''ধর্ষকের দল আওয়ামী লীগ ও তাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ''


Published: 2020-09-30 01:34:21 BdST, Updated: 2021-01-27 03:15:52 BdST
ঢাবি লাইভ: ধর্ষণবিরোধী গ্রাফিতি অঙ্কন কর্মসূচীতে ছাত্র ইউনিয়ন নেতাদের উপর পুলিশি হামলা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে মশাল মিছিল ও সমাবেশ করেছে ছাত্র ইউনিয়ন। সমাবেশে ইউনিয়ন নেতারা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগকে ধর্ষকের দল এবং পুলিশকে ধর্ষকের পৃষ্ঠপোষক বলে মন্তব্য করেন।
 
আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর পল্টন মোড় থেকে ছাত্র ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী মশাল মিছিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সমাবেশ করেন।
 
গতকাল সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে বেইলি রোডের ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের সামনে সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ঘটে যাওয়া ধর্ষণের প্রতিবাদে গ্রাফিতি আঁকিছিলেন ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা মহানগর সংসদের সভাপতি জহর লাল রায় এবং শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক সাদাত মাহমুদ।
 
এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এক পর্যায়ে পুলিশের সাথে তাদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এ সময় তাদের জোর করে পুলিশের ভ্যানে তোলে রমনা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। থানায় ডিউটি অফিসারের রুমে এবং পরবর্তীতে অন্ধকার রুমে ছাত্র ইউনিয়ন নেতাদের ওপর মারধরের অভিযোগ উঠেছে। আজ মঙ্গলবার সকালে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
 
 সাদাত মাহমুদ বলেন, "আমরা গ্রাফিতি অঙ্কনের সময় পুলিশ এসে আমাদের ভন্ড বলে সম্বোধন করে। আমাদের নারী কমরেডদের পোশাক নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এটা আর প্রশ্নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাই।"
 
সাদাত বলেন, "কয়েকদিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস নাকি এখানে ঘোষণা দিয়েছে ধর্ষকদের কোন দল নাই। আজকে এখানে ঘোষণা দিতে চাই, ঘর্ষকদের একটা দল আছে সেটা হলো আওয়ামী লীগ। আর তাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ। ধর্ষকদের একটা রাষ্ট্রীয় বাহিনী আছে এর নাম বাংলাদেশ পুলিশ যারা ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা দেই না যারা ধর্ষণ করে, নিপীড়ন করে, পাহাড়ে সেনাবাহিনী ও সেটেলাররা মিলে আধিবাসী নারীদের ধর্ষণ করে তাদের আশ্রয় দেই।"
 
ঢাকা মহানগর সভাপতি জহর লাল রায় বলেন, রাষ্ট্রীয় বাহীনির যারা ধর্ষণ করে তাদের প্রতিহত না করে দেশকে ধর্ষক মূক্ত করা যাবে না। কাল রাতে পুলিশ আমাদের প্রশ্ন করেছে 'এতরাতে নারী কমরেড এখানে কী করে? নারী এই পোষাকে কী করে?'
 
পুলিশের এই মানসিকতা রাষ্ট্রের জন্য হুমকিসরূপ বলে মন্তব্য করেন তিনি।" জহর লাল বলেন, "রমনা থানায় নিয়ে গিয়ে ডিউটি অফিসারের রুমে আমাদের মারধর করা হয়। পরে অন্ধকার রুমে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়।"
 
ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল সমাবেশে বলেন, "আমাদের একার আন্দোলনে দেশ ধর্ষক মূক্ত হবে না। আমরা আজকের বাংলাদেশ ও সেই পাকিস্তানি বাহীনির মধ্যে কোন পার্থক্য দেখি না। ছাত্র ইউনিয়ন প্রতিষ্টার শুরু থেকে নারীর জন্য নিরাপদ রাষ্ট্রের সংগ্রাম করে যাচ্ছে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে ভিকারুননিসা স্কুলের দেয়ালে গ্রাফিতি আঁকতে গিয়ে পুলিশের হামলার শিলার হয়েছে আমাদের কর্মীরা।"
 
নোবেল বলেন, "পুলিশ গ্রাফিতি অঙ্কনে বাধা দেয় এবং প্রশ্ন করে অনুমতি না নিয়ে ভিকারুননিসার দেয়ালে গ্রাফিতি অঙ্কন কেন করেছি। আমরা পুলিশ কে বলতে চায় আমরা গণভবনের দেওয়ালেও গ্রাফিতি করবো। প্রধানমন্ত্রীকেও জানাতে চায় ঢাবি শিক্ষার্থীকে কেন ধর্ষণের বিচার চেয়ে মামলা করতে হবে।" 
 
নোবেল বলেন, "ধর্ষণের সাথে ক্ষমতা কাঠামো জড়িত। যারা ক্ষমতা কাঠামোর সাথে জড়িত তারা ধর্ষণ করে। ক্যান্টেনম্যান্টের মতো নিরাপদ জায়গায়ও ধর্ষণ হয়। বাংলাদেশের বিচারহীনতার সংস্কৃতি এর জন্য দায়ী। ক্ষমতার সাথে জড়িতরা ধর্ষকদের প্রশ্রয় দেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।"
 
সমাবেশে ধর্ষণের বিরুদ্ধে সপ্তাহজুড়ে প্রত্যেক জেলায় গ্রাফিতি অঙ্কণ করবে ঘোষণা দিয়েছে ছাত্র ইউনিয়ন। নেতাদের আটকের সাথে জড়িত রমনা থানার এসআইকে প্রত্যাহার না করলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও করার ঘোষণা দেন।
 
উল্লেখ্য, সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ছাত্র ইউনিয়ন ঢাবি সংসদের এক বিবৃতিতে বলেন, " 'ধর্ষণ ও নারী নিপীড়নকে বৈধতা দেয়ায়’ ঢাবি ছাত্রলীগ সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাসকে শিক্ষার্থীরা আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দেখতে চায় না বলে মন্তব্য করেছে ছাত্র ইউনিয়ন।" একই দিন সন্ধায় পাল্টা বিবৃতি দেই ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। 
 
বিবৃতিতে ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদকে বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক-মৌলবাদী-উগ্র ধর্মীয় গোষ্ঠীর খোলসে রূপ লাভ করেছে বলে মন্তব্য করেন ঢাবি ছাত্রলীগ।
 
ঢাকা, ২৯ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআইটি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।