চাকরী স্থায়ী হলো রাবি ভিসির জামাতার


Published: 2021-04-04 16:44:36 BdST, Updated: 2021-04-15 13:27:00 BdST

রাবি লাইভ: শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা উদ্দেশ্যমূলকভাবে পরিবর্তন করে যোগ্যতা কমিয়ে দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভিসি এম আবদুস সোবহান ও তাঁর নেতৃত্বাধীন প্রশাসন। এর মাধ্যমে কম যোগ্যতায় বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শিক্ষক হন ভিসির কন্যা ও জামাতা। নিয়োগ শর্ত শিথিল করে জামাতা ও ইনস্টিটিউট অব বিজনেস এন্ড অ্যাডমিনস্ট্রেশনের (আইবিএ) শিক্ষক এটিএম শাহেদ পারভেজ ও মেয়ে সানজানা সোবহানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ দেয়ায় দেশে তুমুল সমালোচনা মুখে পড়েন ভিসি প্রফেসর এম আবদুস সোবহান। তবুও সমালোচনাকে এড়িয়ে গিয়ে নানা যুক্তি উপস্থাপন করেন তিনি।

এবার মেয়ের জামাতাসহ ৫ শিক্ষকের চাকরি স্থায়ীকরণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

গতকাল শনিবার (৩মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর এম. আব্দুস সোবহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০৫তম সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষকদের এই চাকরী স্থায়ীকরণ পাশ হয়েছে বলে নিশ্চিত করে সিন্ডিকেট সদস্য প্রফেসর ড. আব্দুল আলীম জানান, আইবিএ’র বোর্ড অব গভর্নরসের সুপারিশক্রমে ইনস্টিটিউটের ৫ শিক্ষকের চাকরি স্থায়ীকরণ করা হয়। তারা ২ বছরের প্রভিশন শেষ করে চাকরি স্থায়ীকরণের সুযোগ পেলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ অনুযায়ী এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। প্রভিশন শেষে সবার চাকরিই স্থায়ী করা হয়।

জানা গেছে, ভিসির জামাতা এটিএম শাহেদ পারভেজ ২০১৯ সালে আইবিএ’তে প্রভাষক পদে নিয়োগ পান। তাঁর স্নাতকোত্তর পর্যায়ে সিজিপিএ ৩ দশমিক ৫ এর নিচে। তিনি মার্কেটিং বিভাগ থেকে পাস করেছেন। তাঁর ব্যাচে যিনি প্রথম হয়েছেন তাঁর সিজিপিএ ৩ দশমিক ৮৯। এই ব্যাচে ৩ দশমিক ৫ বা এর ওপরে সিজিপিএ পেয়েছেন ৬৬ জন। ৬৭ তম হয়েও শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় দেশব্যাপী তা সমালোচনার জন্ম দেয়।

এরআগে,গত ডিসেম্বরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. এম আব্দুস সোবহান, প্রো-ভিসি প্রফেসর চৌধুরী মো. জাকারিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর এম এ বারীর বিরুদ্ধে শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন।

ওই প্রতিবেদনে ইউজিসি ভিসির নিজের এবং তার ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের সম্পদ, আয়ের উৎস, ব্যাংক হিসাব এবং আয়-ব্যয়ের বিবরণী সরকারের বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে অনুসন্ধানের জন্য সুপারিশ করেছে। একই সঙ্গে ইউজিসির তদন্তে অসহযোগিতা করায় অবিলম্বে পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর এম এ বারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ভিসি, প্রো-ভিসি ছাড়াও প্রফেসর মুজিবুর রহমান, প্রফেসর আব্দুল হান্নান, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর গাজী তৌহিদুর রহমান, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর শিবলী ইসলাম ও সাখাওয়াত হোসেন টুটুলের সম্পদ অনুসন্ধানের জন্যও সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, ভিসিসহ অন্যদের বিরুদ্ধে ২৫টি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে ভিসি এম আবদুস সোবহান দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালনকালে ‘ভিসির বাসভবনে’ ওঠার পর থেকে প্রফেসর হিসেবে বরাদ্দ পাওয়া ডুপ্লেক্স বাড়িটি কাগজে-কলমে ২০১৭ সালের ২৬ জুন ছেড়ে দিয়েছেন বলে দেখালেও প্রকৃতপক্ষে দেড় বছরের বেশি সময় যাবত মেরামতের নাম করে তার ব্যক্তিগত আসবাবপত্র ওই বাড়িতে রাখেন। যে কারণে অন্য কোনো প্রফেসরকে ওই বাড়ি বরাদ্দ দেওয়া যায়নি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ লাখ ৬১ হাজার ৬০০ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এজন্য দায়ী ব্যক্তিদের কাছ থেকে ওই অর্থ আদায়ের পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তদন্ত প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদন প্রো-ভিসি চৌধুরী মো. জাকারিয়া ও প্রফেসর আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে নিয়োগ প্রার্থীর সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের সত্যতা পাওয়া গেছে।

এছাড়া ভিসিও শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি করেছেন। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতিকে (আচার্য) অসত্য তথ্য দিয়েছেন। সেই প্রমাণও পাওয়া গেছে। ভিসি শিক্ষক নিয়োগের নীতিমালা শিথিল করে নিজের মেয়ে এবং জামাতাকে নিয়োগ দিয়েছেন।

প্রতিবেদনে করা সুপারিশে তদন্ত কমিটি বলেছে, ভিসির এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদাশীল পদের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তদন্ত কমিটি নৈতিকতা বিবর্জিত এ ধরনের কর্মকাণ্ড জরুরিভিত্তিতে বন্ধ করার জন্য পদক্ষেপ নিতে বলেছে। কমিটি ৩৪ জন অপেক্ষাকৃত কম যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রমাণও পেয়েছে। অভিযুক্তরা তাদের থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে নিয়োগ দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এ অবস্থায় ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশে পরিচালিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা অনুসরণ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও নতুন নীতিমালা প্রবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে।

ঢাকা, ০৪ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//ওএফ//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।