নিয়োগে স্বাক্ষর না দিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন রাবি'র রেজিস্ট্রার


Published: 2021-05-09 00:22:14 BdST, Updated: 2021-06-19 17:30:43 BdST

উমর ফারুক, রাবি থেকে: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদায়ী ভিসি এম আবদুস সোবহানের শেষ কর্মদিবসে দেওয়া ১৪১ জনের নিয়োগ শতভাগ অবৈধ বলেই মনে করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিস্ট্রার আবদুস সালাম। অবৈধ এই নিয়োগে স্বাক্ষর না করতে তিনি আত্মগোপনেও ছিলেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির জিজ্ঞাসাবাদে এমন বক্তব্য দিয়েছেন তিনি। আজ শনিবার দুপুরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কমিটির সঙ্গে সাক্ষাৎকার শেষে বেরিয়ে এসে গণমাধ্যমকে তিনি এসব কথা বলেন।

রেজিস্ট্রার আবদুস সালাম বলেন, ‘আমার কাছে জানতে চাওয়া হয়, আপনি (রেজিস্ট্রার) দায়িত্ব পালনকালে যে নিয়োগ হয়েছে, সে বিষয়ে আপনার মতামত কী?’ এ প্রশ্নে তিনি বলেছেন, নিয়োগটি শতভাগ অবৈধ। কারণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। আর এ কারণেই তিনি নিয়োগের সময় স্বাক্ষর করেননি। তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। এ সময়ে নির্বাহী আদেশে নিয়োগপত্রে ভিসি অন্য একজন উপ-রেজিস্ট্রারকে দিয়ে স্বাক্ষর করিয়েছেন।

তদন্ত কমিটি তাঁর কাছে জানতে চান, এখন তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন কি না? এ ব্যাপারে তিনি বলেন, তিনি নিরাপত্তাহীনতায় এখন আর ভুগছেন না।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদায়ী ভিসি এম আবদুস সোবহান তাঁর মেয়াদের শেষ কর্মদিবসে যে নিয়োগ দিয়েছেন, সেটা অবৈধ ঘোষণা করে গত বৃহস্পতিবার চার সদস্যের তদন্ত কমিটি ঘোষণা করা হয়। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক মুহম্মদ আলমগীরসহ তদন্ত দলের চার সদস্য আজ শনিবার বেলা পৌনে ১১টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখেন।

তাঁরা প্রশাসন ভবনের ভিসি দপ্তরে একে একে নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়ে বিভিন্ন জনের সাক্ষাৎকার নিতে থাকেন। চার সদস্যের এই কমিটির সদস্যরা হলেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক মো. আবু তাহের, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. জাকির হোসেন আখন্দ এবং সদস্যসচিব ইউজিসির পরিচালক (পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়) মোহাম্মদ জামিনুর রহমান।

এই কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। এই কমিটি অবৈধ নিয়োগ ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করবে।

কমিটি গঠনের আদেশে বলা হয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদায়ী ভিসি আবদুস সোবহানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে ইতিমধ্যেই ইউজিসি তদন্ত করেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে ভিসির বিরুদ্ধে নিয়োগ কার্যক্রমসহ আনা অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিতও হয়। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয় গত বছরের ১০ ডিসেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের নিয়োগ কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখতে ভিসিকে অনুরোধ করেছিল।

কিন্তু তা উপেক্ষা করে ভিসি তাঁর মেয়াদের শেষ কর্মদিবসে বিভিন্ন পদে অবৈধ ও বিধিবহির্ভূতভাবে জনবল নিয়োগ করেছেন বলে মন্ত্রণালয় জানতে পেরেছে।

ঢাকা, ৮ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এআইটি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।