teletalk.com.bd
thecitybank.com
[email protected] ঢাকা | শনিবার, ২১ মে ২০২২, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
teletalk.com.bd
thecitybank.com

পূর্ব শত্রুতার জেরে রাবি শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত, গ্রেফতার ১

Md Akramuzzaman | প্রকাশিত: ১২ মে ২০২২ ১৮:৪৩

প্রকাশিত: ১২ মে ২০২২ ১৮:৪৩

আহত শিক্ষার্থী লোকমান হোসেন (শাওন)

রাবি লাইভ: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে পারিবারিক দ্বন্দ্বে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। আজ বৃহস্পতিবার (১২মে) সকাল নয়টার দিকে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা ডাঙ্গাপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগীরা হলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী লোকমান হোসেন (শাওন), তার ছোট ভাই মাহমুদ হাসান ও মা সাহেদা বেগম। তাদের গুরুতর আহত অবস্থায় খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

অভিযুক্তরা হলেন, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আনাস আলমগীর, মো. জাহিদ, পিতা লুৎফর রহমান ও মা মোছা. শিল্পী আখতার।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পিতা নাজির উদ্দিন খানসামা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ পত্র থেকে জানা যায়, আজ সকাল পৌনে ৯টার দিকে অভিযুক্তরা হাতে লাঠিসোটা, লোহার রড, রামদা নিয়ে বাড়ীতে এসে লোকমান হোসেনের ওপর চড়াও হয়। পূর্ব শত্রুতার জেরে তাকে গালিগালাজ করে। লোকমান এর প্রতিবাদ করলে জাহিদের নির্দেশনায় আনাস আলমগীরের হাতে থাকা ধারালো বাশিলা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করে। এতে লোকমান মাথায় লেগে ঘুরতর আহত হয়। লোকমানের ছোট ভাই মাহমুদ হাসান বড় ভাইকে রক্ষার জন্য এগিয়ে এলে অভিযুক্ত (২) জাহেদ হাতে থাকা রামদা দিয়ে আঘাত করে এতে ডান হাতের বাহু ও পিঠে গুরুতর জখম হয়।

পরে দুই ভাইয়ের চিৎকার শুনে তার মা সাহেদা বেগম ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্ত লুৎফর রহমান (৩) লোহার সাবল দিয়ে মারপিট করে জখম করে। এসময় চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে লোকজন এসে তাদের রক্ষা করে। সেই সাথে উপস্থিত লোকজনের সামনে পরবর্তীতে মারপিট করবে বলে হুমকি দেয়। এসময় উপস্থিত থাকা লোকজনের সহয়তায় আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী লোকমান হোসেন ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, 'আমি রাবিতে ভর্তির পর থেকেই নিরাপত্তায় ভুগছি। অভিযুক্ত আনাস গ্রামের বলে ক্যাম্পাসে কাউকে কিছু বলতে পারি না। এখন দেখছি সে আমার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাড়াচ্ছে। প্রশাসনের কাছে দাবি এবং অনুরোধ জানাই, আমি যেনও ক্যাম্পাসে এ মুক্ত মনে থাকতে পারি এবং আজকের এই অবস্থার জন্য তাকে যেন উপযুক্ত শাস্তি হিসেবে ছাত্রত্ব বাতিল করা করা হয়।এরকম অস্ত্রধারী,সন্ত্রাসীর জাতির উপকারে আসবে বলে মনে হয় না।'

অভিযোগের বিষয়ে মূল অভিযুক্ত আনাস আলমগীর ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, আমি আনাস রোমান। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছি ইতিহাস বিভাগ চতুর্থ বর্ষে। তাদের সাথে আমাদের পারিবারিক শত্রুতা অনেক দিন হতে চলে আসছে। ২০১৮ সালে স্বাধীন আমার মাথা ফাটিয়ে দেয় এবং আমার মা-বাবা সবাইকে মারে এবং থানায় আমরা মীমাংসার জন্য যাই। এই বিষয়টা থানায় রাকিবুল ইসলাম ঐতিহ্য ভাই, সহ-সভাপতি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ মীমাংসা করে দেয়। তারা পূনরায় ২০১৯ সালে ডিসেম্বরে আমার মা এবং বোনকে মারে। এরপরও এই বিষয়টা মীমাংসা করে আমরা চুপচাপ ছিলাম এবং সুন্দর জীবনযাপন করছিলাম।

তিনি আরও বলেন, আজ থেকে দুই মাস আগে তারা আবারও আমার বাবার ওপর হামলা চালায় এই কথা আজকে আমরা দুই ভাই মিলে বলা বলা শুরু করেছিলাম, তখন তারা সবাই মিলে আমাদের উপর হামলা চালায়। এমতাবস্থায় লোকমান হাকিম শাওনের নাকি মাথা ফেটে যায় কিন্তু, কিভাবে ওর মাথা ফেটে যায় আমরা নিজেরাও বলতে পারিনা। এখন তারা আমার নামে অপপ্রচার চালাচ্ছে আমাকে চোর-ডাকাত ইত্যাদি নামে এবং আমার বাবার নামে অনেক অপপ্রচার চালাচ্ছে।

এমতাবস্থায় আমি কোন প্রশাসনের সহযোগিতা পাচ্ছি না। তারা আমার বাবা-মাকে বাড়িতে ঢুকতে দিচ্ছে না। তাঁরা আমার বাড়ির দরজায় দাঁড়িয়ে আছে আমার বাবা মা কে মারার জন্য। এমতাবস্থায় আমি কী করতে পারি? বর্তমানে শাওনের বড় ভাই সাজেদুল ইসলাম স্বাধীন সে তার প্রভাব কাজে লাগিয়ে আমার নামে অনেক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অনেক অপপ্রচার চালাচ্ছে।

ক্যাম্পাসে ভুক্তভোগী লোকমানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্নের বিষয়ে প্রক্টর প্রফেসর আসাবুল হক ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, 'ভুক্তভোগীর ঘটনাটা আমি ফেসবুক থেকে জেনেছি। ওই শিক্ষার্থী যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে তাহলে একটা লিখিত অভিযোগ দিতে বলিও। সে প্রেক্ষিতে আমরা ব্যবস্থা নিব। আর পাশাপাশি যেন এ বিষয়টা ওর বিভাগের চেয়ারম্যানকেও জানিয়ে রাখে।'

এ বিষয়ে দিনাজপুর খানসামা থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত) কামাল হোসেন ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, 'এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। যেখানে ভুক্তভোগীর বাড়ীতে গিয়ে বাশিলা দিয়ে আঘাত করে। এসময় তার ছোট মা কেও মারধর করা হয়েছে। এখন যারা আহত হয়েছে তাদের খানসামা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ট্রিটমেন্ট চলছে। তাদের দিনাজপুরে রেফার করা হবে।'

তিনি আরো বলেন, 'এ ঘটনায় মামলাও হয়েছে। আমরা ৩নং অভিযুক্ত লুৎফর রহমানকে গ্রেফতার করেছি।'

ঢাকা, ১২ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//ওএফ//এমজেড




আপনার মূল্যবান মতামত দিন: