ধৈর্যের পরীক্ষা দিচ্ছে রাবি শিক্ষার্থীরা


Published: 2021-09-13 19:08:27 BdST, Updated: 2021-09-18 06:40:50 BdST

উমর ফারুক, রাবি: সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। করোনা প্রকোপ একটু কমায় গত ২৭ আগস্ট করোনায় আটকে থাকা পরীক্ষাগুলো পুনরায় শুরুর সিদ্ধান্ত নেয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আবাসিক হল বন্ধ রেখে ইতিমধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সশরীরে শুরু হয়েছে অনার্স ও মাস্টার্সের পরীক্ষা।

তাছাড়া ২০১৯ ও ২০ সালের পরীক্ষাগুলো শুরু করতে স্ব-স্ব বিভাগের একাডেমী কমিটিকে সময়সূচী গ্রহণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন।

টাকা জমা দিতে আসা শিক্ষার্থীরা

 

সেই নির্দেশনা মোতাবেক বিভিন্ন বিভাগের পরীক্ষার ফরম ফিলাপ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ব্যাংক (অগ্রণী ও সোনালী) থাকলেও শুধু অগ্রণী ব্যাংকে ফরম ফিলাপ সংক্রান্ত ব্যাংক ড্রাফট/ টাকা জমা দিতে এসে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হচ্ছে শতশত শিক্ষার্থীদের। একবার বিভাগ থেকে আবাসিক হল সেখান থেকে আবার ব্যাংকে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকে টাকা জমা দিচ্ছে তারা।

শিক্ষক -শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তুলেছে তথ্য প্রযুক্তির এ যুগেও পুরনো সিস্টেমে পরে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন। দ্রুত সিস্টেমের পরিবর্তন এনে অনলাইনে ফরম ফিলাপের ব্যবস্থা করে শিক্ষার্থী বান্ধব সিদ্ধান্ত গ্রহণে রাবি প্রশাসন জরুরী ভিত্তিতে উদ্যোগ গ্রহণ করার দাবি জানিয়েছে তাঁরা।

ব্যাংকগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

 

ক্ষোভ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী জাহেদ ইমাম শুভ ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, 'সরকারী টাকায় পড়ার অর্থ এই নয় যে শিক্ষার্থীদের সাথে যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন। দেশের প্রথম ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় হয়েও কেন ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা জমা দেওয়া লাগে? কেন ডিপার্টমেন্ট টু ব্যাংক, ব্যাংক টু হল, হল টু ডিপার্টমেন্ট দিনের পর দিন নাকে দড়ি লাগিয়ে ঘুরা লাগে এর উত্তর চাই। মুখে- মুখে কত ডিজিটাল ডিজিটাল বলে লাফাই আমরা। অথচ কাজের বেলায় গিয়ে এর কিছুই পাইনা। মানুষের বিবেক বলে কিছু থাকা দরকার। এ ভোগান্তির শেষ কোথায়?'

বজলু রহমান নামে এক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, 'আসুন সবাই একসাথে সিরিয়াল এ দাঁড়াই। এখন ও ব্যাংক বন্ধ রয়েছে। ডিজিটাল করুন প্লিজ সেটা না পারলে অন্য কিছু জরুরিভাবে ব্যবস্থা নিন। দেশ থেকে কিন্তু এখনো করোনা চলে যায়নি।'

বাংলাদেশে টাকা নেওয়ার অনেক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম আছে। সেগুলো থাকতে প্রাচীন যুগের ব্যাংক ড্রাফট সিস্টেম এই ডিজিটাল যুগে কেমনে চলে? তাও আবার রাবির মত প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আল আমিন আহমেদ।

দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষায় শিক্ষার্থীরা

 

আক্ষেপ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল কাদের ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, 'এখন মনে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হওয়াটাই সবচেয়ে বড় পাপ জীবনের আমাদের প্রতি কারও কোন দায় দায়িত্ব নেই, না আছে কোন নিরাপত্তা? না আছে কোন গুরুত্ব। সত্যি মাঝে মাঝে নিজের মনের কাছে প্রশ্ন জাগে আজকে যারা দায়িত্বরত প্রশাসনের দায়িত্ব আছে তার কি কখনো আমাদের মত ছাত্র ছিল না? নাকি দায়িত্ব পাবার পরে ভুলে যায় তারাও একসময় আমাদের মতই ছাত্রছিলো। জাস্ট এই ভাবনাটাই যদি আমাদের শিক্ষকদের হত, প্রতিটি শিক্ষক প্রতিটি ছাত্রের পাশে বট বৃক্ষের ছায়ার ন্যায় আমাদের অভিযোগ, আমাদের দাবি দাওয়া, আমাদের মনের অনুভুতিগুলো কান লাগিয়ে শুনতো, সত্যি ছাত্ররা যেমন পেত আমাদের ন্যায্য অধিকার, শিক্ষকরাও পেত তাদের প্রাপ্য সম্মান।'

ফিসারিজ বিভগের প্রফেসর মাহবুবুর রহমান ফেসবুক স্ট্যাটাসে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে বলেন, 'প্রোভোস্ট না জানি এক-একজন রাষ্ট্রপতি। ওনারা ১২ টার আগে হলে আসবেন না অন্যদিকে বিভাগের চেয়ারম্যানরা শিক্ষার্থীদের অপেক্ষা না করালে ওনারা ক্ষমতার জানান দিতে পারেন না! ওনারা কি জানেন ফরম পূরণের টাকা ব্যাংকে জমা দিতে এখন ৩/৪ ঘন্টা যুদ্ধ করতে হয়। এসি রুমে ঘামে ভিজতে হয়? আজকেসহ ৩ দিন ব্যাংকের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করলাম যা মেনে নেয়া কষ্টকর! একটি আপ-ডেট পদ্ধতির অভাবে যে কাজ ২/৩ ঘন্টায় করার কথা, সে কাজ এখন ২/৩ দিনেও সম্পন্ন করতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা! ডিজিটাল বা়ংলাদেশে রাবি কর্তৃপক্ষের জন্য এটা দুঃখজনক এবং অপ্রত্যাশিত!'

টাকা জমা দিতে আসা অপেক্ষমান শিক্ষার্থীরা

 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, 'করোনাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের 'স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং ভোগান্তি' বিবেচনায় নিয়ে ফর্ম ফিল আপ এবং অন্যান্য ফি প্রদানের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে অনলাইনে করা হোক। আশা করি, শিক্ষার্থী বান্ধব সিদ্ধান্ত গ্রহণে রাবি প্রশাসন জরুরী ভিত্তিতে উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।'

শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) লিয়াকত আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, 'আমরা চেষ্টা করতেছি কিভাবে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি লাঘব করা যায়। এ বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে আমরা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সাথে কথাও বলেছি। ব্যাংকের বুথ বাড়ানোর পাশাপাশি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা জমা নেওয়ার বিষয়ে চিন্তাভাবনা চলছে বলেও জানান তিনি।'

ঢাকা, ১৩ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।