মোদিঃ একদিকে প্রতিরোধ, অন্যদিকে স্বাগত মিছিল


Published: 2020-03-05 17:10:42 BdST, Updated: 2020-04-05 10:22:55 BdST

ঢাবি লাইভঃ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী অনুষ্ঠানে মোদি আসা নিয়ে বিরাজ করছে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি। বাংলাদেশে মোদির আগমন ঘিরে বিভিন্ন প্রতিরোধ মূলক কর্মসূচি দিয়েছে ছাত্র অধিকার পরিষদ ও বামধারার সংগঠনগুলো। অন্যদিকে আজ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ঘেষণা দিয়েছে স্বাগত মিছিলের।

দিল্লিতে নাগরিকত্ব সংশোধন আইন(সিএএ) নিয়ে সংঘর্ষ, সীমান্ত হত্যা, মুসলিম নির্যাতন ইত্যাদি কারণে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ অনুষ্টানে মোদির আমন্ত্রণে ক্ষিপ্ত ছাত্র অধিকার পরিষদ ও বামধারার সংগঠনগুলো। তাই বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি দিয়েছেন তারা।

গত ২২ফেব্রুয়ারি এক বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, বঙ্গবন্ধু কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা নয়, তিনি হলেন বাংলার সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের নেতা। তার জন্মদিনে কখনো মোদি আসতে পারে না। আর যাদি মোদি আসে তাহলে দেশে ছাত্রসমাজের রক্তের গঙ্গা বয়ে যাবে "

ভিপি নুর বলেন, সাম্প্রতিক দাঙ্গাবাজ আরএসএস সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্য মোদি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকীতে যদি বাংলাদেশে আসে তাহলে বাংলাদেশের মানুষকে অপমান করা হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অপমান করা হবে। মোদির মতো একজন সাম্প্রতিক ব্যক্তিকে কখনো বঙ্গবন্ধুর শতবার্ষিকীর মত পবিত্র অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে দেয়া হবে না।

ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে ছাত্র ফেডারেশন মোদিকে বয়কট করতে ৫মার্চ ভারতীয় হাইকমিশনারের সামনে অবস্থান ও ১১মার্চ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন।

এরই মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ভারতকে বাংলাদেশের পরমবন্ধুরাষ্ট্র ঘোষণা দিয়ে মোদির আগমন উপলক্ষে স্বাগত মিছিলের ডাক দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ

আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতৃবৃন্দ (সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন) জানান, মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পরমবন্ধু রাষ্ট্র ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আগমন উপলক্ষে ৯মার্চ বর্ণাঢ্য স্বাগত মিছিল করা হবে। স্বাগত মিছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন থেকে শুরু হয়ে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করবে। সারাদেশে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সকল ইউনিটে আগামী ১০ মার্চ থেকে ১৬ মার্চ পর্যন্ত স্বাগত মিছিল কর্মসূচী পালন করবে।

তারা বলেন, বিভিন্ন দেশি বিদেশী গণমাধ্যমে আমরা দেখেছি ভারতের নয়াদিল্লীতে মুসলিমদের পাহারায় এক হিন্দু বোনের বিয়ে হচ্ছে এবং হিন্দুদের পাহারায় মুসলিমরা পবিত্র জুম্মার নামাজ আদায় করছেন। এথেকে স্পষ্টত বুঝা যায় যে, এটি কোন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা নয়।

বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী গোষ্ঠী জামাত-শিবির-বিএনপি-নুরু গংরা নয়াদিল্লীর ঘটনাকে অপব্যাখ্যা দিয়ে বাংলাদেশের শান্তি প্রিয় মানুষের মাঝে বিভ্রান্ত ছড়ানোর চেষ্টা করছে এবং বাংলাদেশ-ভারতের অকৃত্রিম বন্ধুত্বের সম্পর্ক বিনষ্টের ঘৃণ্য অপচেষ্টা চালাচ্ছে যা সম্প্রতি জামাত-শিবির-বিএনপি-নুরু গংদের শীর্ষ নেতৃত্বের ভারত বিরোধী বক্তব্যে প্রমাণিত হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে আরো বলেন, সম্প্রতি মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আসাকে কেন্দ্র করে দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র চলছে। বিএনপি-জামাত ও নুরুরা মুজিববর্ষের গৌরবময় ঐতিহাসিক অনুষ্ঠান বানচালের অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি তা কখনোই মেনে নিবে না এবং সকল ষড়যন্ত্র শক্ত হাতে দমন করবে।

ঢাকা, ০৫ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//টিআর

 

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।