সুনামগঞ্জে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প এবং আমাদের সামগ্রিক দায়


Published: 2021-03-19 11:08:23 BdST, Updated: 2021-05-11 00:09:08 BdST

হোসাইন মাহমুদ আপেল : সুনামগঞ্জের ঘটনা নিন্দনীয় এবং আশু ভবিষ্যতে বিপর্যয়ের বীজ। ভৌগোলিক ঐতিহ্যগতভাবে এই ভূখন্ডে বাস করে আসা সনাতন সহ কোন ধর্মাবলম্বীই অবশ্যই সংখ্যালঘু নয়, সংখ্যালঘু তারাই যারা এ ভূখন্ড কে প্রকৃত অর্থে ধারণ করে না। সংখ্যালঘু তারাই, যারা স্বাধীনতাকে বংশ পরম্পরায় এখনও মেনে নিতে পারেনি। সংখ্যালঘু তারাই যারা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মানের অন্তরায় হয়ে বিতর্কিত ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়।

প্রকৃত অর্থে পাকিস্তানি এদেশীয় প্রেতাত্মারাই সংখ্যালঘু। জাতি বা ধর্মের দোহাই দিয়ে কখনো সংখ্যালঘু নির্ধারণ করা প্রজ্ঞার প্রতিফলন নয়। জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ঐসকল কুলাঙ্গার সংখ্যালঘুদের বিষদাঁত উপরে ফেলা উচিত। একাত্তরের নেতৃত্বদানকারী সরকারের সর্বোচ্চ সুসময় চলছে। এখন না পারলে, আর কখনও না।

তৃণমূলের ছাত্র রাজনীতিকে যদি সুপরিকল্পিতভাবে আরও বেশি সুসংগঠিত করা যেতো তাহলে হয়তো, আজকের সুনামগঞ্জ ঘটনার পর আমরা সাল্লা উপজেলা ছাত্রলীগ ও সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের এই নির্লিপ্ততার সাক্ষী হতাম না। প্রশাসনের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা একাত্তরের পরাজিত প্রেতাত্মারা, অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে বারবার প্রশ্নবিদ্ধ করার পায়তার করে যাচ্ছে। স্থানীয় সরকার দলীয় রাজনীতিকদের নীরবতা অদূর ভবিষ্যতে এক ভয়াবহ উগ্রবাদী বাংলাদেশের দিকেই আঙ্গুল তুলছে বারংবার। ঘটনা ঘটার তিন দিন পূর্ব থেকেই একধরনের অস্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করছিলো, তা জানা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট এলাকার গোয়েন্দা সংস্থার প্রজ্ঞাহীনতা আমাদের ভাবিয়ে তুলে।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মানের অন্তরায় হিসেবে সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প সাম্প্রতিক বছর গুলোতে বড় থ্রেট হয়ে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। অবস্থা সর্বোচ্চ নাজুক পর্যায়ে চলে যাওয়ার পূর্বেই এর লাগাম টেনে ধরা সম্ভবপর না হলে, এরজন্য প্রত্যেকটা বাঙালিকে চরম মূল্য দিতে হবে।

সাম্প্রদায়িক ইস্যুতে সরকারের নীতি নির্ধারনী পর্যায়ে, সাম্প্রতিক সময়ে চরম মতদ্বৈধতা স্পষ্টত। সাম্প্রদায়িক ইস্যুতে সুবিচার নিশ্চিতের ব্যপারে একটা মহলকে উদাসীন আচরণ করতে দেখা যাচ্ছে। অতীতেও ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক ইস্যুগুলোর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর, গাইবান্ধা সাধুল্লাপুর, কক্সবাজারের রামু ট্রাজেডি আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। কিন্তু মধ্যসত্ত্বভোগী এক শ্রেণীর পরিকল্পিত উদাসীনতায় যথাযোগ্য উপায়ে শাস্তি সুনিশ্চিত করা হয়ে উঠেনি।

সমসাময়িক সময়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশ পুননির্মাণকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের পথে হাটা উচিত। তৃণমূল পর্যায়ের ছাত্র রাজনীতিকে আরও সুসংহত করা সময়ের দাবি। স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতিকে সুবিধাবাদী ব্যবসায়ীদের কবল থেকে প্রকৃত মুজিব আদর্শিকদের হাতে ন্যাস্ত করা উচিত। প্রশাসনের ঘাপটি মেরে থাকা মধ্যসত্ত্বভোগী কুচক্রী মহলকে চিহ্নিত করে যথাযোগ্য শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। গোয়েন্দা সংস্থাকে আরও ঢেলে সাজানো সময়ের দাবি। নতুবা একাত্তরের পরাজিত শক্তিদের শাসনামলে নিয়োগপ্রাপ্ত গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা আরও বেশি ক্ষেত্র প্রশস্ত করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে পারে।

এতে করে সরকারের হাজারটা উন্নয়ন ম্লান হয়ে যাবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। সময় ফুরিয়ে যায় নি, তবে খুব বেশি নেই। সাম্প্রদায়িক ইস্যুতে কঠোর অবস্থান প্রদর্শনের মাধ্যমে আমরা আমাদের একাত্তরের চেতনাকে আর অনেক বেশি সুসংহত করতে পারবো বলে আশা রাখি।

হোসাইন মাহমুদ আপেল
শিক্ষার্থী
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা, ১৯ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।