রাবিতে বিসিএস ফরম পূরণে প্রতারণা: শঙ্কায় তিন শতাধিক চাকরী প্রত্যাশী


Published: 2018-11-15 12:10:38 BdST, Updated: 2018-12-11 00:13:17 BdST

রাবি লাইভ: বিসিএস ফরম পূরণে প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। একারণে পরীক্ষা নিয়ে শঙ্কায় তিন শতাধিক চাকরী প্রত্যাশী। এনিয়ে চলছে নানান হিসাব-নিকাশ। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে  (রাবি) এই ঘটনা ঘটেছে। জানাগেছে বাংলাদেশ কর্ম কমিশন (বিসিএস) এর ৪০ তম প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফরম পূরণে ভুল তথ্য দিয়ে আবেদন করার প্রতারণার কারণে পরীক্ষায় বসতে পারা নিয়ে শঙ্কায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী।

এদিকে অভিযুক্ত দোকানীদেরকে পুলিশে সোপর্দ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে সরকারী কর্মকমিশন প্রতারণার শিকার শিক্ষার্থীদের জন্য আদৌ কোন সুযোগ দিবে কিনা এ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে শিক্ষার্থীরা।

পরীক্ষার সমস্যা নিয়ে প্রষাশনের সাথে বৈঠক চলছে।

 

এর আগে বুধবার রাতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে একজন সাংবাদিক এ বিষয়ে অনুসন্ধ্যান করেন। পরে বৃহস্পতিবার সকালে প্রতারণার বিষয়টি শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করেন তিনি। অভিযুক্তদের আটক করে প্রক্টর অফিসে দুপুর পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে বেলা দুইটার দিকে তাদেরকে মতিহার থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এই অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিন জনকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে তাদেরকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। সোপর্দকৃতরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহন মার্কেটের স্পন্দন কম্পিউটারের মালিক মোস্তাক আহমেদ মামুন ও ভাই ভাই কম্পিউটারের আরিফ হোসেন ও রফিকুল ইসলাম।

জানা যায়, প্রতিবন্ধী না হওয়া স্বত্ত্বেও প্রায় তিন শতাধিক প্রার্থীকে বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্য ইচ্ছাকৃত প্রতিবন্ধি কোটায় ফরম পূরণ করে দিয়েছে অভিযুক্ত দোকানীরা। যদিও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোটা ব্যতিত কর্মকমিশন নির্ধারিত ফি ৭০০ টাকা নিয়েছে দোকানী।

আর প্রতিবন্ধী কোটায় ১০০ টাকায় ফরম পূরণ করায় দোকানীর পকেটে গেছে বাকি ৬০০ টাকা। সকালে দোকানীর এমন উদ্দেশ্যমূলক কাজের বিষয়টি চক্ষুগোচর হলে সাংবাদিকসহ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেন। এর প্রেক্ষিতে তাদেরকে আটক করে প্রক্টর দপ্তরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে পুলিশে দেওয়া হয় তাদেরকে।

অভিযুক্তদের পুলিশে সোপর্দ করা হলেও এবারের বিসিএস পরীক্ষায় আদৌ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বসতে পারবেন কিনা এ নিয়ে শংকা প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা। জুবায়ের আহমেদ নামের এক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত ফরম পূরণের সময় দেওয়া আছে। পিএসসি নিজেদের মতো করে চলে। তারা যদি আমাদেরকে সুযোগ না দেয় বা এর মধ্যে যদি বিষয়টি ঠিক করা না যায় তাহলে পরীক্ষায় বসা অনিশ্চিত হয়ে যাবে।

আটককৃতদের পুলিশে ভ্যানে দেখা যাচ্ছে।

 

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের আশংকার কোন কারণ নেই বলে জানিয়ে সরকারি কর্ম কমিশনের বরাত দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. লায়লা আরজুমান বানু ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, পিএসসির সাথে আমাদের কথা হয়েছে। আজ সন্ধ্যা ৬ টার মধ্যে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের একটি তালিকা পাঠানোর কথা জানিয়েছেন তারা। এর পর পিএসসি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য টাকা প্রদানের ৭২ ঘন্টা সময় বাড়ানো হবে।

এদিকে ভুক্তোভোগী হিসাববিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মোমিন হোসেন বাদি হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণা করে টাকা নিয়েছে। দোকানীদেরকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছি আমরা। এর আগে তাদের কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। যেটি শিক্ষার্থীদেরকে ফেরত দেওয়া হবে। পিএসসির সাথে কথা হয়েছে শিক্ষার্থীদের কোন সমস্যা হবে না বলে আশাবাদি আমরা।

ঢাকা, ১৫ নভম্বের (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।