করোনা মোকাবিলায় প্রয়োজন সমন্বিত প্রচেষ্টা


Published: 2020-03-29 16:15:48 BdST, Updated: 2020-05-25 22:36:56 BdST

মোঃ আল মামুনঃ করোনা সংকট ধীরে ধীরে খারাপ পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। প্রতিদিন করোনা ভাইরাস সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে যা রাষ্ট্রের জন্য অশনিসংকেত। সকলের দায়িত্বশীলতা ও সচেতনতাই পারে এই মরণব্যাধি ভাইরাসের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করতে। এই সংকট মোকাবিলার জন্য সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে একসাথে কাজ করতে হবে।

সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন নির্বাচনের সময় ভোট চাওয়ার মতো এই সংকটে জনগণের কাছেও যেতে হবে। গরীব-দুঃখী মানুষের দরজায় যেয়ে খাবার পৌঁছে দিতে হবে। কিন্তু জনপ্রতিনিধিদের কার্যক্রম এখনো দৃশ্যমান হচ্ছে না যা অত্যন্ত দুঃখজনক। মাঠ পর্যায়ে উভয়ের সমন্বয়হীনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জনগণ সকল ক্ষমতার উৎস এটা আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। নির্বাচন আসলে জনগণের কথা মনে পড়বে কিন্তু তাদের বিপদে আপনাদেরকে সার্চলাইট দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না এটা কখনো কাম্য নয়। প্রতিটি এলাকার সংসদ সদস্য, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের উচিত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী জনগণের পাশে দাঁড়ানো।

সরকারি বরাদ্দগুলো খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষদের মাঝে সঠিকভাবে বন্টন করা। প্রশাসনকে সাথে নিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি গরীব-দুঃখী মানুষের কষ্ট লাঘবে সহযোগিতা করতে হবে। গৃহে বন্দী থাকার কারণে দিন এনে দিন খাওয়া মানুষগুলো যাতে অনাহারে না থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। এই সংকটে গরীব-অসহায় মানুষদের জন্য বরাদ্দে হরিলুট করার চেষ্টা করবেন না। অতীতে আমরা দেখেছি প্রকৃত গরীব মানুষরা তাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আশা করি এই সংকটে আপনারা মানবিক থাকবেন ও দেশপ্রেমের পরিচয় দিবেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মেনে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। ১০ টাকা কেজি দরে ন্যায্য মূল্যে চাল বিতরণ, শ্রমিকদের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা, বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে হতদরিদ্রের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ ইত্যাদি কার্যক্রম যাতে সঠিকভাবে পরিচালিত হয়। কোন অনিয়ম ও গাফিলতি করার চেষ্টা করবেন না। মাঠপর্যায়ে সেবাদানকারী চিকিৎসক, সেনবাহিনী, পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন ও সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উচিত দ্রুত প্রতিটি বিভাগ ও জেলা হাসপাতালগুলোতে পিসিআর অথবা করোনা ভাইরাস নির্ণয় যন্ত্র স্থাপন করা। কোন মানুষ যাতে না খেয়ে থাকে, চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা উচিত। সমাজের বিত্তবানদের উচিত খেটে খাওয়া গরীব মানুষদের পাশে দাঁড়ানো। ক্যামেরায় ছবি উঠানো দরকার নেই।

কারণ অনেক মানুষ না খেয়ে থাকলেও ছবি উঠানোর লজ্জায় আপনার কাছে সাহায্য নিতে আসবেন না। তাই শো অফ না করে নিরবে নিভৃতে মানবতার সেবা করতে হবে। এর মধ্যেই প্রকৃত স্বার্থকতা নিহিত। সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় পারবে করোনা সংকট মোকাবিলা করে দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে।

লেখক: মোঃ আল মামুন
সাধারণ সম্পাদক
মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, কেন্দ্রীয় কমিটি।

ঢাকা, ২৯ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//টিআর

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।