দু'দলেই রায়হানের প্রভাব!ছাত্রদল নেতা যেভাবে হলেন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক


Published: 2021-06-19 11:32:32 BdST, Updated: 2021-07-25 00:34:10 BdST

ফরিদপুর লাইভ: বাদ বিচার নেই। কে কোথায় কিভাবে নেতা হচ্ছেন এই হিসাব নেই খোদ ছাত্রলীগে। এমনটি ঘটে ছাত্রদলেও। এলাকাবাসীর মাঝে নানান ক্ষোভ বিরাজ করছে। একই ব্যক্তি ছাত্রদলের আবার ছাত্রলীগেরও নেতা হয়েছেন। অনেকেই এটাকে মেনে নিতে পারছেন না। বলছেন এটা আসলেই অনৈতিক। এমন ঘটনা তারা আর কোন সময় শুনেননি। এ ব্যাপারে তদন্ত দাবী করছেন তারা। বেশ কিছু দিন ধরে এনিয়ে এলাকায় চলে নানান সমালোচনা ও মুখরোচক আলোচনা। নানান তর্ক ও বিতর্ক চলে হর হামেশা। এমন একটি ঘটনা ঘটেছে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায়। জানা গেল আলফাডাঙ্গা পৌরসভার আলফাডাঙ্গা মৌজার বাসিন্দা মো. রায়হান রনি (২৩)। তিনি পড়াশোনা করেন যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি আলফাডাঙ্গা পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে থাকা অবস্থাতেই পৌর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ ভাগিয়েছেন। এনিয়ে সমালোচনার যেন অন্ত নেই।

এ ব্যাপারে ছাত্রদল ও ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস আগে গত ২৩ জানুয়ারি জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক তানজিমুল হাসান ২১ সদস্যবিশিষ্ট আলফাডাঙ্গা পৌর ছাত্রদলের একটি আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেন। ওই কমিটির একজন আহ্বায়ক, নয়জন যুগ্ম আহ্বায়ক, একজন সদস্যসচিব এবং বাকি সবাই সদস্য।

ঘোষিত ওই কমিটির ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছে রায়হান রনির নাম। অপর দিকে ১২ জুন আলফাডাঙ্গা পৌর ছাত্রলীগের একটি আংশিক কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। পৌর ছাত্রলীগের ওই কমিটি সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক—এই তিন সদস্যবিশিষ্ট। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তামজিদুল রশিদ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক ফাহিম আহমেদ দলীয় প্যাডে স্বাক্ষর দিয়ে এ কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন।

ঘোষিত ওই পৌর কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে আছেন মোহাম্মদ রায়হান রনির নাম। এলাকাবাসী জানায়, ছাত্রদলের রায়হান রনি ও ছাত্রলীগের মোহাম্মদ রায়হান রনি একই ব্যক্তি। এ বিষয়ে রায়হান রনি বলেন, ছাত্রদলের সাথে তার কোন ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। তিনি আজীবন ছাত্রলীগ করেছেন। তিনি ও ছাত্রদলের রায়হান রনি এক ব্যক্তি নন।

ছাত্রলীগ-ছাত্রদল

 

এ নামের কাউকে তিনি চেনেন না। এ নামে আলফাডাঙ্গায় কেউ আছেন বলেও তাঁর জানা নেই। রায়হান বলেন, আলফাডাঙ্গায় কোনো ছাত্রদল নেই। ছাত্রদলের কাউকে খুঁজেও পাওয়া যাবে না। রায়হান আরো বলেন, ওরা সবাই গর্তে ঢুকে গেছে।

এদিকে রায়হানের ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের কমিটিতে থাকার অভিযোগ ওঠায় তদন্ত শুরু করেছে জেলা ছাত্রদল। সংগঠনের সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, রনি আমাদের দলের একজন, এমন প্রশ্ন তোলায় আমারা এ ব্যাপারে তদন্ত শুরু করেছি। তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হলে রনির বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ব্যাপারে ছাড় দেয়ার প্রশ্নই আসে না। সে যেই হোক।

অন্যদিকে সদ্য ঘোষিত আলফাডাঙ্গা পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি পদ পাওয়া রায়হান আজিজ খান বলেন, তিনি যত দূর জানেন, তাতে রায়হান রনি ছাত্রলীগের সঙ্গে ছিলেন। অন্য দলের সঙ্গে জড়িত কি না, তা তিনি জানেন না। জেলা ছাত্রলীগ কমিটি দিয়েছে। এ বিষয়ে তারাই ভালো বলতে পারবে। আমার জানামতে ওই ব্যক্তি অন্য কোন দলে নেই। কেবলই ছাত্রলীগে আছেন।

এদিকে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লা আল মিলন বলেন, ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের রায়হান রনি একই ব্যক্তি। রায়হান পৌর ছাত্রদলের কমিটির ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি বলেন, রায়হানের চাচা যুবলীগ করেন। যখন ছাত্রলীগের কমিটি দেয়া হয়, তখন তিনি ভাতিজাকে ছাত্রলীগে ঢুকিয়ে দিয়েছেন। কীভাবে যে ছাত্রদল নেতা রাতারাতি ছাত্রলীগের নেতা হয়ে গেলেন, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। বিসয়টি নিয়ে ভাবতে হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. এনায়েত হোসেন বলেন, ছাত্রদলের রায়হান রনি ও ছাত্রলীগের মোহাম্মদ রায়হান রনি একই ব্যক্তি। তবে কৌশলগত কারণে নাম ছোট কিংবা বড় করে লিখে থাকতে পারেন তিনি। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। বিষয়টি আওয়ামী পরিবারের কেউ সুনজরে দেখছে না। সকলের মনে নানান প্রশ্ন কিভাবে ওই কাজটি রায়হান করছেন তা কারো বুঝে আসে না। বিষয়টি খুবই দু:খজনক। বেদনাদায়ক।

ঢাকা, ১৯ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআইটি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।