পানি ছাড়া কিছুই খাননি!পুলিশ: আবু ত্ব-হা স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে! ত্ব-হা মুখ খুলেননি!


Published: 2021-06-18 19:13:37 BdST, Updated: 2021-07-27 22:18:46 BdST

রংপুর লাইভ: আলোচিত ইসলামি বক্তা আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনান ফিরে আসার পর কোতোয়ালি থানা থেকে রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (১৮ জুন) দুপুরে আবু ত্ব-হা আদনান রংপুরের শ্বশুরবাড়িতে উপস্থিত হন। পরে বিকেল পৌনে ৩টার দিকে তাকে রংপুর নগরীর কোতোয়ালি থানায় নেওয়া হয়। এরপর তাকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এদিকে ইসলামী বক্তা আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনান ও তার তিন সহযোগী ব্যক্তিগত কারণে স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে রংপুর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার (১৮ জুন) প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন উপপুলিশ কমিশনার (অপরাধ) আবু মারুফ হোসেন। তিনি বলেন, ত্ব-হা ঘটনার দিন গাবতলী থেকে গাইবান্ধা চলে আসেন। সেখানে এক আত্মীয়র বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন। শুক্রবার ত্ব-হা আবহাওয়া অফিস মাস্টারপাড়ার শ্বশুরবাড়িতে চলে আসেন। পরে তাকে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়। উনি এখন আমাদের হেফাজতেই আছেন। 

আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনান স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তার নির্দেশেই সফরসঙ্গী সবার ব্যবহৃত মোবাইল বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে রংপুর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার (১৮ জুন) প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন। তিনি বলেন, ত্ব-হা দাম্পত্য কলহের কারণে স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন।

আবু মারুফ হোসেন বলেন, ত্ব-হা নিখোঁজের ঘটনায় তার মা থানায় একটি জিডি করেন এবং তার সঙ্গে নিখোঁজ থাকা আমিরুদ্দিনের ভাই ফয়সাল আরেকটি জিডি করেন। এরপর থেকে পুলিশ তাদের খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালায়। চলছিল বিভিন্ন উপায়ে তদন্তও। আজ আমরা গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারি, ত্ব-হা তার প্রথম স্ত্রীর বাড়িতে আছেন। সেখান থেকে তাকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, গত ১০ জুন বৃহস্পতিবার রংপুর থেকে প্রাইভেটকার ভাড়া করে ঢাকার পথে রওনা হন আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানসহ আব্দুল মুহিত, ফিরোজ আলম ও গাড়িচালক আমির উদ্দিন। পরে তারা ঢাকার গাবতলীতে পৌঁছালে ত্ব-হার ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে সেখান থেকে গাইবান্ধার ত্রিমোহনীতে চলে যান। সেখানে তার পূর্ব পরিচিত বন্ধু সিয়ামের বাড়িতে অবস্থান করেন। এ সময় ত্ব-হার সঙ্গে তার তিন সহযোগীও ছিলেন।

মারুফ হোসেন বলেন, রংপুর থেকে ঢাকা যাওয়ার সময় ত্ব-হা তার সফরসঙ্গীদের তার ব্যক্তিগত সমস্যার কথা খুলে বলেন। এরপর তারা পরামর্শ করে আত্মগোপনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। মূলত পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিভিন্ন সমস্যার কারণেই ত্ব-হার কথায় রাজি হয়ে তারা স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা। ওই বাড়িতে অবস্থানকালে ত্ব-হার ইচ্ছাতেই সবাই তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ রাখেন।

তবে তাদের এই আত্মগোপনে থাকার দাবি, রাষ্ট্র বা সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতে ফেলার কোনো ষড়যন্ত্র কি-না তাও খতিয়ে দেখবে পুলিশ। তিনি আরও বলেন, সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আবু ত্ব-হা ও আমির উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তারা প্রাথমিকভাবে আত্মগোপনে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তারা এখন পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। বাকি দুজনের মধ্যে আব্দুল মুহিতকে মিঠাপুকুরের জায়গীরহাট থেকে এবং ফিরোজ আলমকে বগুড়ার শিবগঞ্জ থেকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানানো হয়।

ত্ব-হার উদ্ধৃতি দিয়ে উপ-পুলিশ কমিশনার বলেন, ত্ব-হা আমাদেরকে তার ব্যক্তিগত কিছু সমস্যার কথা জানিয়েছে। আমরা তার কথাগুলো যাচাই-বাছাই করছি। আমরা তাকে রাতে রংপুর কোতোয়ালি থানায় সোপর্দ করব। এই মুহূর্তে তার ব্যক্তিগত বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে বেলা সোয়া তিনটার দিকে রংপুর মহানগর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মজনু জানান, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থেকে ত্ব-হাকে আনা হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার ৮ দিনের মাথায় আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনান উদ্ধার হওয়ার পর রংপুরের কোতোয়ালি থানা পুলিশের ওসি আব্দুর রশিদ বলেন, আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানের সঙ্গে নিখোঁজ অন্য তিনজনও বাড়ি ফিরেছেন।

Caption

 

তাদেরকেও থানায় আনা হয়েছে। তিনি জানান, আবু ত্ব-হার সঙ্গে নিখোঁজ হওয়া অন্য তিনজনকেও নিজ নিজ বাড়ি থেকে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়েছে। সেখানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

