়া। প্রথমে মাথায় হাত ছুয়ে আদর, পরে কত কি?, নাম অজানা তথ্য-উপাত্ত। বর্তমানের সমালোচিত নায়িকা পরীমণি উঠে আসার গল্প কী? একে একে বের হয়ে আসছে তার জীবনের নানা কাহিনী। কে এই পরীমনি এবং কিভাবে শোবিজে তার আগমণ।

অল্প সময়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এলেন। ফ্লপ সিনেমার নায়িকা হয়েও কিভাবে কোটি টাকার মালিক হলেন? এসব প্রশ্ন এখন চলচ্চিত্রাঙ্গণের লোকজনের মধ্যে আলোচিত হচ্ছে। ‘ডানাকাটা পরী’র পিছে রয়েছে শামসুন্নাহার স্মৃতির গল্প। ১৯৯২ সালে নড়াইলে জন্ম নেওয়া স্মৃতি খুব ছোটবেলায় মা এবং পরে বাবাকে হারিয়ে বড় হন পিরোজপুরে নানার কাছে। সেখান থেকেই মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক শেষে ২০১১ সালে আসেন ঢাকায়।

Caption

 

পরী চলে এলেন স্বপ্নের রাজধানীতে। নাচ শেখেন। পরে মডেলিং থেকে ছোট পর্দায় আবির্ভাব, টিভি নাটকে অভিনয়। শামসুন্নাহার নাম বদলে হয়ে ওঠেন পরী মণি। এরপর রূপালী পর্দায় আসা। শামসুন্নাহার স্মৃতি হয়ে উঠেন পরী মণি। নাম বদলেও রয়েছে নানান কথা। তার বাহারী নাচ দেখে এক সময়কার একজন আলোচিত নায়ক তাকে প্রথম ডাকে আয় পরী.....আর পরীমণি...................আমাদের বেশ আনন্দ দিয়েছিস......আরো কত কিছু..।

পাশে দাঁড়াননি তার ‘মাদার ফিগার’ চয়নিকা চৌধুরী

প্রখ্যাত নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরীকে নিজের ‘মা’ বলে সম্বোধন করে থাকেন দেশের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণি। বিভিন্ন সময় তাদের দু'জনকে একসঙ্গে দেখাও গেছে। পরীমণির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সবসময় পাশে ছিলেন এই নারী নির্মাতা। কিন্তু গতকাল বুধবার পরীমণির বাসায় র‌্যাবের অভিযান ও তাকে আটকের সময় পাশে ছিলেন না চয়নিকা চৌধুরী।

গত মাসে উত্তরা বোটক্লাব কাণ্ডে সর্বদা পাশে থেকে পরীমণিকে সাহস জুগিয়েছিলেন তার ‘মাদার ফিগার’ খ্যাত চয়নিকা চৌধুরী। কিন্তু নিজের সবচেয়ে সংকটময় মুহূর্তে তাকে পাশে পাননি এই চিত্রনায়িকা। প্রায় চার ঘণ্টা অভিযান চালানোর পর পরীমণিকে আটক করে নিয়ে যায় র‌্যাব। ফেসবুক লাইভে এসে সাহায্যের আবেদন করলেও কেউ সাড়া দেয়নি।

সংবাদমাধ্যমকে চয়নিকা চৌধুরী বলেন, টেলিভিশনে তিনি লাইভের ঘটনাটি দেখেছেন। তবে পরীমণির বাসায় যাননি। এটা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপার এবং তারা যেটা ভালো বুঝবেন সেটাই করবেন।

পাশে দাঁড়াননি তার ‘মাদার ফিগার’ চয়নিকা চৌধুরী

 

