করোনার মত মহামারী কেনো আসে ?


Published: 2021-05-09 15:27:46 BdST, Updated: 2021-06-13 22:48:50 BdST

আমিনুল ইসলাম: পৃথিবীতে করোনার মত মহামারী এমনি এমনিই আসে না। মানুষই একে টেনে হেচড়ে নিয়ে এসেছে। এর কিছু ধর্মীয় ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করবো ইন শা আল্লাহ। তাহলে বলি কিভাবে টেনে এনেছে?

১.মহান রাব্বুল আলামীন বলেছেন যে
"তোমরা অশ্লীলতার ধারে কাছেও যেও না"

শয়তান সবসময় অশ্লীলতাকে উস্কে দেয়। কারন শয়তান তোমাকে সেখানে বা তার আশে পাশে গেলেই তার সাথে নিশ্চিত তোমাকে জড়ায়ে দিবে। শয়তান তোমাদেরকে অশ্লীলতার দিকে সব সময় আহবান করছে।

২. কোন সমাজে যখন ব্যভিচার বিস্তার লাভ করবে সেখানে বিভিন্ন ধরনের অচেনা অজানা জটিল রোগ বালাই দেখা দিবে। বিভিন্ন মহামারী দেখা দিবে। এইডস, ক্যান্সার, করোনা ইত্যাদি কিন্তু নতুন নতুন রোগ। অতিতে কিন্তু এগুলা ছিলো না। সেই হিসাবে করোনাও একটা মহামারী হিসেবে দেখা দিয়েছে আমাদের মাঝে।

৩. ঘরে ঘরে সবার অন্দরমহলে এখন অশ্লীলতা প্রবেশ করেছে।আগের দিনের মানুষ খুব কষ্ট করে অশ্লীলতার কাছে যেতে পারতো কিন্ত এখন এটা শয়তানের বদৌলতে এতো সহজলভ্য হয়েছে যে আর কষ্ট করে অশ্লীলতা সংগ্রহ করা লাগে না। হাতের নাগালেই সব পাওয়া যাচ্ছে ফুল প্যাকেজে । এই সহজলভ্যতাই এখন সমাজ বা সভ্যতা ধ্বংসের মুল কারন হয়ে দাড়িয়েছে । ইউটিউবের কল্যানে বা বিভিন্ন সাইটের কল্যানে সবাই এখন খুব সহজেই সব পেয়ে যাচ্ছে।

৪.কোরআনের বর্ননা মতে লুত আঃ নামে একজন নবী ছিলেন। সেই লুত আঃ এর উম্মতেরা ধ্বংস হয়েছে শুধু এই একটা কারনেই। বর্তমান জর্ডানে যে মৃত সাগর দেখা যায় ওখানেই লুত আঃ এর সভ্যতাকে ধ্বংস করা হয়। কারন তারা মেয়েদের বাদ দিয়ে ছেলেদের কাছে অভিগমন করতো যা বর্তমানে হোমোসেক্স বা গে নামে সারা বিশ্বে সুপরিচিত। এদের কে আবার বিভিন্ন রাষ্ট্র আইন করে নিজেদের মধ্যে বিবাহের পারমিশন দিচ্ছেন। এরা নিজেরা ত ধ্বংস হবেই সাথে অন্যদের ও ধ্বংসের মুখে পতিত করবে। এরা সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন দেশে এদের বিভিন্ন সাইট বা গ্রুপ আছে যারা সারা বিশ্বে এদের নেটওয়ার্ক বিছাতে তৎপর যাতে এরা প্রকাশ্যে অশ্লীলতা চালিয়ে যেতে পারে। ও হ্যা আর একটা কথা বলি এরা কিন্ত কেউ অশিক্ষিত না সবাই উচ্চ শিক্ষিত। এরা বিকৃত যৌনাচারকে উস্কে দিচ্ছে। আমাদের ইসলামে আছে যে তোমাদের স্ত্রীরা হলো তোমাদের শষ্যক্ষেত্র যেভাবে খুশি গমন করতে পারো তবে বিকৃতভাবে গমন করো না তার মানে গুহ্যদ্বার ব্যবহার করা যাবে না।

৫. ধর্মীয় শিক্ষার একটার বিরাট ভুমিকা আছে। আমাদের ছেলেমেয়েদের কে কি করছে সেটা আমরা আর খেয়াল করি না। কিভাবে করবো? আমরা ত নিজেরাই ঠিক নাই। বাবার হাতে মোবাইল আর মায়ের সামনে টিভিতে ইন্ডিয়ান সিরিয়াল। প্রত্যেকটা বাবা মা এই অবক্ষয়ের জন্য অনেকাংশে দায়ী।

আমরা সন্তানদের যথেষ্ট সময় দিচ্ছি না। তাই তারা যা খুশি তাই করে বেড়াচ্ছে। বাচ্চারদের ৮-১০ বছর পর্যন্ত সবাই ভালোই খোজ খবর রাখছে কিন্ত এর পর যে যা পারছে করছে কিন্তু তার খোজ আর কেউ রাখছে না ।

