41366

চলে গেলেন ব্রিটিশ রানির স্বামী প্রিন্স ফিলিপ

চলে গেলেন ব্রিটিশ রানির স্বামী প্রিন্স ফিলিপ

2021-04-09 19:55:40

লাইভ ডেস্ক: চলেে গেলেন তিনি। আর ফিরবেন না। ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের স্বামী ডিউক অব এডিনবরা প্রিন্স ফিলিপ মারা গেছেন। শুক্রবার (০৯ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে বাকিংহ্যাম প্যালেস। দীর্ঘদিন ধরে নানা অসুস্থতায় ভুগছিলেন ৯৯ বছর বয়সী প্রিন্স ফিলিপ। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শুক্রবার সকালে ৯৯ বছর বয়সে মারা যান ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের স্বামী ডিউক অব এডিনবরা প্রিন্স ফিলিপ। স্বামীর মৃত্যুর ঘোষণা দিয়েছেন রানি নিজেই। এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাকিংহ্যাম প্যালেস। তারা জানায়, স্বাভাবিকভাবেই মারা যান ফিলিপ।

তার মৃত্যুর পরপরই অর্ধনমিত করা হয় ব্রিটেনের জাতীয় পতাকা। ডিউক অব এডিনবরার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বিশ্ব নেতারাও। ১৯৪৭ সালে রানি এলিজাবেথের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন প্রিন্স ফিলিপ। এর পাঁচ বছর পর ব্রিটিশ সিংহাসনে আরোহণ করেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ।

১৯৫২ থেকে এ পর্যন্ত ২২ হাজারের বেশি একক সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নেন নৌবাহিনীর সাবেক এই কর্মকর্তা। ২০১৭ সালে সব ধরনের দায়িত্ব থেকে অবসরে যান তিনি। বেশ কয়েক বছর ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন প্রিন্স ফিলিপ। সবশেষ গত ফেব্রুয়ারিতে অসুস্থ বোধ করায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে।

দীর্ঘ একমাস হাসপাতালে থাকার পর গেল ১৫ মার্চ বাকিংহ্যাম প্যালেসে ফেরেন তিনি।
১৯২১ সালের ১০ জুন গ্রিক আইল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন প্রিন্স ফিলিপ। তার বাবা এন্ড্রো ছিলেন গ্রিস এবং ডেনমার্কের প্রিন্স। আর তার মা ছিলেন কুইন ভিক্টোরিয়ার বংশধর। মৃত্যুর সময় চার সন্তান রেখে গেছেন প্রিন্স ফিলিপ।

কেবলই স্মৃতি

 

প্রিন্স ফিলিপের শৈশব:

ব্রিটেনে রানির প্রতি নিরবচ্ছিন্ন ও অবিচল সমর্থনের কারণে ডিউক অব এডিনবার্গ প্রিন্স ফিলিপকে ব্যাপকভাবে সম্মান করা হতো। এটা যে কারো জন্য মারাত্মক কঠিন ভূমিকা বলেই মনে হবে। বিশেষ করে এমন এক ব্যক্তির জন্য যিনি একজন কমান্ডার হিসেবে নৌবাহিনীতে অভ্যস্ত এবং বিভিন্ন বিষয়ে তার জোরালো দৃষ্টিভঙ্গি আছে।

একজন সার্বভৌম নারীর একজন পুরুষ সঙ্গী হিসেবে প্রিন্স ফিলিপের কোনো সাংবিধানিক পদ ছিল না। কিন্তু রাজবংশের কাছে তিনি ছাড়া আর কেউই এত বেশি ঘনিষ্ঠ ও গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন না। খবর বিবিসির।

প্রিন্স ফিলিপ অব গ্রিস করফু দ্বীপে ১৯২১ সালের ১০ জুন জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেন প্রিন্স অ্যান্ড্রু অব গ্রিস, রাজা প্রথম জর্জ অব হেলেনসের কনিষ্ঠ পুত্র। তার মা প্রিন্সেস অ্যালিস অব বাটেনবার্গ, প্রিন্স লুইস অব বাটেনবার্গের বড় সন্তান। আর বোন আর্ল মাউন্টব্যাটেন অব বার্মা।

১৯২২ সালে অভ্যুত্থানের পর তার বাবাকে গ্রিস থেকে নির্বাসনে পাঠায় বিপ্লবী আদালত। তখন পরিবারটিকে ইতালি নিয়ে যেতে রাজা পঞ্চম জর্জ একটি ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজ পাঠান।
এই সমুদ্রযাত্রার বেশিরভাগ সময় কমলাবাহী একটি ঝুড়িতে থাকতে হয়েছে শিশু প্রিন্স ফিলিপকে।

তিনি ছিলেন বাবা-মায়ের কনিষ্ঠ সন্তান, আর পরিবারে বোনদের একমাত্র ভাই। যে কারণে বেশ আদর আর ভালোবাসায় তার শৈশব কেটেছে। তার শিক্ষাজীবন শুরু হয় ফ্রান্সে। সাত বছর বয়সে ইংল্যান্ডের মাউন্টব্যাটেনে আত্মীয়দের সঙ্গে বসবাস করতে চলে আসেন।

এখানে সুরি কাউন্টিতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিনি ভর্তি হন। এ সময়ে তার মায়ের শরীরে সিজোফ্রেনিয়া ধরা পড়লে তাকে আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়। এতে বালক রাজপুত্রের সঙ্গে তার মায়ের যোগাযোগ হত কম। ১৯৩৩ সালে জার্মানির দক্ষিণাঞ্চলে সুল স্কালোস সালেমে যান তিনি। শিক্ষায় পথ প্রদর্শক কুর্ট হান পরিচালন করতেন এই প্রতিষ্ঠানটি।

কিন্তু কুর্ট হান ইহুদি ধর্মাবলম্বী হওয়ায় কয়েক মাসের মধ্যে তাকে নাৎসিদের নির্যাতনের কবলে পড়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে। এরপর প্রিন্স ফিলিপ পাড়ি জমান স্কটল্যান্ডে, সেখানে গর্ডোনস্টাউন স্কুলে ভর্তি হন। স্কুলটি ছিল কিশোর ফিলিপসের জন্য আদর্শ পরিবেশ। বাবা-মাকে ছাড়া বসবাস করায় এখানে সবকিছু তাকেই করতে হত।

এরপর যুদ্ধ চলে আসলে প্রিন্স ফিলিপ সামরিক বাহিনীতে ক্যারিয়ার গড়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি রাজকীয় বিমান বাহিনীতে যোগ দেন। তার মায়ের পরিবারের সমুদ্রভ্রমণের ঐতিহ্য ছিল। তিনি ডারমাউথে ব্রিটানিয়া রয়েল নেভাল কলেজের একজন ক্যাডেট হন।

ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের স্বামী ডিউক অব এডিনবরা প্রিন্স ফিলিপ শুক্রবার ৯৯ বছর বয়সে মারা গেছেন। এক বিবৃতিতে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে বাকিংহ্যাম প্যালেস। দীর্ঘদিন ধরে নানা অসুস্থতায় ভুগছিলেন প্রিন্স ফিলিপ।

ঢাকা, ০৯ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

প্রধান সম্পাদক: আজহার মাহমুদ
যোগাযোগ: হাসেম ম্যানসন, লেভেল-১; ৪৮, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, তেজগাঁ, ঢাকা-১২১৫
মোবাইল: ০১৬৮২-৫৬১০২৮; ০১৬১১-০২৯৯৩৩
ইমেইল:[email protected]