গোয়েন্দা সূত্রে জানাগেছে, রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকায় এতদিন পরীমণিকে নিয়ে কেউ তেমন উচ্চবাচ্য করেনি। তার অতীত ও বর্তমানের নানা কাহিনী জানা থাকলেও কেউ মুখ খোলেনি। তবে তাদের সবার এক কথা, পরীমণি যতটা না নায়িকা হতে পেরেছেন, তার চেয়ে বেশি প্রভাবশালী মহলে বিচরণ করতে সক্ষম হয়েছেন। তাদের কথা অনুযায়ী, আজকের পরীমনি হয়ে উঠার পেছনের নানা চমকপ্রদ ঘটনা এখন প্রকাশিত হচ্ছে। কিউ জানবে আর কেউ জানবে না সেই অন্ধকারের নানান কাহিনী।

কে তার বাবা। কিবা তার পরিচয়। এই বিষয়টিও এখন চলে আসে সামনে। পরীমণির বাবার ছিলেন রিকন্ডিশন গাড়ির ব্যবসায়ী। তার বাড়ি যশোর হলেও ব্যবসায়িক কারণে তাকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাসাভাড়া করে বসবাস করতে হতো। ২০০৭-০৮ সালের দিকে পরীমনির মা অগুনে দ্বগ্ধ হয়ে মারা যান। তার মৃত্যুর বিষয়টি অনেকটা রহস্যাবৃত। এরপর থেকে পরীমণিকে তার বাবা সঙ্গে রাখতেন। চোখে চোখে রাখতেন বলেও জানা যায়। ২০১২ সালের ২১ জানুয়ারি সিলেটে তার বাবার গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায় বলে পরীমণির ঘনিষ্ট সূত্রে জানা যায়। অনেকেই বলাবলি করেন সেই পাপের কারণেই তারও মৃত্যু হলে অন্যের হাতে।

কিভাবে উঠে এলেন পরী?

পরীমনি উঠে আসার গল্প

 

তার উঠে আসার গল্পটা বেশ মজার। এর নেপথ্যে রয়েছে নানান ঘটনা। সুন্দরী হলে যা হয় তার বেলাতেও ব্যত্যয় ঘটেনি। ২০১১ সালের দিকে পরীমণিকে নিয়ে সাভারের ব্যাংক টাউনে এক সাবেক নামকরা পুরুষ মডেলের বাসায় ভাড়া থাকতেন। এ বাড়ির দোতালায় তারা বসবাস করতেন। এ সময় পরীমণি সাভার কলেজেও ভর্তি হয়েছিলেন। তবে নিয়মিত ক্লাস করতেন না। সাভারে তার এক খালার বাসায় থাকতেন।

জানা যায় এ সময় উক্ত মডেল পরীমনিকে মিডিয়ায় কাজ করার সুযোগ করে দেয়ার জন্য চেষ্টা চালান। ২০১৪ সালে এক নাট্যপরিচালকের একটি নাটকে অভিনয়ের সুযোগ করে দেয়া দেন। নাটকটি এসএ টিভিতে প্রচার হয়েছিল। বিষয়টি বেশ জটিল না হলেও বেশ মাজাদার। সেই মডেল পরীমণিকে নিয়ে যান তার কব্জায়। তার কথা মতো চলতো পরীমণি। তখনও পরীমণি নামটি প্রচলন হয়নি। আগের নামের বাহার কাটেনি।

বলা হয়ে থাকে সেই থেকে পরী মিডিয়ার নানা প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় চলে যান। নাটক থেকে চলচ্চিত্রে গিয়ে প্রভাবশালীদের ছায়ায় থেকে একের পর এক সিনেমা শুরু করেন। কোনো নতুন নায়িকার পক্ষে একসঙ্গে বিশ-পঁচিশটি সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হওয়া নিয়ে তখন চলচ্চিত্রাঙ্গণে বেশ তোলপাড় শুরু হয়। যদিও এসব চলচ্চিত্রের সিংহভাগই নির্মিত কিংবা মুক্তি পায়নি। এ পর্যন্ত পরীমনি অভিনীত চার-পাঁচটির বেশি সিনেমা মুক্তি পায়নি। মুক্তিপ্রাপ্ত এসব সিনেমা ব্যবসা সফল হয়নি। তারপরও পরীমনি ব্যাপক প্রভাবশালী হয়ে উঠেন।

দিনের শেষে একি হলো... হিসাবটা এমনই হয়....

