রাবিতে শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে ছাত্রলীগ নেতার মুক্তিপণ আদায়


Published: 2018-11-09 15:11:44 BdST, Updated: 2018-11-16 22:32:26 BdST

রাবি লাইভ: শিক্ষার্থীকে আটকে ছাত্রলীগ নেতা মুক্তিপণ নিয়ে তোলপাড় চলছে। অনেকেই বলছেন এধরনের ঘটনা মামুলি ব্যাপার। নিরিহ ও প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এধরনের নানান ঘটনা প্রায়ই ঘটছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি)। এব্যাপারে প্রক্টরের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে নানান প্রশ্ন। তিনি পক্ষপাতমূলক কাজ করছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, বড় ভাইদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কথা বলে রাবিতে এক শিক্ষার্থীকে ডেকে এনে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায় করার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রলীগের এক নেতা ও কর্মীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ওমর ফারুক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী।

বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে আটকে রেখে বিশ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা ঘটে। এর আগে সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে ডেকে এনে হলের ১৯১ নম্বর কক্ষে ঘন্টাব্যাপী মারধর করা হয়। তাৎক্ষণিক বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর লুৎফর রহমানকে জানানো হলেও ছাত্রলীগ জড়িত থাকায় কোন পদক্ষেপ নেয় নি।

এঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন, একই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ কর্মী নাঈম এবং সহ-সম্পাদক সাফি। সাফি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর অনুসারী।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ওমর ফারুক ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ‘নাঈম বেশ কয়েকদিন ধরে আমাকে উত্যক্ত করছিলো। বড় ভাইদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিবে বলে একাধিকবার ফোন দেন। গত বুধবার আমাকে নিয়ে আসার জন্য মেসে যান। পরে আমার পরীক্ষা আছে বলে তাদের জানাই এবং তাদের সঙ্গে যেতে অপরাগতা প্রকাশ করি।

এরপর বৃহস্পতিবার বিকেলে বড় ভাইদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিবেন বলে আবার আমাকে মেস থেকে আনতে যান। সেখান থেকে নিয়ে এসে আমাকে সোহরাওয়ার্দী হলের এক ছাত্রলীগ নেতার কক্ষে নিয়ে যায়। সেই কক্ষে আমাকে আটকে রেখে আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে।

আব্বুর কাছে টাকার জন্য আমাকে দিয়ে ফোন দেওয়ায়। তাদের কাছে আমার পরিবারের আর্থি অবস্থার কথা জানালে সর্বশেষ পর্যায়ে গিয়ে ২০ হাজার টাকায় নেমে আসে। আমার বাবা একজন কৃষক হঠাৎ করে এতোগুলো টাকা কিভাবে দিবে একথা বলার পরেও বাবার কাছে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরে (০১৯১১২৪৪২৫৫, ০১৮২২৩৯৪৮৮৮) এই দুই বিকাশ নাম্বারে বাবা এবং বড় ভাই কয়েক যায়গা থেকে টাকা ধার করে বড় ভাই ১০ হাজার এবং বাবা ১০ হাজার টাকা পাঠায়।

ওই শিক্ষার্থী ফারুক আরো জানান, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা আমাকে শিবির বলে পুলিশে ধরিয়ে দিবেন বলে হুমকি দেন। এ সময় ছাত্রলীগ নেতা সাফি রড দিয়ে আমাকে বেধড়ক মারধর করেন। আমি যতবার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানাই তারা ততবার আমাকে মারধর করেন।

পরে বিষয়টি আমার জেলা সমিতির এক বড় ভাইকে জানালে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে এ বিষয়ে অবহিত করেন। কিন্তু এ ঘটনায় ছাত্রলীগের নাম জড়িত থাকায় প্রক্টর আমাকে এড়িয়ে যান। পরে ওই দিন রাত ১১টায় বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে জানালে তারা বিষয়টি দেখেন ও আমাকে বিশ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হবে বলে আশ্বাস্ত করেন।’

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র ওমর ফারুককে আটকে রেখে বিশ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে। এ ঘটনায় আমাদের এক নেতা জড়িত আছে বলে জানতে পারি। পরে আমি ও আমার সভাপতি ভুক্তভোগীর কাছে যাই এবং তাদের পুরো টাকা উদ্ধার করে দেওয়ার আশ্বাস দেই।’ রুনু আরো বলেন, ‘আমরা অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিবো।’

এবিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর লুৎফর রহমান বলেন, ‘গতকাল সন্ধ্যায় একজন ছেলে আমাকে ফোন করে বিষয়টি জানালো। এরপর আমি পুলিশ প্রশাসন ও গোয়েন্দাদের জানিয়েছি। পরে জানতে পারলাম রুনু গিয়ে নাকি বিষয়টি সমাধান করে দিয়েছে।’

 

 

 

ঢাকা, ০৯ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।