খোকন নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে তিনি নগরীর মাস্টারপাড়ায় আবু ত্ব-হাকে দেখেন। কিন্তু ত্ব-হা সেই সময় কোনো কথা বলেননি। মুখে আঙুল দিয়ে চুপ থাকতে বলেন তিনি। গত ১০ জুন রংপুরে ওয়াজ মাহফিল শেষে ঢাকার বাসায় ফেরার পথে আবু ত্ব-হাসহ চারজন নিখোঁজ হন বলে অভিযোগ ছিল।

আবু ত্ব-হার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল, ঢাকার গাবতলী থেকে তারা নিখোঁজ হন। আবু ত্ব-হার সঙ্গে নিখোঁজ হয়েছিলেন আরও তিনজন। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে তাদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। আবু ত্ব-হার সঙ্গে আরও যারা নিখোঁজ হন, তারা হলেন- আব্দুল মুকিত, মোহাম্মদ ফিরোজ ও গাড়িচালক আমির উদ্দিন ফয়েজ।

আবু ত্ব-হার পরিবার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আবু ত্ব-হার বিভিন্ন ইসলামিক অনুষ্ঠান ও মাহফিলে তারা সঙ্গে থাকতেন। এই তিনজনের সঙ্গে আবু ত্ব-হার সখ্যতা আছে। আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনানের প্রকৃত নাম আফছানুল আদনান। বয়স ৩১। বাবা মৃত রফিকুল ইসলাম। আদনানের প্রথম স্ত্রী আবিদা নুর, তাদের সংসারে তিন বছরের মেয়ে ও দেড় বছর বয়সী ছেলে-সন্তান রয়েছে।

বাবা মারা যাওয়ার পর রংপুর নগরীর সেন্ট্রাল রোডে নানার বাড়িতে বড় হন আদনান। বিয়ের পর স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে নগরীর নিউ শালবন এলাকায় বসবাস করেন। কয়েক মাস আগে আদনান আরেকটি বিয়ে করেন। তার দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিকুন্নাহার সারা ঢাকার মিরপুর আল ইদফান ইসলামী গার্লস মাদ্রাসার পরিচালক ও শিক্ষক।

আদনান প্রাতিষ্ঠানিক কোনো আরবি শিক্ষা গ্রহণ করেননি। তিনি কারমাইকেল কলেজ থেকে দর্শন বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। কোরআন শিক্ষার জন্য কিছুদিন স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় তালিম নেন। এ সময় তিনি আহলে হাদিস নামে একটি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এছাড়াও লাইফ ফাউন্ডেশন, আলোর পথ এবং একাডেমিক কোরআন স্টাডিজ নামে সংগঠনে জড়িত রয়েছেন। ঢাকার মিরপুর আল ইদফান ইসলামী গার্লস মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতাও তিনি।

পানি ছাড়া কিছুই খাননি:

অবশেষে নিখোঁজ হওয়ার ৮ দিনের মাথায় তরুণ ইসলামী বক্তা আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনান ফিরে এসেছেন। তিনি রংপুরের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার ভাই তারেক। তার ভাই আরো বলেন, ত্ব-হা শারীরিক এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। বাড়ি ফিরে পানি ছাড়া কিছু খাওয়ারও সুযোগ পাননি।

এদিকে পরিবারের ভাষ্য মতে- গত ১০ জুন দিনগত রাতে রংপুর থেকে ঢাকার ফেরার পথে রাজধানীর গাবতলী পৌঁছানো মাত্র ত্ব-হা তার গাড়ির চালক মো. আমির, সফরসঙ্গী মো. মুহিদসহ মোট ৪ জন নিখোঁজ হন। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে সারা দেশেই চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ত্ব-হাকে ফিরে পেতে তার পরিবার সংবাদ সম্মেলন করেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ভক্তরা বিভিন্ন পোস্ট দেন। যেখানে বারবারই তাকে ফিরে পেতে দাবি জানানো হচ্ছিলো। এ ঘটনায় গত বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করেন ত্ব-হার স্ত্রী সাবেকুন নাহার।

বাড়ি ফিরে পানি ছাড়া কিছু খাওয়ারও সুযোগ পাননি

 

তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী যদি কোন অন্যায় করে থাকেন তাহলে তাকে দেশের প্রচলিত আইনে বিচার করা হোক। সে নিখোঁজ কেন? আমি শুধু তার সন্ধান চাই। তাকে যদি আমার কাছে এনে দিতে না পারেন তাহলে আমাকে তার কাছে নিয়ে যান। আমি একজন স্ত্রী হিসেবে জানি না আমার স্বামী কোথায়। আমি আপনাদের কাছে হাত জোর করে মিনতি করতেছি আপনারা আমার স্বামীকে ফিরিয়ে দিন। এর বেশি কিছু চাই না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার স্বামী রংপুর থেকে রওনা দিয়েছিলেন বগুড়ার উদ্দেশ্যে। সেখানে তার একটা প্রোগ্রাম ছিলো। কোনও কারণে সেই প্রোগ্রাম না হলে তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে মোবাইল ফোনে তিনি (ত্ব-হা) আমাকে জানিয়েছিলেন দুইটি বাইক তাদের বহন করা কারটি অনুসরণ করছিলো।

শেষ পর্যন্ত আমাকে তিনি তার গুগল ম্যাপ শেয়ার করেছিলেন সেখানে আমি জানতে পেরেছি মিরপুরের আমার বাসা থেকে তিনি আর ১৭ মিনিটের দূরত্বে আছেন। তখন সময় ছিল রাত ২টা ৩৭ মিনিটের কাছাকাছি।’ বিষয়টি নিয়ে সারা দেশে এখন নানান আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। অনেকেই বিষয়টিকে একটি বিশেষ নাটকও বলেছেন।

ঢাকা, ১৭ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআইটি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।