হাবিপ্রবিতে অনার্স শেষ না করেই মাস্টার্স পরীক্ষা দেয়ার অভিযোগ


Published: 2021-03-18 21:24:21 BdST, Updated: 2021-06-19 18:59:58 BdST

হাবিপ্রবি লাইভ: অনার্স শেষ না করেই মাস্টার্স প্রথম সেমিস্টার পরীক্ষা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। বর্তমানে ওই শিক্ষার্থী মাস্টার্স দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়ন করছে বলে জানা যায়।

বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে লিখালিখি শুরু করেছে ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫ ব্যাচের এবং ফিশারীজ অনুষদের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের একটি অংশের নেতা আলমগীর হোসেন আকাশ অনার্স এর নম্বরপত্র ও সাময়িক সনদপত্র জমা না দিয়েই মাস্টার্স এর কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছেন। ২০১৯ সালের ১১ জুলাই আকাশ পোস্ট গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদের ডীন বরাবর একটি দরখাস্ত দেন, সেখানে দেখা যায় সে শর্ট সেমিস্টার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে, কিন্তু ফলাফল এখনো হয় নি। সে জুলাই-ডিসেম্বর সেমিস্টার এ ভর্তি হতে চায়।

পাশাপাশি সে নম্বরপত্র ও সাময়িক সনদপত্র জমা দানের জন্য ২ মাসের সময় চায়। উক্ত দরখাস্তে তার সুপারভাইজার ও ফিশারীজ টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ফেরদৌস মেহবুবের সুপারিশ ও রয়েছে।

জানা যায়, ১৭ জানুয়ারির পর সে আর যোগাযোগ করেনি এবং সে যে কয়েকটি বিষয়ের উপর শর্ট সেমিস্টার পরীক্ষা দিয়েছিল সেখানে আবার একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়। বিষয়টি এতোদিন গোপন ছিল, তবে সেটি সামনে নিয়ে আসেন ছাত্রলীগেরই অপর দুটি অংশ।

অভিযোগের বিষয়ে আকাশ ক্যাম্পাসলাইভকে জানিয়েছেন, "আমি একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছি। আমি অতিদ্রুত ভর্তি বাতিলের আবেদন জমা দিবো। এ নিয়ে আমার আর কিছু বলার নেই "।

এই বিষয়ে হাবিপ্রবি ছাত্রলীগ নেতা শেখ রাসেল হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোরশেদুল আলম রনি ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, 'আমি যতটুকু জানি একসাথে কখনো অনার্স এবং এমএস ডিগ্রি একই সময়ে করা যায় না। এইটা বড় ধরনের একটা জালিয়াতি। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই এই ঘটনার সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের যারা যারা জড়িত তাদের সবাইকে অতি শীঘ্রই শাস্তির আওতায় আনা দরকার'।

১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী তুষার ক্যাম্পাসলাইবকে বলেন, বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি মনেকরি নেক্কারজনক ঘটনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক সুনাম অক্ষুন্ন রাখার লক্ষ্যে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেনো না ঘটে সেজন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত ধারায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানাচ্ছি"।

এই ঘটনায় পোষ্ট গ্রাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. ফাহিমা খানমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, আমরা আপনাদের মাধ্যমে তার ব্যাপারে জানার পর গতকাল (১৫ মার্চ) বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত ঐ শিক্ষার্থীকে অনার্সের নম্বরপত্র এবং সনদপত্র জমা দেবার জন্য সময় দিয়েছিলাম।

কিন্তুু গতকাল ঐ শিক্ষার্থী আমাকে ফোন করে জানায় সে মন্ত্রীর প্রোগ্রামে আছে। তাই অনার্সের নম্বরপত্র ও সনদপত্র জমা দিতে পারবে না। এরপরও আমি গতকাল অফিস টাইম পাঁচটা পর্যন্ত তার জন্য অপেক্ষা করি।

আজকে আমাকে ফোন দিলে আমি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি অনার্সের নম্বরপত্র এবং সনদপত্র জমা না দেওয়া পর্যন্ত তোমার সাথে আমার কোন কথা নেই।

এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে কি পদক্ষেপ নেওয়া হবে জানতে চাইলে প্রফেসর ড. ফাহিমা খানম ক্যাম্পাসলাইভে বলেন, যেহেতু একাডেমিক সিস্টেম অনুযায়ী সে এখন পর্যন্ত অনার্স শেষ করতে পারেনি তাই তার মাস্টার্সের ভর্তি বাতিল করা হবে।

তবে পোষ্ট গ্রাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদের ডিন হিসেবে আপনার দায়ভার আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই দায় আমার নয়। আপনি ঐ বিভাগের চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলুন।

তবে এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ফিশারীজ টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোঃ ফেরদৌস মেহবুবের মুঠোফোনে যোগাযোগ করে ও এসএমএস দিয়েও তার কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঢাকা, ১৮ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।