লকডাউনে শিক্ষার্থীদের করুণ অবস্থা


Published: 2021-04-27 14:05:41 BdST, Updated: 2021-09-28 14:12:42 BdST

কবিতা রাণী মৃধা: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে তার এক বছর পার হয়ে গেছে। এই দীর্ঘসময় ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ইতিহাসে কখনো বন্ধ থাকতে দেখা যায়নি বা তার কোনো সন্ধানও পাওয়া যায় নি। শুধুমাত্র কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে ইতিহাসের প্রথম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এতো দীর্ঘকালীন ধরে বন্ধ আছে। এমন একটা কঠিন অবস্থায় শিক্ষার্থীদের অবস্থা কেমন আছে বা কীভাবে কাটছে তাদের জীবন জানা যাক।

প্রথমেই বলা যাচ্ছে যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রত্যেক লেভেলের শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাস নেয়ার কথা বলা হয়েছে যাতে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই পড়াশোনা সুন্দর মতো চালিয়ে যেতে পারে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার যেনো কোনো ক্ষতি না হয় তার জন্য এই ব্যবস্থা করা হয়েছে, সাথে বিভিন্ন অ্যাসাইনমেন্ট এর মাধ্যমে তাদের পড়াশোনার বর্তমান অবস্থা কেমন সেটা পরীক্ষা করছে।

কিন্তু এই কার্যক্রম কতটা সচল আছে সেটা কোনো প্রশাসন খোঁজ নিয়েও দেখে না। প্রশাসন শুধু আদেশ জারি করেছে তা পালন হচ্ছে কিনা সেটা দেখা হয়তো তাদের দায়িত্ব না, শুধু আদেশ জারি করাটাই তাদের দায়িত্ব। খোঁজ নিলে দেখা যাবে দেশের কোথাও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশ মান্য করা হচ্ছে না যথাক্রমে। যদিও বা হচ্ছে তা খুবই নগন্য তা সেটা স্কুল, কলেজ হোক কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

আর শিক্ষার্থীদের যে অ্যাসাইনমেন্ট প্রদান করা হচ্ছে তাতে কোনো শিক্ষার্থীর উন্নতি হচ্ছে না আমার মনে হয়। কারণ অ্যাসাইনমেন্ট গুলো তারা নিজে সম্পূর্ণ করছে না, তারা গুগল সার্চ করে কিংবা ইউটিউব থেকে ভিডিও দেখে অ্যাসাইনমেন্ট সম্পূর্ণ করছে। এতে শিক্ষার্থীদের মেধার কোনো উন্নতি হচ্ছে না বরং অবনতি হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতার চর্চা কমে যাচ্ছে।

তাছাড়া শিক্ষার্থীদের হাতে প্রচুর সময় থাকায় তাদের উপর নেতিবাচক এবং ইতিবাচক এ দুই ধরনেরই প্রভাব পড়ছে। নেতিবাচক দিক হিসেবে বলা যেতে পারে যে, প্রচুর পরিমাণে সোশ্যাল মিডিয়া দিক গুলোতে আসক্ত হয়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা, ঘরবন্দী থাকার কারণে মানসিক অবক্ষয় হচ্ছে এবং পড়াশোনার প্রতি অমনোযোগী হয়ে যাচ্ছে। এতে সৃজনশীলতা ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হচ্ছে।

আর ইতিবাচক দিকগুলো হিসেবে বলা যেতে পারে যে অনেক শিক্ষার্থীরা নিজেদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য অনলাইন ভিত্তিক বিভিন্ন কোর্স সম্পূর্ণ করছে, বিভিন্ন ধরনের শখের কাজ করছে যা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকা কালীন সময়ের অভাবে করতে পারেনি, পরিবারের সাথে সুন্দর সময় কাটাচ্ছে। আবার অনেক শিক্ষার্থীকে দেখা যাচ্ছে পরিবারের হাল ধরছে, উপার্জন করে সংসার চালাচ্ছে, কৃষিকাজ করছে।

আবার অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা লেখালেখি করতে পছন্দ করে, তারা লেখালেখি করতে পারছে সুন্দর মতো। সময় দিতে পারছে নিজের দক্ষতা বাড়ানোর দিকে এবং নিজের মতামত বা ভাবনা অন্যের কাছে তুলে ধরছে। আর এভাবেই কেটে যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের সময়।

লেখক: কবিতা রাণী মৃধা
শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ,
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

ঢাকা, ২৭ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।