গবেষণা: রাবি শিক্ষক ড. ইয়ামিন প্রণোদনা দেবেন ছাত্র-ছাত্রীদের


Published: 2022-01-14 08:15:04 BdST, Updated: 2022-01-19 08:10:27 BdST

রাবি লাইভ: প্রণোদনা দেবেন ছাত্র-ছাত্রীদের। এমন ঘোষণা দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) একজন শিক্ষক। তিনি বলেছেন এই বিশ্বাবদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণা প্রকাশ হলে তাদের প্রণোদনা দেয়া হবে। ওই শিক্ষকের নাম অধ্যাপক ড. ইয়ামিন হোসেন।

তিনি আরো বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের কোনো গবেষণা প্রকাশ হলে নিজ বেতন থেকে প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে গোটা ক্যাম্পাসে আলোচনার সৃস্টি করেছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এনিয়ে আলোচনার ঝড় তুলেছেন। জানা গেছে ওই শিক্ষক ফিশারিজ বিভাগের।

জানাগেছে বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) এক ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি জানান তিনি। গবেষণায় প্রণোদনা (ইনসেনটিভ) শিরোনামের ওই পোস্টে অধ্যাপক ইয়ামিন হোসেন লেখেন,

‘আপনি গবেষণা করে যত পাবলিকেশনই করুন না এদেশে হাততালিও পাবেন না! কিন্তু আমার ল্যাবে কেউ যদি পাবলিকেশন করেন, সিনিয়র অথর হিসেবে, আমার বেতনের টাকা থেকে ক্ষুদ্র আকারে হলেও প্রণোদনা দেবো ইনশাআল্লাহ!’

ফেসবুক পোস্ট

 

তিনি আরও লেখেন, ‘কিউ ওয়ান মানের জার্নালে প্রকাশের জন্য ১০ হাজার, কিউ টু-তে ছয় হাজার, কিউ থ্রি-তে চার হাজার ও কিউ ফোর মানের জার্নালে প্রকাশ হলে দুই হাজার টাকা প্রণোদনা দেওয়া হবে।’ প্রতিটি সায়েন্টেফিক পেপারের জন্যে এই প্রণোদনা দেওয়া হবে বলে ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন এ রাবি অধ্যাপক।

এমন উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ইয়ামিন হোসেন  বলেন, ‘বিশ্বের সব জায়গায় এ প্রণোদনা ব্যবস্থা চালু আছে। অথচ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের গবেষণা প্রকাশ হলে উৎসাহটুকুও দেওয়া হয় না। তাই আমি ব্যক্তিগতভাবে ঘোষণা দিয়েছি কোনো শিক্ষার্থীর গবেষণা প্রকাশ পেলে আমার বেতন থেকে তাদের সম্মানী দেবো।’

অধ্যাপক ইয়ামিন হোসেনের ল্যাব থেকে গতবছর ৪২টি গবেষণাপত্র বের হয়েছে। স্কোপাসের গবেষণা তালিকায় রাবির অবস্থান দ্বিতীয়। তাতে এ অধ্যাপকের গবেষণা ছিল ৩৭টি। অধ্যাপক ইয়ামিন হোসেন বলেন, যারা গবেষণা করে তারা অনেকেই নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। তাদের পরিশ্রমকে সম্মান জানানোর জন্যই তিনি এ প্রণোদনার ব্যবস্থা করবেন।

এদিকে বর্তমানে তিনি চারটি প্রকল্প তত্ত্বাবধায়ন করছেন। একটি প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বঙ্গোপসাগরে সামুদ্রিক সম্পদের সমৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছেন। বর্তমানে দেশের ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে গবেষণা কার্যক্রম চলছে অধ্যাপক ইয়ামিন হোসেনের। এছাড়াও গবেষণা চালিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড, নেপাল, পাকিস্তান ও ভারতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে।

গবেষণা

 

তার গবেষণার পেছনের গল্পটাও অনন্য। বিভাগের গবেষণাগার রাতে ব্যবহারের সুযোগ নেই। তাই অধ্যাপক ইয়ামিন গবেষণার প্রয়োজনে নিজ বাসায়ই স্থাপন করেছেন গবেষণাগার। থাকার ঘরে গবেষণাগার স্থাপনের কারণ জানতে চাইলে ড. ইয়ামিন হোসেন বলেন, বেশকিছু প্রকল্পে গবেষণার কাজটা রাতেও চালাতে হয়।

রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগার ব্যবহারের সুযোগ না থাকায় খুব অসুবিধায় পড়তে হত। এ সমস্যা কাটাতে দেড় বছর আগে শিক্ষার্থীদের পরামর্শে বাড়িতেই গবেষণাগার খুলে ফেলি। তিনি জানান, করোনার সময়টাতে এটি বেশ কাজে দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও গবেষণায় প্রয়োজনীয় সব যন্ত্রপাতি এখানে থাকায় ছাত্রছাত্রীরা গবেষণার কাজটা এখানে চালিয়ে নিতে পারছে।

এদিকে রাতে কোনো শিক্ষার্থীর থেকে যাওয়ার প্রয়োজন হলে গেস্টরুমেই থেকে যান। এখন মোট ২৮ জন শিক্ষার্থী গবেষক তার অধীনে গবেষণা করছেন। ইয়ামিন হোসেনের অধীনে গবেষণা করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী ওবাইদুর রহমান। ইয়ামিন হোসেনকে নিয়ে তিনি বলেন, ‘স্যারকে সবসময় গবেষণার কাজেই নিমগ্ন থাকতে দেখেছি। ক্লাস শেষ করে বাসায় না ফিরে স্যার ল্যাবে ঢুকে যান। আমরা শিক্ষার্থীরা যে কোনো প্রয়োজনে স্যারকে সবসময় পাশে পেয়েছি’।

তবে গবেষণার কৃতিত্ব সবটুকু শিক্ষার্থীদের দিতে চান অধ্যাপক ইয়ামিন। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি আমার একার অর্জন নয়, সকলের সম্মিল্লিত প্রচেষ্টার ফসল। মূলতঃ গবেষণার কাজগুলো ছাত্রছাত্রীরাই করে থাকে। সে হিসেবে এ অর্জনটির পুরো কৃতিত্ব আমার শিক্ষার্থীদেরই প্রাপ্য।

ঢাকা, ১৩ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিআইটি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।