জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির নির্দেশ, স্যোশাল মিডিয়ার অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাএমপিদের প্রতি শেখ হাসিনা যে কারণে নাখোশ


Published: 2021-09-10 05:42:18 BdST, Updated: 2021-10-28 11:00:53 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী নাখোশ। তিনি অনেক কিছুই স্বাভাবিক ভাবে মেনে নিতে পারছেন না। সারা বাংলায় দলের দৃশ্য দেখে তিনি হতবাক। মনক্ষুন্ন। সারাদেশের বিভাগ থেকে শুরু করে জেলা, উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পর্যন্ত নেতা-কর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও কোন্দল তাকে আহুত করেছে। এসব দ্বন্দ্ব, কলহ নিরসন করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য এমপিদের প্রস্তুতি নেয়ার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। পাশাপাশি এমপিদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে যেন দ্বন্দ্বের সৃষ্টি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

এদিকে স্যোশাল মিডিয়ার অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াসহ নানা নির্দেশনা দেন দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা। ০৯ সেপ্টেম্বর গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেছেন বলে উপস্থিত কয়েকজন নেতা নিশ্চিত করেন। দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দলের নানা সমীকরণের পর একজন এমপি হন। এমপি হওয়ার পর পরেই অনেকে দলকে ইচ্ছেমতো পরিচালনার চেষ্টা করেন। এমনকি তৃণমূলের দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের দূরে সরিয়ে দেন। আবার সব কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে কেউ কেউ উপজেলার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বনে যান।

সবকিছু এমপিদের নিতে হবে কেন? দলের উপর এমপিদের খবরদারি চলবে না। দল চলবে নিজস্ব গতিতে। কমিটি হবে নেতাদের সমন্বয়ে। এমপি দলকে সহযোগিতা করবেন। কোনো বাড়াবাড়ি বরদাস্ত করবো না। আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় সাংগঠনিক সম্পাদকদের রিপোর্টে এমপিদের সঙ্গে নেতাকর্মীদের দূরত্ব, দ্বন্দ্ব ও কোন্দল উঠে এসেছে। এ নিয়ে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এমপি ও জেলার নেতাকর্মীদের দূরত্ব দূর করে একে-অপরের সহযোগী মনোভাব নিয়ে এগোতে হবে। রিপোর্ট উপস্থাপন করতে গিয়ে ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, মাদারীপুর অনেকজন কেন্দ্রীয় নেতার জেলা। এখানেই কোন্দল বেশি। দলীয় কোন্দল নিরসনে দলীয় প্রধানের হস্তক্ষেপ কামনা করেন মির্জা আজম। বিষয়টি সকলকে নাড়া দিয়েছে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, শরীয়তপুরসহ বিভিন্ন মেয়াদ উত্তীর্ণ জেলাগুলোয় দ্রুত সম্মেলন করতে বলেন শেখ হাসিনা। জেলাগুলোতে দুই নেতাকে (সভাপতি-সম্পাদক) এক করতে না পারলে তাদের সরিয়ে প্রথম সহ-সভাপতি ও প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককে সামনে নিয়ে এসে হলেও দ্বন্দ্ব নিরসনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। স্যোশাল মিডিয়ার অপপ্রচারের বিষয়ে সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দল যত শক্তিশালী হবে, দেশ যত এগিয়ে যাবে, ষড়যন্ত্র তত দানা বাঁধবে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে এই ষড়যন্ত্র আরও বাড়বে। এখনই দেশি-বিদেশি নানা সংস্থা মিথ্যা তথ্য ও অপপ্রচার চালাচ্ছে। এর বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণসহ দলীয় নেতাকর্মীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জবাব দিতে হবে।

প্রয়োজনে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। এসময় দলের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদকে বিষয়গুলো দেখভালের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
সভার শুরুতে সূচনা বক্তব্য রাখেন দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক সচরাচর চার মাস বা দুই মাস পর করতাম। কিন্তু করোনার কারণে সেগুলো সময়মতো করতে পারিনি। এখন করোনা কিছুটা কমেছে।

এছাড়া আমি গতবার জাতিসংঘের অধিবেশনে যেতে পারিনি। এবার যাচ্ছি। তাই মনে করলাম একটা সভা করি। প্রধানমন্ত্রীর সূচনা বক্তব্যের পরে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ, ১৫ আগস্টের নিহতসহ আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতাদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। রীতি অনুযায়ী এরপর সভায় শোকপ্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। আমরা সেভাবেই কাজ করছি।

ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।