ফার্স্টবেঞ্চার বনাম ব্যাকবেঞ্চার, দিনশেষে সফল যারা!


Published: 2018-09-06 17:48:07 BdST, Updated: 2018-11-17 11:03:54 BdST

মুহিত আহমেদ জামিল : ক্লাস ওয়ান থেকে টেন। সব ক্লাসেই ফার্স্ট। এসএসসিতে এ প্লাস, এইচএসসিতে গোল্ডেন এ প্লাস। বুঝতেই পারছেন পড়াশোনায় কতটা ব্রিলিয়ান্ট! ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন ছিল ছেলেটার। আশপাশের সবাই বলতো, মেডিকেলে তোমারতো নিশ্চিত চান্স হবে। একবার শুধু ভর্তি পরীক্ষাটা দিয়ে দেখো। তোমারতো আবার সেকেন্ড হওয়ার রেকর্ড নেই। মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষাতেও আবার ফার্স্ট হয়ে যাও কিনা সন্দেহ!

ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস! ছেলেটা মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষায় পাশ মার্কসটা পর্যন্ত তুলতে পারলো না। চান্স পাওয়া আর ফার্স্ট হওয়া, সে তো অনেক দূরের ব্যাপার!

বেশ কয়েকটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও পরীক্ষা দিল ছেলেটা। শেষ পর্যন্ত কোথাও চান্স হলো না আজীবন ফার্স্ট হয়ে আসা এই ছেলেটার। হঠাৎ করে সে পুরোটাই বদলে যেতে শুরু করলো।

প্রায়ই দেখা হয় ছেলেটার সঙ্গে। কথা বলার সময় মৃত মাছের মত হা করে তাকিয়ে থাকে। চোখের দিকে ভালো করে তাকালেই গভীর সংকোচে ভরপুর একজন মৃত মানুষের প্রতিচ্ছবির খোঁজ পাওয়া যায়! এলাকার মানুষগুলো এখনো আফসোস করে ছেলেটার জন্য।

২.
পড়াশোনায় খুব একটা ভালো না। একটা না একটা সাবজেক্টে ফেল করাটা যেন বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছিল মেয়েটার জন্য। চেহারা ভালো ছিল না মোটেও। বন্ধু-বান্ধবী, স্যার-ম্যাডাম কেউ কোন দিন বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিয়ে কথা বলেনি তার সাথে। এসএসসির মত এইচএসসিতেও খারাপ রেজাল্ট হলো। ৩.৮০! মেয়েটাকে প্রতিনিয়ত এভয়েড করা মানুষের সংখ্যাটা যেন হুট করে আরো বেশি বেড়ে গেল।

বদলে যেতে শুরু করলো মেয়েটা। দিন নাই, রাত নাই, নাওয়া খাওয়া সবকিছু বাদ দিয়ে টানা পড়াশোনা করতে লাগলো যেকোনভাবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা সিট ম্যানেজ করতে পারার আশায়। টাকার অভাবে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া আর কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করাটা হয়ে ওঠেনি।

ভাগ্য দুহাত ভরে দিয়েছে মেয়েটার। শাবিতে চান্স পেয়ে গেলো সে। প্রায়ই দেখা হয় মেয়েটার সাথে। এমনভাবে হেসে হেসে কথা বলে আমি কনফিউজড হয়ে যাই, আচ্ছা মেয়েটা কি পৃথিবীর সবচেয়ে বেশী সুখী মানুষ ?

সবকিছুকে বদলে দেবার অলৌকিক এক শক্তি আছে সময়ের। রাজার প্রজা হওয়া কিংবা প্রজার রাজা হওয়া- একমাত্র সময়ের ব্যবধানেই সম্ভব। সময় কাকে কোথায় নিয়ে পৌঁছাবে, আমরা কেউই সেটা জানি না, জানতে পারি না। কথায় আছে না, "Time can change everything" আসলেই তাই। আজ আছে তো কাল নেই ; আজ নেই তো কাল আছে। ব্যাপারটা ঠিক এমনই। জীবনের যে কতশত বিচিত্র রঙ আছে, একমাত্র সময়ের বদৌলতেই সেটার প্রমাণ পাওয়া যায়।

আজকে সবকিছু আছে বলে অহংকারে মাটিতে পা না ফেলাটা যেমন আহাম্মকদের কাজ, ঠিক তেমনি আজকে কিছু নেই বলে হা হুতাশ করতে করতে শেষ হয়ে যাওয়াটাও একধরনের আহাম্মকদেরই কাজ!

যারা ভালো রেজাল্ট করেছেন তাদেরকে বলছি, নিজেদের ভেতর অমূলক কোন ধরনের বিশ্বাস নিয়ে আসবেন না, 'আমি তো সব পারি, আমার কোন টেনশন নাই।' কনফিডেন্স ভালো, নট ওভার কনফিডেন্স। আর যারা আশানুরুপ রেজাল্ট করতে পারেননি, তারা নিজের এই ব্যর্থতাটাকে পরবর্তী সফলতার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করুন।

ট্রাস্ট মি, আজ থেকে চার-পাঁচ মাস পরে ভুলেও কেউ আপনাকে জিজ্ঞেস করবে না, "তোর এইচএসসির রেজাল্ট কি যেনো?" তখন সবাই আপনাকে যেই প্রশ্নটা জিজ্ঞেস করবে সেটা হচ্ছে, "কিরে, কোন ভার্সিটিতে চান্স পেয়েছিস?"

সো বি কেয়ারফুল, ফালতু কাজে কোন টাইম ওয়েস্ট করা যাবে না। এবার একটু সিরিয়াসলি পড়াশোনায় ড্রাইভ দিন। সামনে এডমিশন টেস্ট পরীক্ষা। নিজের ব্যর্থতাগুলোকে সফলতায় পরিণত করার এখনো যথেষ্ট সুযোগ আপনার সামনে আছে। সেটাকে কাজে লাগান। নিজেকে প্রমাণ করার এই সুযোগটা কোনকিছুতেই হাতছাড়া করবেন না।

চলতে গিয়ে হোঁচট খাওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। পা পিছলে পড়ে যাওয়াটাও মোটেই অস্বাভাবিক না। অস্বাভাবিক হলো হোঁচট খেয়ে পড়ে যাওয়ার পর আর উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টাটা না করা। বুদ্ধিমান তারাই যারা এই উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। আর দিনশেষে তারাই প্রকৃত সফল।

মুহিত আহমেদ জামিল
শিক্ষার্থী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা, ০৬ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।