‘সারা বিশ্বের থ্যালাসেমিয়া রোগীদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার অর্জনে বাধা দূরীকরণ’রাবি'র সায়েন্স ক্লাব উদযাপন করলো বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস


Published: 2021-05-10 00:33:16 BdST, Updated: 2021-06-21 16:07:12 BdST

রাবি লাইভ: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) সায়েন্স ক্লাব প্রথমবারের মতো আয়োজন করে বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস। ভার্চুয়াল সেমিনারটি ৮ মে , বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভার্চুয়াল প্লাটফর্ম জুম অ্যাপ এর মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করবেন রাবি সায়েন্স ক্লাবের সভাপতি মোঃ ইশতেহার আলী এবং সঞ্চালনা করবেন সাধারণ সম্পাদক আবিদ হাসান । বিশ্বে বংশগত রোগ নিয়ে শিশু জন্মের হার বাড়ছে তার মধ্যে থ্যালাসেমিয়া অন্যতম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ৮ই মে দিনটিকে 'বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস' হিসেবে ঘোষনা করেছে। এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই দিবস পালন করা হয়। এ বছরের প্রতিপাদ্য বিষয়: ‘সারা বিশ্বের থ্যালাসেমিয়া রোগীদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার অর্জনে বাধা দূরীকরণ’। একে সামনে রেখে রাবি সায়েন্স ক্লাব "বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন" এর সহযোগিতায় "Thalassemia- A silent but ignored epidemic in Bangladesh" শিরোনামে ভার্চুয়াল প্লাটফর্ম জুম আ্যপ এর মাধ্যমে সেমিনারের আয়োজন করে।

আলোচনায় অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের স্বনামধন্য গবেষক মোঃ সারোয়ার হোসাইন, পিএইচডি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর, বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ ফাউন্ডেশন ও সহযোগী অধ্যাপক,স্কুল অব এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড লাইফ সায়েন্সেস ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ। তিনি বলেন,"এটি রক্তের লোহিত রক্তকণিকার হিমোগ্লোবিন অংশের একটি অস্বাভাবিক অবস্থাজনিত রোগ। ত্রুটিপূর্ণ হিমোগ্লোবিন জীন হিমোগ্লোবিনের গ্লোবিন অংশে ত্রুটি সৃষ্টি করে। ফলে লোহিত রক্তকণিকার আয়ু স্বাভাবিক ১২০ দিন থেকে কমে মাত্র ২০-৬০ দিনে নেমে আসে।

ফলে মারাত্মক রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। যার ফলে এই রোগে আক্রান্ত রোগীকে নিয়মিত রক্ত সঞ্চালন না করলে তার পক্ষে বেঁচে থাকা সম্ভব হয় না। তাই প্রতিমাসে মাসে এক বা একাধিকবার রক্ত দিতে হয়। বাবা-মা দুজনই যদি থ্যালাসেমিয়ার বাহক হন, তাহলে শিশুর থ্যালাসেমিয়া নিয়ে ভূমিষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা ২৫%, বাহক শিশু জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা ৫০% আর সুস্থ শিশু জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা ২৫%।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান মতে, বাংলাদেশের জনসংখ্যার ৭ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ লোক থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক এবং মারাত্মক রোগীর সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার। থ্যালাসেমিয়া বাহকদের পরস্পরের মধ্যে বিয়ের মাধ্যমে প্রতিবছর নতুন করে ৭ থেকে ১০ হাজার থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুর জন্ম নিচ্ছে। সচেতনতার অভাবে দিনে দিনে এই রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এই রোগ থেকে বাঁচার প্রধান মাধ্যম সচেতনতা। এই রোগীদের চিকিৎসা বলতে প্রতিমাসে রক্ত নেওয়া ও চিকিৎসকের কাউন্সিলে থাকা। তবে সম্পূর্ন নিরাময়ের জন্য আজকাল বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা হয়। এছাড়াও রয়েছে বেশ কিছু থেরাপি। থ্যালাসেমিয়া- এই নীরব ঘাতক, কেবল একজন ব্যক্তিকেই প্রভাবিত করে না, একটি পরিবারকে আর্থিক মানসিক দিক থেকেও প্রভাবিত করে। তবে আশার কথা হল এই রোগ প্রতিরোধ করা যায়। সামাজিক সচেতনতা এবং থ্যালাসেমিয়া বিষয়ক জ্ঞানই পারে এই রোগের প্রাদুর্ভাব কমাতে।"

প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন প্রফেসর মাসুমা রহমান, ভাইস চেয়ারপার্সন, বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন। তিনি বলেন "আমরা এখন পর্যন্ত জানতে পারি নাই বাংলাদেশে কত জন থ্যালাসেমিয়া রোগী আছে। আপনাদের মধ্যে যদি কারো একজনের থ্যালাসেমিয়া থাকে সেই শুধু জানে এর ভয়াবহতা । থ্যালাসেমিয়া এমন একটা রোগ যেটা আপনার সাথে কবর পর্যন্ত যাবে। তারমানে প্রতি মাসেই আপনাকে রক্ত দিতে হবে ঔষুধ খেতে হবে। এর ফলে তার পরিবার আর্থিক ভাবেও সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে ।

যদি কারো থ্যালাসেমিয়া মনে হয় তাহলে তাকে থ্যালাসেমিয়া সেন্টারে এসে তাকে পরীক্ষা করতে হবে এবং আদৌ আছে কি না ,থাকলেও সেটা কি ধরনের থ্যালাসেমিয়া তা জানতে হবে। আমাদের দেশে এ রোগ হলে শুধু রক্তের ওপর নির্ভর করতে হয় এবং ঔষধ খেতে হয় । এর বাহিরে তেমন কোন সুযোগ সুবিধা নাই। কাজেই আমাদের এ সম্পর্কে সচেতন হওয়া উচিত।আমাদের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ও জানতে হবে আমাদের পরবর্তী বাহক আসার আগে হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ঠিক থাকলে পরবর্তী পরীক্ষা গুলো করা উচিত ।

এখন থ্যালাসেমিয়রার অনেক রোগী আছেন যারা রক্তের জন্য অনেক দ্বারে দ্বারে ঘোরেন। তাই আমাদের যুবসমাজের সবাইকে রক্তদানে ও উদ্বুদ্ধ করতে হবে। থ্যালাসেমিয়ার ট্রিটমেন্টের চেয়ে প্রতিরোধ করা সহজ।তাই আমাদের উচিত এটা প্রতিরোধের ওপর সচেতন হওয়া।" সর্বশেষে তিনি রাবি সায়েন্স ক্লাবকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এমন একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করার জন্য এবং তাকে আমন্ত্রন জানানোর জন্য।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের প্রতিষ্ঠাকালীন উপদেষ্টামন্ডলী, স্থায়ী কমিটির সদস্যগণ ও বর্তমান কমিটির সদস্য, অর্গানাইজার ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫০ এর বেশী অধিক শিক্ষার্থী। । অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠাকালিন সহ সভাপতি ও স্থায়ী কমিটির সদস্য অলোক কুমার পাল। সভাপতি ইশতেহার আলী বলেন, "রাবি সায়েন্স ক্লাব প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নতুন নতুন প্রোগ্রাম উপহার দিয়ে যাচ্ছে। যার ধারাবাহিতায় প্রথম বারের মতো থ্যালাসেমিয়া নিয়ে এই আয়োজন সাধারণ মানুষের মাঝে এই জিন ঘটিত রোগ নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করবে বলে আশা কিরা যায়। তিনি বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনকে আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। সকলকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।"

ঢাকা, ৯ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// বিএসসি

 

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।