Azhar Mahmud Azhar Mahmud
teletalk.com.bd
thecitybank.com
livecampus24@gmail.com ঢাকা | বুধবার, ২৮শে ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৬ই ফাল্গুন ১৪৩০
teletalk.com.bd
thecitybank.com

রাবিতে হাসান আজিজুল হকের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

প্রকাশিত: ১৬ নভেম্বার ২০২২, ০৫:৪১

হাসান আজিজুল হকের সমাধিতে পুস্পস্তবক অর্পণ

রাবি লাইভ: আজ ১৫ নভেম্বর। উপমহাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক প্রফেসর হাসান আজিজুল হকের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) দিনটি বিভিন্ন আয়োজন-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালন করা হয়েছে।

এদিন (মঙ্গলবার) সকাল সোয়া ৯টায় রাবি ভিসি প্রফেসর গোলাম সাব্বির সাত্তার বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার চত্বরে মরহুমের সমাধিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখানে মরহুমের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন ও মোনাজাত করা হয়।

এসময় অন্যদের মধ্যে প্রো ভিসি মো. সুলতান-উল-ইসলাম, প্রো ভিসি মো. হুমায়ুন কবীর, কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর (অব.) মো. অবায়দুর রহমান প্রামানিক, রেজিস্ট্রার প্রফেসর মো. আবদুস সালাম, প্রক্টর প্রফেসর মো. আসাবুল হক, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক প্রফেসর প্রদীপ কুমার পাণ্ডে, অনুষদ অধিকর্তা, হল প্রাধ্যক্ষ, বিভাগীয় সভাপতি, ইনস্টিটিউট পরিচালক প্রমুখসহ সংশ্লিষ্ট অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বেলা সাড়ে ১১ শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণ অনুষ্ঠান। এতে আলোচক হিসেবে হাসান আজিজুল হকের জীবন ও কর্মের উপর আলোচনা করেন রাবি ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজের বঙ্গবন্ধু প্রফেসর সনৎকুমার সাহা। প্রো ভিসি মো. সুলতান-উল-ইসলামের সভাপতিত্বে এই স্মরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য প্রফেসর গোলাম সাব্বির সাত্তার, বিশেষ অতিথি প্রো ভিসি প্রফেসর মো. হুমায়ুন কবীর ও কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর (অব.) মো. অবায়দুর রহমান প্রামানিক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
স্মরণ অনুষ্ঠান

স্মরণ অনুষ্ঠানে বাংলা কথাসাহিত্যে অধ্যাপক হাসান আজিজুল হকের অবদানের কথা স্মরণ করে বঙ্গবন্ধু প্রফেসর সনৎকুমার সাহা বলেন, প্রফেসর হাসান আজিজুল হক চলার পথে যে মানবিক যন্ত্রণা পেয়েছেন তা তাঁর সাহিত্যকর্মের মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে। তিনি তাঁর লেখনীর মাধ্যমে একজন নিগৃহীত মানুষকে মানবিক বাস্তবতায় ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। ‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই’ এ বাক্যটিকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন তাঁর লেখনীর মাধ্যমে।

তিনি আরো বলেন, মনুষ্য সত্যকে তিনি যে পূর্ণতা দিয়েছেন সেটা আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর যে সাহিত্য প্রতিভা তা বাংলা সাহিত্যজগতে চিরদিন সমাদৃত হয়ে থাকবে। তাঁর প্রতি আমাদের যে আবেগ আছে সেটি মোটেও কাচা নয়, এক গভীর আবেগ। এ আবেগ ধরে রাখতে পারলে আমাদেরই কল্যাণ। তিনি আমাদের গভীরে গেঁথে আছেন, ভবিষ্যতেও থাকবেন। তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সমাহিত করে আমরা চিরস্মরণীয় করে রাখতে পেরে আমরা গর্বিত। যদিও এতে আমাদের বেদনার উপশম হয় না।

অনুষ্ঠানে ভিসি প্রফেসর গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক যে বিশাল প্রতিভার অধিকারী ছিলো তা এক স্মরণ অনুষ্ঠানের সীমিত পরিসরে বলে শেষ করা যাবে না। বাংলা কথাসাহিত্যের বরপূত্র হাসান আজিজুল হক যখনই প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি তখনই তার বিরুদ্ধে লিখেছেন। পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে যে কয়েকজন বাংলা সাহিত্যে ক্ষুরধার লেখনী চর্চা করেছেন তিনি ছিলেন তাঁদের অন্যতম। তাঁর অসাধারণ ভাষাশৈলী, বিষয়বস্তুকে সহজবোধ্য করে তুলে ধরা, জীবনঘনিষ্ঠ বিষয়বস্তু নির্বাচন এসবই তাঁর কর্মকে বিশিষ্টতা দিয়েছে। তাঁর মৃত্যু আমাদের সাহিত্যঙ্গণে অসীম শুন্যতার সৃষ্টি করেছে। হাসান আজিজুল হককে জানতে ও বুঝতে হলে তাঁর কর্ম নিয়ে নিবিড় গবেষণা প্রয়োজন।

স্মরণ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন দর্শন বিভাগের সভাপতি প্রফেসর নিলুফার আহমেদ। সেখানে পরিবারের পক্ষ থেকে হাসান আজিজুল হকের নাতি অনির্বাণ হাসানসহ দর্শন বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর মহেন্দ্রনাথ অধিকারী, ইতিহাস বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর নূরুল হোসেন চৌধুরী, বাংলা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর কবি জুলফিকার মতিন, দর্শন বিভাগের প্রফেসর এস এম আবু বকর, ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রফেসর মলয় ভৌমিক প্রমুখ স্মৃতিচারণ করেন।

ঢাকা, ১৫ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//ওএফ//এমজেড


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


আজকের সর্বশেষ