বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকীতে কবি নজরুল কলেজ শিক্ষার্থীদের ভাবনা


Published: 2021-03-17 01:19:26 BdST, Updated: 2021-06-17 16:12:43 BdST

বাঙালি জাতির মুক্তির অগ্রনায়ক, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে যার অবধান ছিল চির স্মরনীয়। তিনি ছিলেন একজন স্বাধীনচেতা, মুক্তিকামী, অবিসংবাদিত ও সম্মোহনী নেতৃত্বের অধিকারী। এই মহান নেতা (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর) ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি। তার জন্ম না হলে বাংলাদেশের স্বাধীন হতো না। বাঙালি জাতি তাদের গণতন্ত্র ফিরে পেতো না। ১৭ মার্চ বুধবার এই মহান নেতার জন্মদিন। তার জন্মদিন উপলক্ষে ক্যাম্পাসলাইভ টোয়েন্টিফোরডটকমের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি মো.ইমরান হোসেন কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের অনুভূতিগুলো নিয়ে সরাসরি কথা বলেছেন।

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী লাবনী আক্তার বলেন, বঙ্গবন্ধু শুধু একজন নেতা নন। তিনি একজন কবি, একজন নির্মাতা। তিনি কখনও নজরুলের ধূমকেতুর মত জ্বলেছেন, শোষণের বিরুদ্ধে লড়েছেন আবার কখনও রবীন্দ্রনাথের মত প্রেম বিলিয়েছেন। তিনি আলাওলের মত প্রেমিক চোখে দেশের জন্য স্বপ্ন বুনেছেন আবার মাইকেল মধসূদনের মত 'বাংলাদেশ' নামক মহাকাব্য রচনা করে গেছেন। আমার চোখে এ যেন একজন নেতার কবি হয়ে ওঠার গল্প।

লাবনী আক্তার

 

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্মসাধারণ সম্পাদক সাজিদুল ইসলাম (সোহেল) বলেন, শেখ মুজিব মানেই বাঙালির মৃত্যুঞ্জয়ী চেতনা, সাম্য-অধিকার-গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা। শেখ মুজিব মানেই দেশের জনগণের প্রতি মানুষের প্রতি ভালোবাসা, নিজ নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা। শেখ মুজিব মানেই বাঙালির দিশা- আলোর দিশারী। শেখ মুজিব মানেই তো বাংলাদেশ, স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ।

১৭ মার্চ যেন বাংলার স্বাধীন রক্তিম সূর্যের অভ্যুদয়: আমি বিশ্বাস করি, ১৭ মার্চ যেন বাংলার স্বাধীন রক্তিম সূর্যের উদয়। বঙ্গবন্ধুই বাঙালির স্বাধীনতার মহানায়ক। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার জন্ম না হলে বিশ্বের মানচিত্রে আমরা একটি স্বাধীন দেশ পেতাম না। বঙ্গবন্ধু স্কুলজীবনেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র থাকাকালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যোগদানের কারণে তিনি কারাবরণ করেন।

সাজিদুল ইসলাম

 

পরবর্তী সময়ে ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা স্বীকৃতির দাবিতে সাধারণ ধর্মঘট চলাকালীন বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২ সালে শিক্ষা কমিশনবিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৬ সালে ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি উত্থাপন, ১৯৭০ সালের নির্বাচন এবং সর্বশেষ ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি তৈরি ও নেতৃত্বদানের মাধ্যমে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতার রক্তিম সূর্যকে ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হন। এটাই সত্য যে, বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টি হতো না। সে কারণেই বঙ্গবন্ধুর জন্ম ও জন্মদিনকে আমি বাংলার আকাশে স্বাধীন রক্তিম সূর্যের উদয় বলে মনে করি। বিরল নেতৃত্ব, বিশ্বনেতা; হাজারও গুণে গুণান্বিত জাতির পিতা: বঙ্গবন্ধু আমাদের আশা-আকাক্ষা।

দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী শ্রাবণী কবির এ্যামী বলেন, “স্বাধীন বাংলাদেশে প্রশাসন চালাতে গিয়ে প্রথমেই তিনি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক করলেন। শিক্ষা একটি রাষ্ট্রের ভিত রচনা করে, সে কারণেই তিনি প্রথমেই শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেন। বঙ্গবন্ধু শিক্ষাকে কোনো রকম আমলাতান্ত্রিক জটিলতার মধ্যে রাখেননি। সম্পূর্ণ স্বাধীন করে দিয়েছেন।বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ"

শ্রাবণী কবির এ্যামী

 

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী রুবেল আহমেদ জানান, বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাঙালি জাতির রাখাল রাজা,ইতিহাসের মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০১ তম শুভ জন্মবার্ষিকীতে। ভালোলাগা ভালোবাসায় পূর্ণ হোক শুভ দিন, ত্যাগ তিতিক্ষায় ভরা ঝলমলে বর্ণিল রঙিন দিন। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সারা জীবন ধরে লিখলেও অসমাপ্ত থেকে যাবে বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে কোন ভুল থাকলে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ইতিহাসে বিলীন হয়ে যেত।

রুবেল আহমেদ

 

ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এ এম মাইনুল ইসলাম বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালী জাতির প্রাণ পুরুষ। বাংলাদেশ নামক দেশটি তার হাতধরেই জন্ম নিয়েছিল, তার অস্তিত্ব সমগ্র বাংলার আকাশ বাতাসে মিশে আছে, তার হাত ধরেই বাঙালি পেয়েছিল স্বাধীনতা। বাংলার মানুষ তার নেতৃত্বে অগ্রসর হয়ে মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনে। তার অসামান্য অবদানের জন্য এদেশের মানুষ তাকে ভালোবেসে বঙ্গবন্ধু উপাধি দিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার স্থপতি। বাঙালি জাতি তার আদর্শকে ধারন করে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই তো কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট ফিদেল কাস্ত্রো বলেছেন আমি হিমালয় কে দেখিনি তবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কে দেখিছি। এই মহান নেতার ১০১-তম জন্মবার্ষিকীতে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা!

এ এম মাইনুল ইসলাম

 

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক যায়েদ হোসেন মিশু বলেন, “মুজিব মুজিব আকাশের নীল কালো মেঘে ঢেকে যায়,মুজিব সে তো জনকের নাম এতো সহজেই মোছা যায়? যার হাত ধরে এসেছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, দেশের মানুষ ভালোবেসে যাকে দিয়েছে বঙ্গবন্ধু উপাধি, স্বাধীন দেশের সংবিধান যাকে দিয়েছে জাতির পিতার স্বীকৃতি। তার হাত ধরেই বাঙালি পেয়েছিল স্বাধীনতার দিশা, অর্ধ শতকের পথচলায় বাঙালী জাতির মুক্তির নিশানায়ও তিনি। যতকাল রবে পদ্মা যমুনা গৌরী মেঘনা বহমান ততকাল রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর ১০১-তম জন্মবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধা।"

যায়েদ হোসেন মিশু

 

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী মোকলেছুর রহমান সজন বলেন, ১৭ ই মার্চ এমন একজন মহামানবের জন্মদিন যার জন্য আজকে আমরা স্বাধীন আমরা পেয়েছি বাংলাদেশ। আমরা পেয়েছি লাল সবুজের পতাকা। সেই মহান ব্যাক্তিটিকে সবার সামনে নতুন করে পরিচিত করার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না কারন বাংলাদেশের আনাচে কানাচে সহ বিশ্বের সকল মানুষ জানে আজকে আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন।

শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন দর্শনের প্রাসঙ্গিকতার কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ২০২০ সালের ১৭ ই মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬শে মার্চ পর্যন্ত সময়কে মুজিব শতবর্ষ রূপে ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২১ সালের ২৬ শে মার্চ তারিখে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র ৫০ বছরে পদার্পণ করবে। যা আমাদের জন্য গৌরবের আরও একটি অধ্যায় রচনা করবে।এইসকল তাৎপর্যকে মাথায় রেখে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধান কারিগর শেখ মুজিবুরের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের উদ্দেশ্যে একটি জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি তৈরি করা হয়েছে তারা এই জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন।

মোকলেছুর রহমান সজন

 

এছাড়া অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইউনেস্কোর ৪০তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের সাথে যৌথভাবে মুজিব বর্ষ পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে। তাছাড়া স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত বিশ্বের সর্বোচ্চ উচ্চতার টাওয়ার বুর্জ খলিফায় প্রদর্শন করা হবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি।

১৭ মার্চ আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক শহর দুবাইতে অবস্থিত ২ হাজার ৭২২ ফুট উচ্চতার বুর্জ খলিফায় দেখা মিলবে বঙ্গবন্ধুর ছবির। যেটা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। আমি একান্তভাবেই চাই বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে আমাদের জাতির পিতা শেখ মুজিবের ভূমিকা, স্বাধীন বাংলাদেশের অগ্রগতিতে তার অবদান তার ত্যাগ তিতিক্ষার বিষয়ে বাংলাদেশ সহ বিশ্বের সকল মানুষ জানুক।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদ বলেন, ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ বাঙালীর জন্য আশীর্বাদের একটি দিন। আনন্দের দিনও বটে। এদিন হাজার বছরের শৃঙ্খলিত বাঙালীর মুক্তির দিশা নিয়ে জন্ম নিয়েছিল মুজিব নামের এক দেদীপ্যমান আলোক শিখা। মহাকালের আবর্তে অনেক কিছুই হারিয়ে যায়। হারিয়ে যাওয়া এ নিয়মের মধ্যেও অনিয়ম হয় কিছু স্মৃতি, গুটিকয়েক নাম। বাংলা ও বাঙালীর কাছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নামটি যেমন। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ এ বাঙালীর অবদানের পাশাপাশি তাঁর জন্মের তিথিও চিরজাগরূক থাকবে বাঙালীর প্রাণের স্পন্দনে।

জাহিদ

 

ঢাকা, ১৭ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।