Azhar Mahmud Azhar Mahmud
teletalk.com.bd
thecitybank.com
livecampus24@gmail.com ঢাকা | রবিবার, ১৯শে মে ২০২৪, ৫ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
teletalk.com.bd
thecitybank.com

শিক্ষক আসেনি, স্কুলে এসে ফিরে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত: ২০ ডিসেম্বার ২০২২, ০৭:০২

পশ্চিম বালাগ্রাম কালীর ডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

নীলফামারী লাইভ: নির্ধারিত সময়ে আসেন না কোনো শিক্ষক। অধিকাংশ সময় স্কুলের শ্রেণি কক্ষে তালা থাকায় ফিরে যায় শিক্ষার্থীরা। এমন ঘটেছে নীলফামারীর জলঢাকার পশ্চিম বালাগ্রাম কালীর ডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এতে তুলনামূলকভাবে কমেছে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি। শিক্ষকদের অবহেলায় বিদ্যালয়টিতে কমেছে শিক্ষার হার, অভিযোগ স্থানীয়দের।

সোমবার (১৯ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, তখনও কোনো শিক্ষক স্কুলে আসেনি। সেখানে ২০ মিনিট অপেক্ষার পর কয়েকজন শিক্ষার্থী আসলেও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে ফিরে যায়। এরপর ৯টা ৫১ মিনিটে আসেন বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক অনিল চন্দ্র রায়। এর কয়েক মিনিট পর প্রায় ১০টার দিকে বিদ্যালয়ে আসেন দুজন সহকারী শিক্ষক। প্রতিষ্ঠানটিতে ৫ শিক্ষকের মধ্যে ১ জন প্রশিক্ষণে থাকলেও ১০টা ৩৭ মিনিট পর্যন্ত অনুপস্থিত ছিলেন আরও একজন শিক্ষক।

স্থানীয় ও অভিভাবকদের অভিযোগ, সঠিক সময়ে শিক্ষক স্কুলে না আসায় ঠিক সময়ে ক্লাস হচ্ছে না। এতে দিন দিন কমছে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির সংখ্যা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অভিভাবক জানান, ‘স্কুলের মাস্টার আইসে দেরিতে। বাচ্চাগুলা এ জন্যে দেড়িতে স্কুল যায়। আর পড়াশুনা তো এটে হয় না। বেতন পাইলে হইলো। বড় বড় অফিসারগুলাও দেখে না।’

প্রতিষ্ঠানটির সহকারী শিক্ষক সেলিনা আক্তার বলেন, আমি দূর থেকে আসি। রাস্তায় আসতে আমার তিনটা গাড়ি পরিবর্তন করতে হয়। বাচ্চা নিয়ে আসতে একটু অসুবিধা হয়। আমি নিয়মিত সঠিক সময়ে আসি আজকে একটু দেরি হয়েছে।

বিদ্যালয় থেকে ১ কিলোমিটার দূরে বাড়ি সহকারী শিক্ষক রিক্তা রানীর। তবে তিনি বিদ্যালয়ে আসেন ৯ টা ৫৩ মিনিটে। দেড়িতে আসার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পারিবারিক সমস্যা ছিল। তাই আসতে একটু লেট হয়েছে।

এসব বিষয়ে প্রধান শিক্ষক অনীল চন্দ্র রায় বলেন, আমরা সঠিক সময়ে স্কুলে আসি। মাঝে মধ্যে একটু এমন হয়। আমার থেকে আমার অনান্য শিক্ষকরা বেশি এলার্ট। তবে আজ হয়ত পারিবারিক একটু সমস্যা ছিল এ জন্য লেট করেছেন।

একজন শিক্ষক অনুপস্থিতের বিষয়ে তিনি বলেন, ওই শিক্ষকের বাসা আমার বাড়ির কাছেই। কিন্তু কেন আসেনি সে বিষয়ে আমার জানা নেই।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানালে তিনি মিটিং আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কেটে দেন।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নবেজ উদ্দিন সরকার জানান, স্কুল খোলা থাকলে পরীক্ষা বা নিয়মিত ক্লাস যাই হোক, সরকার নির্ধারিত সময় সকাল ৯টায় অবশ্যই শিক্ষকদের প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে হবে। এমন অনিয়ম করার কোনো সুযোগ নেই। উপজেলা কর্মকর্তারা বিষয়টি দেখ ভাল করেন। তবুও এ বিষয়ে খোঁজ নিব। সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাকা, ১৯ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


আজকের সর্বশেষ