৬. অনিয়ন্ত্রিত টাকার প্রভাব অনেক ক্ষতির কারন হয়ে দাড়িয়েছে । যা যেভাবে পারছে হারাম উপায়ে টাকা উপার্জন করছে। এর একটা বিরাট প্রভাব পড়ে সন্তানদের উপর। যা চাচ্ছে তাই পাচ্ছে যা তাদের কে নেশা, নারী বা অশ্লীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

প্রতিরোধের উপায়ঃ
১.শুধু টীকা দিয়ে এই মহামারী আটকানো যাবে না। কারন মহান আল্লাহর চেয়ে বড় কৌশলী কিন্তু আমরা হতে পারবো না। এই করোনার ভ্যারিয়েন্ট কিন্তু সেটাই প্রমান করে। একটা মহামারী দিয়ে মহান রাব্বুল আলামিন আমাদের একটা মেসেজ দিয়েছেন যে তোমরা ভালো হয়ে যাও। অশ্লীলতা থেকে সরে আসো। আমার দিকে ধাবিত হও। কিন্তু সেটা না বুঝে আমরা কি করছি শুধু টীকা আবিস্কারের আশায় আছি। বার বার হাত ধোয়া, মাস্ক পরা ইত্যাদি সচেতনতার দিকে বেশি মনোযোগী হচ্ছি। এগুলার ও দরকার আছে কিন্তু শুধু সচেতনতা ও টীকা যে আমাদের বাচাতে পারবে না সেটা কিন্তু অলরেডি প্রমানিত হয়েছে সব দেশে।

২. অশ্লীলতা দুরীকরনে সবাইকে সচেতন হতে হবে। তা কিভাবে হবে, তার উপায় কি? উপায় হলো এটা যে আমাদের শরীর, মন, সমাজ ও সভ্যতার জন্য ক্ষতিকর তা আমাদের জানতে হবে। জানার মাধ্যম হলো আমাদের কোরআন ও হাদিসে এই ব্যাপারে কি নির্দেশনা আছে আমাদের তা জানতে হবে। নিজেকে বাচাতে হবে এবং পরিবার পরিজন ,
প্রতিবেশি,আত্নীস্বজন সবাইকে সচেতন করতে হবে।

৩. ব্যভিচারের শাস্তি এখন আর নেই বললে চলে।এখন সব কিছুই আইন আদালতে গড়ায়। টাকা পেয়ে সবাই জামিন নিয়ে বেরিয়ে এসে সেই একই কাজ করে। কিন্তু কোরআন হাদিসের আইন বা শরিয়া আইন যদি মানতাম তাহলে কিন্তু ব্যাপারটা অন্য রকম হতো। শরিয়ার কথা বললে মনে হয় মান্ধাতার আমলের কাটমোল্লা। অনেকের বা শয়তানের অনুসারীদের গা চুলকায় কিন্তু সেই আইনের অভাবেই কিন্তু অপরাধীরা সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে আর অপরাধ করেই যাচ্ছে।

তার অনেক জলন্ত উদাহরন আমরা দেখতে পাচ্ছি। নাম বা তাদের নাই বললাম। এখন বড় লোকেরা ঘরে বউ রেখে টাকার জোরে শহুরের বিভিন্ন নামী দামী এলাকায় ফ্লাট নিয়ে রক্ষিতা রাখছে। নিজেদের ইচ্ছামত তারা সামাজিক অবক্ষয় চালাচ্ছে কারন তারাই এখন সমাজপতি। এই ব্যভিচারের ব্যাপারে গুরুত্বপুর্ন একটা হাদিস উল্লেখ করলাম।

"যদি বিবাহিত পুরুষ ও বিবাহিতা স্ত্রী ব্যভিচার করে তাহলে তাদেরকে একশ চাবুক মারতে হবে,অতঃপর প্রস্তরাঘাতে হত্যা করতে হবে। আর অবিবাহিত পুরুষ ও মহিলা ব্যভিচার করলে তাদেরকে একশ চাবুক মারতে হবে এবং এক বছর নির্বাসন দিতে হবে। "

সুত্রঃ আহমাদ ৫/৩১৭,মুসলিম ৩/১৩১৬, আবু দাউদ ৪/৫৭০, তিরমিযী ৪/৭০৫, নাসাঈ ৪/২৭০, ইবনে মাজা২/৮৫২,তাফসীর ইবনে কাসীর সুরা নিসার ১৫-১৬ নং আয়াতের ব্যাখ্যা পৃষ্টা নং ৩০১.

তার মানে হলো বিবাহিতরাই বেশি ব্যভিচার করে তাই তাদের ব্যাপারে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে যা তাদেরকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুর কথা হয়েছে।

৪. সর্বোপরি মহান আল্লাহর কাছে তওবা করে সবাইকে সঠিক পথে ফিরে আসতে হবে। আর এই রমজান মাসে সবার মাঝে যে ধর্মীয় আবেগ সৃষ্টি হয়েছে তা সারা বছর ধরে রাখতে হবে। নিজেকে না বদলালে কখনো সমাজ কে বদলানো যায় না। তাই নিজেকে বদলানো টাই সবচেয়ে গুরুত্ব পুর্ন। মহান আল্লাহ সবাই কে হেদায়েত নসিব করুন।

ঢাকা, ৯ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।