রক্ষা করি পরিবেশ, গড়ে তুলি সোনার বাংলাদেশ


Published: 2021-06-05 15:50:40 BdST, Updated: 2021-06-18 08:36:50 BdST
 
 
রিয়া রায়: পরিবেশ প্রাণের ধারক, জীবনীশক্তির বাহক। মানুষ এবং পরিবেশ সভ্যতার সেই আদিম লগ্ন থেকেই পরস্পর পরস্পরের পরিপূরক। পরিবেশ ছাড়া যেমন প্রাণীকুলের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না, তেমনি প্রাণীকুল ছাড়া পরিবেশের ভারসাম্যও রক্ষা হয় না। কিন্তু পরিবেশ প্রতিকূল হলে জীবের ধ্বংস ও বিনাশ অবশ্যম্ভাবী।
তাইতো, মানুষের জন্য সবুজ পরিবেশের প্রয়োজনীয়তা এবং জীবজগৎ ও প্রকৃতির সুরক্ষায় জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ২৭ তম অধিবেশনে প্রতি বছর ৫ জুন "বিশ্ব পরিবেশ দিবস" হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
 
১৯৭৪ সালে এই বিশেষ দিনটি প্রথম অনুষ্ঠিত হয়েছে সামুদ্রিক দূষণ, মানব জনসংখ্যা, গ্লোবাল ওয়ার্মিং, বন্য প্রাণীদের মত পরিবেশগত বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির স্বার্থে "একমাত্র পৃথিবী (Only One Earth)" এই থিম নিয়ে। ২০২১ সালে বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য হলো "বাস্তুতন্ত্রের পুনরুদ্ধার করা" (Ecosystem Restoration)। 
 
জীববৈচিত্র্য হলো উদ্ভিদ, প্রাণী ও অণুজীব সহ প্রাণীর পুরো জীবসম্ভার এবং তাদের অন্তর্গত জিন ও সেগুলির সমন্বয়ে গঠিত বাস্তুতন্ত্র। সৃষ্টির আদিকাল থেকেই প্রাণী ও উদ্ভিদের মধ্যে পরস্পর নির্ভরশীলতা চক্রাকারে চলে আসছে। এই বাস্তুতন্ত্রে প্রতিটি জনগোষ্ঠী একে অপরের উপর নির্ভরশীল। তাই এই প্রাণীকুলে প্রজাতির বৈচিত্র্য যত বাড়বে, সেই বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য তত স্থিতিশীল হবে। তাই দেশের কৃষি ও প্রাণিম্পদ অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করতে জীববৈচিত্র্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
 
কোভিড -১৯ মহামারী মানবজাতিকে পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে পৃথিবীর স্বাস্থ্যের সাথে মানবস্বাস্থ্য সম্পর্কযুক্ত। বর্তমানে আমরা একটি সংকটময় পরিবেশে বসবাস করছি। এর জন্য মানুষের কর্মকান্ডগুলোই দায়ী যার ফলে মানুষ ও প্রাণীকুল আজ মারাত্বক ঝুঁকিপূর্ন অবস্থায় দাঁড়িয়ে। বাংলাদেশ ও এর ভুক্তভোগী। মানুষ অবৈধ উপায়ে গাছপালা ও বন্যপ্রাণী নিধন, নদী- নালা, খাল- বিল, পুকুর- জলাশয় ভরাট করে নগরায়ন করা জীববৈচিত্র্যকে চরম ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে। আমাদের দেশের সুন্দরবনের উপকূলীয় এলাকায় জীববৈচিত্র্যের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের খারাপ প্রভাব গুলো লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যার ফলে অসময়ে দীর্ঘমেয়াদী বন্য, ঘূর্ণিঝড়, বন্যপ্রানী মারা যাওয়া, অতিরিক্ত তাপমাত্রা ছাড়াও অনেক দুর্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে, খুব দ্রুতই প্রাণীকুল বিলীন হয়ে যাবে।
 
গ্লোবাল ফরেস্ট ওয়াচ ও জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির তথ্যমতে, এখনই সময় মানুষের সাথে প্রকৃতির সম্পর্ককে পুনর্বিবেচনা করে সব কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিবেশ ও জীবৈচিত্র্য সংরক্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন পরিবেশ রক্ষায় বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে যা বাস্তবায়ন করা অতিপ্রয়োজনীয়। জনসচেততা সৃষ্টি করতে হবে এবং আমাদেরকে বিভিন্ন উদ্যোগে কাজ করতে হবে। যেমন- গাছ না কাটা, রাস্তার ধারে গাছ লাগানো, পাখি শিকার না করা, রাস্তা-ঘাটে কুকুর, বিড়াল না মারা, পাহাড় কাটা বন্ধ করা, পানি, বায়ু দূষণ না করা, রাসায়নিক দ্রব্য ও প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা, পাটজাত দ্রব্য ব্যবহার করা ইত্যাদি। 
 
আমরা যদি পরিবেশকে রক্ষা করি, পরিবেশেই আমাদের রক্ষা করবে। তাই আসুন সবাই সুস্থ পরিবেশ গড়ি, সুস্থ থাকি।
 
 
লেখক: 
শিক্ষার্থী
প্রাণিসম্পদ বিজ্ঞান ও ভেটেরিনারি মেডিসিন বিভাগ।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ।
 
ঢাকা, ৫ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি
 

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।