 

পরীমণি চলচ্চিত্রের চালচিত্রে নাম যতোটা আলোকিত করতে পেরেছেন ততটা আলোচিত নয় পরীমণির ক্যারিয়ার। নামেই যেন সব। আট বছরে অভিনয় করেছেন মাত্র ২৪টি ছবিতে। মুক্তির অপেক্ষায় আছে ছয় সিনেমা। রুপালি পর্দায় তিনটি ছবির চরিত্র আলোচনায় এলেও বাকিটা ছিল ধূলি ঢাকা ধূসর। প্রযোজকরা তাঁর পেছনে ২০ কোটি টাকা ব্যয় করলেও যার বিপরীতে তাদের আয় মাত্র পাঁচ ভাগের এক ভাগ।

বক্স অফিসে আলোচনায় মাত্র দুই সিনেমা ‘আরো ভালোবাসবো তোমায়’ এবং ‘বিশ্বসুন্দরী’। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে পরীমণির প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠা এবং সেগুলো ভেঙে যাওয়ার খবর বের হয়। সিনেমার চেয়েও অন্যজগতেই যেন বেশি আলোচনার ঝড় তুললেন এই রুপালি ঢাকাই সিনেমার নায়িকা।

‘পরীমণির বাসায় অনেকে যাতায়াত করতেন’ তার বাসায় রাজধানীর অনেক দামীদামি ঘরের ধনীর দুলালেরা নিয়মিত আনাগোনা করতো। বিশেষ করে তরুণ ব্যবসায়ীদের একটি বড় গ্রুপ নিয়মিত আসা যাওয়া ছিলো তার বাসায়। অনেকেই নিয়ে যেতেন নামী দামি উপঢৌকন। এদিকে তার বাসা মিলেছে আরো বিভিন্ন জিনষি। চিত্রনায়িকা পরীমণির বাসায় মিলেছে মিনিবার। সেখানে ডিজে পার্টি হতো। অনেকে সেখানে যাতায়াত করতেন। পরী মণিকে মাদক সরবরাহ করতেন প্রযোজক ও অভিনেতা মো. নজরুল ইসলাম রাজ।

পরীমণি রাজধানীর গুলশানসহ বিভিন্ন এলাকায় ডিজে পার্টির আয়োজন করতো, চলতো অবৈধ কর্মকাণ্ড 

 

রাজধানীর বনানী থেকে মাদকসহ আটক ঢাকাই চলচ্চিত্রের নায়িকা পরীমণিকে গ্রেপ্তারের পর ৫ আগস্ট বিকাল ৪টা ৪৫ মিনিটি র‌্যাবের সদরদপ্তরে সংবাদ সম্মেলন করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। সংবাদ সম্মেলনে কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, একটি সিন্ডিকেট রাজধানীর গুলশানসহ বিভিন্ন এলাকায় ডিজে পার্টির আয়োজন করতো।

এসব পার্টিতে অনেক অবৈধ কর্মকাণ্ড তৈরি হতো। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার করতো। নজরুল রাজের ‘রাজ মাল্টিমিডিয়া’র অফিসে বিভিন্ন অপকর্ম হতো। তিনি কয়েকজন অবৈধ অর্থের জোগানদাতার নাম জানিয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। বিভিন্ন নাম উঠে এসেছে। সেগুলো আমরা যাচাই করছি। তদন্তের স্বার্থে এসব এখনই বলছি না। কারা আসতো-যেতো সেগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না যাচাই-বাছাই করছি। তদন্তের স্বার্থে এখন বলছি না।

০৬ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিআইটি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।