"আমি ঢাবিয়ান না তবুও ঢাবিয়ান"


Published: 2021-07-01 15:47:46 BdST, Updated: 2021-10-16 04:38:54 BdST

স্বপ্নিল চৌধুরী: শুভ জন্মদিন আমার অস্তিত্বে মিশে থাকা প্রিয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। অদ্ভুত এক মায়ার নাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর ছাত্র না। তবুও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমার কাছে একটা ভালোবাসার নাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর সাথে আমার মিতালি অনেকদিনের, ঢাকা শহরে আমার সবচেয়ে বেশী সময় কেটেছে এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই।

ঢাবিতে এলে এখনো শাহবাগে বসে মানুষের জীবন যাপন দেখতে ভাল লাগে, এখনো টিএসসির মোড়ে সন্ধ্যা বাদে চা আর ঝালমুড়ি খেতে আমার দিব্যি আনন্দ লাগে, যতক্ষণ ই ঢাবিতে থাকি মনে হয় সবচেয়ে ভালো আছি। ঢাবিতে গেলে এখনো মাঝেমধ্যে বিভিন্ন হলে পরিচিতদের রুমে গিয়ে ঢু মারি। হলের খাবার খাওয়া ও হয়েছে অনেকদিন।

এতো এতো মানুষের সাথে বসে খেতে আলাদা একটা আনন্দ কাজ করে। খাবার যেমন মানের ই হোক সব সময় খাবারের মানটা বোধহয় ফ্যাক্ট না। আবেগ জিনিসটা আলাদা বিষয়, ঠিক তেমনি ঢাবির হলের খাবার ও। আমি যদিও AIUBian ছিলাম তবুও আমার ইউনিভার্সিটি লাইফের বেশীরভাগ দিনগুলোতে ঢাবির ফজলুল হক হলেই থেকেছি আমার বন্ধু আলামিনের সাথে, কার্জন হলে আড্ডা মেরেছি-ক্রিকেট খেলেছি আমি-আলামিন-সনেট-সাগর-এরিক একসাথে।

আমাদের কতো দুরন্তপনার সাক্ষী এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। রাতের নিস্তব্ধতায় নিজেকে কতোবার খুঁজেছি শহীদুল্লা হলের পুকুর পাড়ে বসে। ভালো থাকার জন্য এর চেয়ে বেশী কিছু এক জীবনে লাগেনা। একদম ই না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে অনেককিছু শিখিয়েছে, অনেককিছু দিয়েছে। আমার লেখা প্রথম বই "জার্সি নম্বর ৯৬ (মানজারুল ইসলাম রানা:জার্সি নম্বর ৯৬- A Biography By Sapnil Chowdhury) ফজলুল হলের ১৩৪ নাম্বার রুমে বসে লেখা৷ আমার কতো নির্ঘুম রাতের সাক্ষী এই ফজলুল হক হল।

আমার লেখা বইয়ের প্রতিটি শব্দের সাথে মিশে ঢাবি। রোকেয়া হলের দুই বান্ধবী আমাকে শিখিয়েছে কিভাবে ভেঙে পড়ে যাওয়া থেকে উঠতে হয়, জীবনে সফল হওয়ার চাইতে ভালো মানুষ হওয়াটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এটাও ওদের সাথে না মিশলে বুঝতাম না, ওদের কাছ থেকেই শিখেছি কিভাবে মায়ের জাতি মেয়ে মানুষকে সম্মান দিতে হয়, তাদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে হয়, কিভাবে মেয়েদের উপর যেকোনো অন্যায় অবিচার এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হয়।

ওদের সাথে পরিচয় না হলে হয়তো জীবনের ষোল আনাই বৃথা যেতো। লাইফে অনেক বন্ধু পেয়েছি। ওদের মতো কাউকে পাইনি। একদম ই পাইনি। ও হ্যা টিএসসির বিকেলের আড্ডার কথা বাদ থাকবে কেন। টিএসসি, কলাভবন, কার্জন হল, ফজলুল হক হল, মধুর ক্যান্টিন, হাকিম চত্ত্বর, মার্লো চত্ত্বর, ডাস, রোকেয়া হল এই সবগুলো আমার জীবনের সাথে মিশে থাকা সবচেয়ে বড় গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এর নাম।

প্রিয় ঢাবি আজ তোমার ১০০তম জন্মদিন। ঢাবি আমি তোমার না হয়েও অনেক ভালবাসি তোমাকে, ঢাবিয়ান না হওয়া এই আমার অনেকটা জুড়েই ঢাবি। প্রিয় ঢাবি নিশ্চয়ই এরকম অনেকজনের ই ভালোবাসা পাও তুমি। এটাও তোমার একটা স্বার্থকতা। এখন মাঝে মাঝে খুব আফসোস হয় আমার। কেন প্রথম থেকেই প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্নে বিভোর ছিলাম, কেন আরেকটু পরিশ্রমী হলাম না, কেন আরেকটু মনোযোগ দিয়ে পড়লাম না, কেন ঢাবিতে এডমিশন টেস্ট দিলাম না! তাহলে হয়তো আজ তোমার ভাগীদার হতে পারতাম, তোমার পুরোটা জুড়ে থাকতে পারতাম।

তাহলে হয়তো আমার আক্ষেপ এর গল্পটা আজ লিখতে হতোনা। পরক্ষনেই এই ভেবে সান্ত্বনা খুঁজি "খুব প্রিয় কিছু আমাদের জীবনে সাময়িক অনুপস্থিত থাকাও হয়তো ভালো। সাময়িক অনুপস্থিতি টা হয়তো একটা পরীক্ষা, এই সাময়িক অনুপস্থিতিটা না থাকলে বুঝা যায়না ভালোবেসেছি কিনা। ঢাবি তোমার সাময়িক অনুপস্থিতি আমাকে তোমার খুব কাছে টেনে এনেছে, তোমার জন্য ভালোবাসাটাও বাড়িয়ে দিয়েছে আগের চেয়ে অনেক বেশী।

তুমি এরকমই আজীবন ভালবাসা হয়ে থেকো আমার কাছে। তোমাকে নিয়ে আমার হাজারো স্মৃতি আছে তোমার না হয়েও। কে বলেছে ঢাবি তুমি আমার না, ঢাবি তুমি আমার খুব কাছের। আমার অস্তিত্ব, আবেগ, অনূভুতি, ভালোবাসা জুড়ে থেকে যাবে বাকীটা জীবন। ধন্যবাদ আমার জীবনে ভালোবাসার এরকম অনুভূতি দেওয়ার জন্য। পুনর্জন্ম বলে যদি কিছু থেকে থাকে তাহলে পরের জন্মে আমি ঢাবিয়ান ই হতে চাই, ঢাবি আমি একান্ত তোমার হতে চাই।

ঢাবিয়ান সকল শিক্ষক শিক্ষার্থীদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা। তিমির ভেদি এনেছো আলো, দিয়েছো মুক্তি হায়, শতবর্ষে দাঁড়িয়ে আছো স্বমহিমায়।

লেখক, অভিনেতা ও ক্রীড়াবিদ

ঢাকা, ০১ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআইটি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।