''হিমালয় শুধু নেপালেই নয় প্রতিটি মানুষের ভেতরেই হিমালয় আছে''মানুষ তার স্বপ্নের চেয়েও বড় হতে পারে...


Published: 2021-01-22 23:09:30 BdST, Updated: 2021-03-08 05:34:56 BdST
 
মুহম্মদ সজীব প্রধান: হিমালয় শুধু নেপালেই নয় প্রতিটি মানুষের ভেতরেই হিমালয় থাকে। আর যে কেউই সে হিমালয় জয় করতে পারে এমনকি নিজের সাফল্যের পতাকা দ্বারা হিমালয়ের উচ্চতাকেও হার মানাতে পারে। তবে এজন্য প্রথমেই প্রয়োজন স্বপ্নদেখা এবং সে স্বপ্নকে বাস্তবে রূপদান করতে নিরন্তর চেষ্টা করা। বস্তুত, মানুষের স্বাধীনতার সবচেয়ে বড় জায়গা হলো তার স্বপ্ন। স্বপ্নে অবাধ বিচরণ সম্ভব, যেখানে বাধা দেওয়ার কেউ নেই। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার বলেছেন, ‘মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়।’ তবে মানুষ তার স্বপ্নের চেয়েও বড় হতে পারে এবং প্রত্যাশার চেয়েও অধিক প্রাপ্তি অর্জন করতে পারে যদি সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপদানের জন্য প্রতিটি নিঃশ্বাসে-প্রশ্বাসে আমাদের ব্রেইনের নিউরন থেকে নিউরনে আঘাত লাগে এবং হৃদপিন্ড থেকে শিরা উপশিরাতে জিদ কাজ করে যে আমাকে পরিশ্রম করতেই হবে এবং জিতে দেখাতেই হবে!
 
আমরা যখন থেকে একটু একটু বুঝতে শিখি, তখন থেকেই আমাদের স্বপ্ন দেখার যাত্রা শুরু হয়। আর মৃত্যুর মাধ্যমে সেই যাত্রার সমাপ্তি ঘটে। সময়ের সাথে সাথে আমাদের স্বপ্নের রঙ বদলায়। তাইতো হুমায়ূন আহমেদ স্যার বলেছেন, ‘স্বপ্নের কোনো রঙ নেই তবুও রঙিন, ডানা মেলে না তবুও উড়ে সীমাহীন’। জীবনের প্রতিটি ধাপে পরিবেশ পরিস্থিতি অনুযায়ী স্বপ্নের রঙে পরিবর্তন আসে। তবে কখনো কখনো স্বপ্ন আর বাস্তবতার মাঝে সাপে-নেউলে সম্পর্ক তৈরি হয়। তখন অনেকে শত প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে সামনে এগিয়ে যায়, কেউবা বাধা দেখে থমকে যায়।
 
সত্যিকার অর্থে, জীবন চলার পথে দেয়াল কিংবা হিমালয় পর্বতের ন্যায় শত বাধা-বিপত্তি আমাদেরকে থমকে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু যারা স্বপ্নবাজ, অধ্যাবসায়ী তারা নিজের পুরোটা দিয়ে লড়াই করে বিজয়কে ছিনিয়ে আনে, স্বপ্নকে বাস্তবে রূপদান করে। আর যারা জীবন নামের সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে নারাজ, তাদের স্বপ্নের অপমৃত্যু হয় খুব সহজেই। আর তাই হেনরি ডেভিড বলেছেন, ‘কেউ যদি বিশ্বাস নিয়ে তার নিজের স্বপ্নের পথে নিজের জীবন ও পরিশ্রমকে নিবেদিত করে, একসময় সে ধারণার চেয়েও বেশি সাফল্য পাবে’। এক কথায় জীবনে সফল হওয়ার একমাত্র তন্ত্র-মন্ত্র ও জাদুবিদ্যা হলো পরিশ্রম। পরিশ্রমী ব্যক্তি তরতর করে সাফল্যের খাড়া সিঁড়ি বেয়ে উপরে চলে যায়। বিশ্বব্যাপী মানুষের অভিনন্দন আর কৃতজ্ঞতাবোধে তাঁরা চিরকাল বেঁচে থাকেন কোটি মানুষের হৃদয় মন্দিরে।
 
সার্বিকভাবে জীবনকে ডানা মেলা একটি উড়ন্ত পাখির সাথে তুলনা করা যায়। কেননা, একটি পাখি যেমন অবিরাম তার পাখা ঝাঁপটিয়ে নীল আকাশে উড়ে বেড়াতে পারে, ঠিক একইভাবে যেকোনো ব্যক্তি তার অনবরত কর্মতৎপরতার মাধ্যমে স্বপ্নকে ছোঁয়ার জন্য বহুদূর এগিয়ে যেতে পারে। হেনরী ফোর্ড বলেছেন, ‘যত বেশি পরিশ্রম করবে তত বেশি ভাগ্যবান হবে’। ডিকশনারির উপর সারা দিন বসে থাকলে যেমন শব্দ শেখা যায় না, ঠিক তেমনি কঠোর পরিশ্রম ছাড়া কেউ কখনো কিছুই অর্জন করতে পারে না।
 
অ্যান্ড্রু কার্নেগি বলেছেন, ‘একজন গড়পড়তা লোক তার উৎসাহ ও ক্ষমতার শতকরা ২৫ ভাগ কাজের জন্য ব্যয় করে। যারা শতকরা ৫০ এর বেশি ক্ষমতা ও উৎসাহ ব্যয় করেন, তারা বিশ্বের মানুষের অভিনন্দন পান। আর যারা শতকরা ১০০ ভাগ ব্যয় করেন, তাদের জন্য সারা পৃথিবীর মানুষের উচ্ছুসিত কৃতজ্ঞতাবোধ।’ এছাড়াও স্বপ্নকে সত্যি করার জন্য নিজের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। হেনরি ফোর্ড বলেছেন, ‘যদি তুমি মনে করো তুমি পারবে কিংবা পারবে না, তাহলে দুই ক্ষেত্রেই তোমার বিশ্বাস সঠিক’। তাই সবসময় মনে প্রাণে বিশ্বাস করতে হবে, হ্যাঁ আমি পারব আমি পারবই। আত্মবিশ্বাসের জোরে চীনের ৬৯ বছরের শিয়া বোও দুই পা না থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম পা নিয়ে অ্যাভারেস্ট জয় করেছে।
 
আর এ উদাহরণ থেকেই স্পষ্ট বোঝা যায়, আত্মবিশ্বাস কতটা শক্তিশালী। সত্যিকার অর্থে, একজন স্বপ্নবাজ তার স্বপ্ন পূরণ করার জন্য নিরলস পরিশ্রম ও দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারে এবং নিজের সাফল্য দ্বারা হিমালয়ের উচ্চতাকেও হার মানায়। তাই একজন স্বপ্নবাজকে দৃঢ়চেতা লড়াকু বলাই শ্রেয়। সততা, নিষ্ঠা ও অসীম সাধনার মধ্য দিয়ে পৃথিবির সকল স্বপ্নবাজের স্বপ্ন পূরণ হোক।
 
লেখকঃ  আইন বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ।
 
ঢাকা, ২২ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআইটি
 
 

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।