যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান-সচিব লাপাত্তা


Published: 2021-10-25 14:58:42 BdST, Updated: 2021-12-02 22:14:13 BdST

যশোর লাইভ: যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোল্লা আমীর হোসেন এবং সচিব প্রফেসর এ এম এইচ আলী আর রেজা আট দিন ধরে উধাও। বিপুল অর্থ আত্মসাতের দায়ে বোর্ডের চেয়ারম্যান-সচিবের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। শিক্ষা বোর্ডের বাংলোয় নিজ নিজ বাসায় তাদের আর খোঁজ মিলছে না।

এদিকে, আগামী ১৪ নভেম্বর থেকে শুরু হবে এসএসসি পরীক্ষা। ২ ডিসেম্বর থেকে হবে এইচএসসি। বোর্ডে পরীক্ষার প্রস্তুতি কাজে জরুরি অনেক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। অথচ বোর্ডের শীর্ষ দুই নীতিনির্ধারকই পালিয়ে। তাদের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত বোর্ডের অন্তত পাঁচ কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে। অর্থ আত্মসাতের দায়ে কোনো শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের পালিয়ে থাকার ঘটনা দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম। আলোচিত দু'জনই বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা।

গত ১৮ অক্টোবর বোর্ড ছেড়ে যাওয়ার আগে চেয়ারম্যান মোল্লা আমীর হোসেন অফিসিয়াল ফাইলে নোট রেখে যান, দাপ্তরিক কাজে তিনি গাজীপুরে যাচ্ছেন। গত শুক্রবার চালকসহ তার অফিসিয়াল গাড়িও নিয়ে গেছেন। তবে গাজীপুরে যশোর শিক্ষা বোর্ডের দাপ্তরিক কী কাজ থাকতে পারে, বোর্ডের কেউই তা বলতে পারছেন না।

দুদকের মামলা হওয়ার দিন একই সময়ে আট দিনের মেডিকেল ছুটির আবেদন রেখে বোর্ড ছাড়েন সচিব প্রফেসর এ এম এইচ আলী আর রেজা। ১৮ অক্টোবর দুদক চেয়ারম্যান, সচিবসহ পাঁচজনের নামে মামলা করে আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে। এরপর গত বৃহস্পতিবার ধরা পড়ে আরও আড়াই কোটি টাকা জালিয়াতি ও আত্মসাতের ঘটনা। একজন শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততায় এমন বৃহৎ আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনা সারাদেশে সমালোচনার ঝড় তুলছে। শিক্ষাবিদরা বলছেন, এ ঘটনা যশোর শিক্ষা বোর্ডকে শুধু কলঙ্কিতই করেনি, কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে জাতিকে।

চেয়ারম্যান ও সচিবের অনুপস্থিতি ও জালিয়াতির ঘটনা ঘিরে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বোর্ডের। সমস্যার সমাধান না হলে সময়মতো ও সুষ্ঠুভাবে এসএসসি পরীক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রেও সংকট দেখা দিতে পারে বলে শঙ্কিত অনেকেই।


ঢাকা, ২৫ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।