teletalk.com.bd
thecitybank.com
liv[email protected] ঢাকা | বুধবার, ৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯
teletalk.com.bd
thecitybank.com

জৈষ্ঠ্যের দাপটের মতো বঙ্গবন্ধু তনয়ার আগমন

Md Akramuzzaman | প্রকাশিত: ১৭ মে ২০২২ ২১:৩১

প্রকাশিত: ১৭ মে ২০২২ ২১:৩১

ছবি: সংগৃহীত

দেওয়ান সাবাব: জৈষ্ঠ্যের দাপটের তৃতীয় দিবস, ১৯৮১ সালের ১৭ মে রোজ রবিবার ঘড়ির কাঁটা তখন চারটা বাজে। তৎকালীন কুর্মিটোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হতে গোটা বাংলাদেশ যেন তার অপেক্ষায়। তিনি বঙ্গবন্ধু তনয়া গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অবিকল্প সভাপতি দেশরত্ন শেখ হাসিনা।

ঘন্টায় তখন ৬০-৬৫ মাইল বেগে ঝড়ো হাওয়া, কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে নিমজ্জিত গোটা ঢাকা শহর। যেন জৈষ্ঠ্যের দাপট হয়ে বঙ্গবন্ধু তনয়ার আগমন। একদিকে ঝড় বৃষ্টিকে উপেক্ষা অন্যদিকে শোষিত নিপীড়িত মানুষের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পালা শেষ হলো। বঙ্গবন্ধু তনয়াকে এক নজর দেখবে বলে কুর্মিটোলা এয়ারপোর্ট থেকে লাখ জনতার ঢল গিয়ে ঠেকে শেরে-এ-বাংলা নগর পর্যন্ত। গণতন্ত্রকামী মানুষের জাতির পিতাকে স্বপরিবারে হারিয়ে আশার যে প্রদীপ নিভে গিয়েছিল, বঙ্গঁবন্ধু তনয়া যেন সেই প্রদীপের অগ্নিশিখা হয়ে তিমির রাত্রি ঘুচিয়ে স্বপ্নের সুপ্রভাত রচনা করতে এসেছেন।

মৃত্যুভয়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অভিভাবকশূন্য নিপীড়িত মানুষের অভিভাবক হয়ে এসেছেন।
তিনি সেইদিন জাতির উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, ”সব হারিয়ে আমি আপনাদের মাঝে এসেছি, বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তার আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জাতির পিতা হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণে আমি জীবন উৎসর্গ করতে চাই”।

তখন বঙ্গবন্ধু তনয়ার প্রতি জনসমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের গর্জন হয়ে স্লোগানে স্লোগানে অভিবাদন জানায় “শেখ হাসিনার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই”।

১৯৮১ থেকে আজকের ২০২২ বাংলাদেশ সরকারের চার বারের প্রধানমন্ত্রী দেশকে নিয়ে গেছেন মধ্যম আয়ের দেশে। সাধারণ জনগনের মৌলিক অধিকার পূরণ (টিসিবি সেবার মাধ্যমে অন্নের অভাব দূরীকরণ, মুজিব শতবর্ষে গৃহহীনদের পাকা ঘর উপহার, সরকারী পর্যায়ে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা, বিশেষ বিবেচনায় চিকিৎসা ব্যয়বহন, সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণসহ মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত বছরের প্রথম দিনে শিক্ষাসামগ্রী হিসেবে বই উপহার বিতরণ কর্মসূচী, নারী শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্বায়ন, শারীরিকভাবে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুবিধা বাস্তবায়ন, বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ স্থাপন, আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তি খাতে কর্মসংস্হানের উদ্দেশ্যে জেলায় জেলায় শেখ কামাল আইটিপার্ক নির্মাণ ইত্যাদি)

তাছাড়াও দক্ষ জনসম্পদ বিনির্মাণে অনলাইন সেবা চালুকরণ বিদ্যুৎ খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের মাধ্যমে ঘরে ঘরে ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ব্যবস্থাকরণ।প্রযুক্তি ও উৎপাদন খাতের পাশাপাশি আগামী প্রজন্মের জন্যে পরিবেশ রক্ষা গুরুত্ব আরোপিত হচ্ছে সবুজায়নের দিকে।

দক্ষিণবঙ্গের মানুষের স্বপ্নের পদ্মাসেতু মেগাপ্রজেক্ট বাস্তবায়ন, নির্মানাধীন মেট্রোরেল (ঢাকায়) সহ সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিকরনের লক্ষ্যে মহাসড়ক, ফ্লাইওভার,রেল সংযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে। উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ যখন টপ-স্পিডেট তখন ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৪১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, মাথাপিছু আয় ২৫৯১ মার্কিন ডলার ও প্রবৃদ্ধির হার বেড়ে দাড়িয়েছে ৬.৯৪ শতাংশে।

মিলেনিয়াম ডেভোলাপমেন্ট গোলস্ বাস্তবায়ন সহ বিনির্মিত হচ্ছে টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রার অসাম্প্রদায়িক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা, যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন আমাদের অবিকল্প সারথী বঙ্গবন্ধু তনয়া দেশরত্ন শেখ হাসিনা।

লেখক: দেওয়ান সাবাব
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
সাবেক সহ সম্পাদক, বিজয় একাত্তর হল ছাত্রলীগ।

ঢাকা, ১৭ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমএম//এমজেড




আপনার মূল্যবান মতামত দিন: