ভাষার মাসে তারুণ্যের ভাবনা


Published: 2021-02-10 20:49:32 BdST, Updated: 2021-03-03 05:03:47 BdST

চলছে ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি। ১৯৫২ সালে এমন দিনে বাংলার কিছু তরুণ যুবক বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করতে তাদের প্রাণ নিবেদিত করেছিলেন। তাদের সেই আত্মত্যাগেই আজ আমরা স্বাধীনভাবে বাংলা ভাষা ব্যবহার করতে পারছি৷ তাদের স্মরণে প্রতি বছর ফেব্রুয়ারী মাসের ২১ তারিখকে শহীদ দিবস হিসেবে পালন করা হয়৷ ফেব্রুয়ারী মাস এলেই আমরা পরম শ্রদ্ধার সাথে ভাষা শহীদদের স্মরণ করে থাকি৷ তাদের স্মরণে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা কী ভাবছেন, তা তুলে ধরেছেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাস সাংবাদিক রিদুয়ান ইসলাম

মোঃ আবদুল্লাহ আল-মামুন, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
অস্তিত্ব জুড়ে বাংলা ভাষা: "মায়ের মুখে শেখা ভাষা, তার নামই মাতৃভাষা।" আমরা বাঙালি, বাংলা ভাষায় কথা বলে মনের ভাব প্রকাশ করি। আর এ ভাষাতে কথা বলার জন্য রাজপথে রক্ত ঝরিয়েছিল সালাম, জব্বার, রফিক, বরকত আরো নাম না জানা কত মানুষ। মাতৃভাষাতে একজন মানুষ যতটা সহজ ও সাবলীল করে মনের ভাব প্রকাশ করতে পারে, পৃথিবীর অন্য কোনো ভাষাতে পারে না।

মোঃ আবদুল্লাহ আল-মামুন

 

আজকাল সেই বাংলা ভাষায় অনুপ্রবেশ করেছে বিদেশি ভাষা, যা আমাদের জন্য কখনো কাম্য না। কিন্ত আফ্রিকার দেশ 'সিয়েরা লিওন' বাংলা ভাষার সম্মান জানিয়ে তাদের দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে বাংলাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এমন দৃষ্টান্ত দেখা মেলে একুশে বইমেলায় ইতালির এক নাগরিকের সাথে কথা বলে। সে অনবরত বাংলাতে কথা বলছে। তাই আমাদের সকলের উচিত বাংলা ভাষার সম্মান রক্ষা করা।

সানজিদা মাহমুদ মিষ্টি, শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগ
বাংলা ভাষা হোক স্ব অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যম: বাংলা আমাদের প্রাণের ভাষা। শুধু বাংলা কে রাষ্ট্রভাষা করার জন্যই সেই ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত দফায় দফায় নানা আন্দোলন হয়েছিলো। যার চূড়ান্ত অবসান হয় ৫২'র ভাষা আন্দোলন এর মধ্যে দিয়ে। ফলশ্রুতিতে ১৯৫২ সালের ২১ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষা আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃতি লাভ করে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা।

সানজিদা মাহমুদ মিষ্টি

 

কিন্তুু দুঃখের বিষয় আজও আমরা বাংলাকে সকল স্তরে অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যম হিসাবে ব্যাবহার করতে পারছিনা। আইনি সকল প্রক্রিয়ায় মামলার রায় আজও ইংরেজিতে দেওয়া হয়, ফলে সাধারন শ্রেনির মানুষেরা মামলার রায়গুলো সঠিকভাবে বুজতে পারছেনা। ভাষার মাসে সকল বাঙালিদের পক্ষ থেকে আজ এই আর্জি পেশ করছি যেন আমাদের বাংলা ভাষাকে সর্বমহলে পূর্ণাঙ্গভাবে গ্রহণযোগ্যতা দেওয়া হয়। তাহলেই বাংলা ভাষা হবে সকল মানুষের স্ব অনুভূতি প্রকাশের বাহন।

মোঃ শাহিন হোসেন, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ
ভাষার মর্যাদা অটুট থাকুক সর্বস্তরে: ভাষার মাস ফেব্রুয়ারী, বাঙ্গালির জাতীয় জিবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর চাপিয়ে দেওয়া উর্দু ভাষাকে উপেক্ষা করে রফিক, জব্বার, সালাম, বরকত, শফিউরসহ হাজারো সূর্যসন্তানের তাজা রক্তের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি প্রিয় মাতৃভাষা বাংলা। ১৯৪৮ সাল থেকে বিশ্বে বাঙ্গালীই একমাত্র জাতি, যারা ভাষার জন্য জীবনকে উৎসর্গ করেছে অকাতরে।

মোঃ শাহিন হোসেন

 

কিন্তু দুঃখের বিষয় বাংলা ভাষা আজ হুমকির মুখে। রাষ্ট্র, সমাজ ও সংস্কৃতির প্রতিটি ক্ষেত্রেই আজ বিদেশি ভাষার মিশ্রণ ব্যাপকভাবে লক্ষণীয়। হিন্দি, ইংরেজির মিশ্রণ ছাড়াও সর্বস্তরে রয়েছে শুদ্ধতার অভাব। অপমানিত হচ্ছে রক্তক্ষয়ী মায়ের ভাষা। বাংলার প্রতিটা মুখে ভাষার মাসে ফুটে উঠুক বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষা ও শুদ্ধতা চর্চার একমাত্র অঙ্গীকার।

মোবারক হোসেন উজ্জ্বল, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি
ভাষার মাধুর্যতা ঠিক রাখতে হবে: বাঙালির অহংকার, গৌরব,আত্মত্যাগ ও চেতনার মাস ''ভাষার মাস" ফেব্রুয়ারি। ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলার সাহসী দামাল ছেলেরা নিজের তাজা রক্ত দিয়ে তাদের মায়ের ভাষাকে রক্ষা করে। ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে "রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই " স্লোগান চলাকালে পুলিশের গুলিতে রফিক, জব্বার, বরকত সহ অনেকেই নিজেদের জীবনকে আত্মত্যাগ করেন।

মোবারক হোসেন উজ্জ্বল

 

এই আত্মত্যাগ পরবর্তী সকল আন্দোলনে বাঙালির অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। কিন্তু বর্তমান সময়ে আমরা সেই ভাষাকে বিকৃত করে ব্যবহার করছি। বাংলার সুমধুর ভাষায় নিয়ে এসেছি রং বেরংয়ের মিশ্র ভাষা। এসব কি আমাদের মায়ের ভাষাকে অপমান নয়? এসব কি আমাদের ভাইয়ের রক্তকে তুচ্ছ ভাবা নয়? তবে হ্যাঁ অন্যান্য ভাষাও শেখা প্রয়োজন তবে সব ভাষার মাধুর্যতা ঠিক রেখেই তা করা উচিত। তবেই বাংলার গৌরব, তাৎপর্য বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে পারবো।

মনির হোসেন শান্ত, আইন বিভাগ
রংবাহারি মিশ্রভাষা পরিত্যাগ চাই: বাঙ্গালি জাতির অসংখ্য অর্জনের মধ্যে অন্যতম হলো মাতৃভাষা। অনেক আন্দোলনের পরে ১৯৫২ সালে বাংলার জন্য বাংলা মাতৃভাষাকে নিজস্ব করে নেয় বাঙ্গালি। এর পেছনে রয়েছে রক্তের বিনিময়ে ছিনিয়ে আনা মাতৃভাষার সম্মান। ফেব্রুয়ারি মাস এলেই বাঙালি জাতির মনে প্রাণে জেগে ওঠে ভাষার প্রেম।

মনির হোসেন শান্ত

 

পরম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয় তাদের৷ বাঙালি জাতির আরেক অনুপ্রেরণার শক্তির নাম ফেব্রুয়ারি মাস। অনেক আবেগ জর্জরিত থাকে এমাসে। কিন্তু যে ভাষার জন্য এতো আন্দোলন, এতো রক্তক্ষয় সেই বাংলা ভাষাকেই আজ আমরা অবজ্ঞা করে চলছি। কথা বলার ভাষায় নিয়ে এসেছি কত রংবাহারি মিশ্র ভাষা। এসব কি আমাদের মায়ের ভাষাকে অপমান করা নয়? পরিশেষে একটাই প্রত্যাশা, বাঙ্গালি জাতি হিসেবে আমরা যেন আমাদের মায়ের ভাষাকে যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে সম্মৃদ্ধ করতে পারি৷

কাজী মুর্শিদা, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ
মাতৃভাষার সম্মানে ঘাটতি: ভাষার মাস! কথাটা শুনেলেই যেন বুকটা গর্বে ভরে যায়। কারণ, এই ভাষায় জন্যে আমাদের ধামাল ভাইয়েরা তাদের প্রাণ উৎসর্গ করে দিয়েছিল। তাদের প্রাণের বিনিময়ে আজ সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্বাধীন ভাষা বাংলা ভাষা। কিন্তু এখন আমাদের ভাষাকে আমরা যথাযত সম্মানের সাথে ব্যবহার করতে পারছি না। ভাষার সম্মানে আমরা পিছুপা। যে ভাষার জন্য এতো আত্মত্যাগ, এতো আন্দোলন, এতো দৌরাত্ম সে ভাষাকেই আমরা আজ অবহেলা করছি, বিকৃত করছি।

কাজী মুর্শিদা

 

দিনে দিনে ঝুঁকে পড়ছি বিদেশি ভাষার প্রতি। অথচ, একমাত্র বাংলা ভাষা ছাড়া বিশ্বের আর কোনো রাষ্ট্র তাদের মাতৃভাষার জন্য প্রাণ দেয়নি। আমরা দিয়েছি, রক্ষা করেছি মাতৃভাষা। তাই আমাদের উচিত বাংলার শহীদদের সম্মানে, মাতৃভাষার সম্মানে সর্বাবস্থায় বাংলা ভাষা ব্যবহার করা। তাহলেই আবার বিশ্বের বুকে বাংলা ভাষাকে সম্মৃদ্ধ ভাষা হিসেবে দাঁড় করাতে পারবো।

ঢাকা, ১০ ফেব্রুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।