বানান ভুল নিয়ে না লিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে লিখেন : রেজিস্ট্রার


Published: 2021-07-28 22:33:12 BdST, Updated: 2021-09-28 11:11:57 BdST

ইবি লাইভ: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মু. আতাউর রহমান বলেন, ‘কোথায় কোন বানান ভুল হচ্ছে এসব না লিখে উন্নয়নমূলক কাজ হচ্ছে এসব লিখেন।’ বুধবার (২৮ জুলাই) রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে জারি করা একাধিক প্রজ্ঞাপনে ভুলের বিষয়ে জানতে চাইলে গণমাধ্যমকে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন ‘চিঠিগুলো কম্পিউটার অপারেটর করে থাকে। এই চিঠিটি (১৪ জুলাইয়ের প্রজ্ঞাপন) হয়তো নিচ তলায় হয়েছে। বন্ধের মধ্যে কখন, কোথায় চিঠি হয় খোঁজ থাকে না।’

প্রজ্ঞাপনগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৪ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিবস ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে ছুটি সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করে রেজিস্ট্রার দপ্তর৷ সেখানে ছুটির তারিখে সাল উল্লেখের ক্ষেত্রে ভুল লক্ষ্য করা যায়।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আমকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ২৭ এপ্রিল এক সহকারী প্রক্টরকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ সংক্রান্ত একটি চিঠিতে ভাষায় অপপ্রয়োগের অভিযোগ পাওয়া যায়। এনিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা হয়।

আরো পড়ুন: ভুল ও জোড়াতালিতে চলছে ইবির রেজিস্ট্রার দপ্তরের প্রজ্ঞাপন

পরেরদিন ২৮ এপ্রিল রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি বৃদ্ধির লক্ষ্যে জারি করা একটি প্রজ্ঞাপনে জোড়াতালি লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া ১৪ জুলাই কর্পোরেট লোনধারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে রেজিস্ট্রার দপ্তর একটি অফিস আদেশ জারি করে। সেখানে ‘Covid’ এর পরিবর্তে ‘Covit’ এবং ‘আগস্ট’ এর জায়গায় ‘আগষ্ট’ লেখা হয়।

এছাড়া বিভিন্ন সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যানারে প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুর নামের বানানেও ভুল লক্ষ্য করা যায়। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বেশ কয়েকটি বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো, কোনো সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নাম কিংবা স্বাক্ষর নেই বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

এর আগে গত বছর ৭ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২০২১ বর্ষের ডেস্ক ক্যালেন্ডারে বানান ভুলের প্রেক্ষিতে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আব্দুল লতিফকে শোকজ ও পদাবনমনও করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রাসেলের নামের ‘শেখ’ বানানের শেষে ‘এইচ’ না থাকার ভুল লক্ষ্য করেন ভিসি।

সাজ্জাদ হোসেন নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘রেজিস্ট্রার দপ্তর হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ দপ্তর। এ জায়গা থেকে প্রতিনিয়ত বানান ভুল গ্রহণযোগ্য নয়৷ রেজিস্ট্রার দপ্তরের প্রত্যেককে সর্বোচ্চ যাচাই-বাছাই করে প্রজ্ঞাপন/চিঠি/অফিস আদেশ প্রকাশ করা উচিত।’

আরাফ মাহি নামের এক শিক্ষার্থী এক ফেসবুক পেজের কমেন্ট বক্সে লেখেন, ‘টাকা দিয়ে চাকরি নিলে এগুলো দেখা স্বাভাবিক। একটি উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এটা দেখা আসলেই লজ্জাজনক।’

নাজমুন নাহার কণা নামের আরেক শিক্ষার্থী লেখেন, ‘কম্পোজ করার সময় ও পরে কোনো কর্তৃপক্ষ মনে হয় তাকিয়েও দেখে না, যে কি লেখা হলো। তাই তো বানানের এ বেহাল দশা।’

আপিব আহমেদ নামের এক শিক্ষার্থী লেখেন, ‘অদক্ষদের নিয়ে রেজিস্ট্রার অফিস চালালে বানানের দশা এমনই হয়। যেখানে চতুর্থ শ্রেণির একজন কর্মচারী প্রমোশন পেয়ে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হয়ে যাচ্ছে, সেখানে তাদের দ্বারা কি আশা করা যায়?’

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. কাজী আখতার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এ জায়গা থেকে এ ধরনের ভুল কখনো কাম্য নয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়। এ বিষয়ের উপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজর দেওয়া উচিত।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. শেখ আবদুস সালাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের হাতে সময় কম ছিলো তাই হয়তো তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে এ ভুল হয়ে গেছে (১৪ জুলাইয়ের প্রজ্ঞাপনের প্রেক্ষিতে)। তবে বর্তমান সময়ে ‘কোভিড’ বানানে ভুল মেনে নেওয়ার মতো নয়। গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে থেকে  এসব ভুলের ব্যাপারে তাদের সতর্ক হওয়া উচিত।’

ঢাকা, ২৮ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।