সিদ্ধান্ত ছাড়াই ভিসিদের বৈঠক শেষ, ভিসি পরিষদের ফাইনাল হবেপাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা: ভিসিদের নানামত


Published: 2020-10-16 10:44:20 BdST, Updated: 2020-10-22 03:05:00 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা। এটা একটা রুটিন কাজ। সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে মাধ্যমিক ও সমমান উত্তীর্ণরা এতে অংশ নেন। প্রতিবছরেই এটা হয়ে থাকে। কিন্তু ব্যতিক্রম এ বছর। এখন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিরা এ ব্যাপারে একমত হতে পারেন নি। তারা নানান বিভক্তির মধ্যদিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) বেঠক শেষ করলেন। আবারও বৈঠকের মাধ্যমে এর সুরাহা খুঁজবেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিস্টরা।

কোভিড-১৯ এর অবস্থায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিরা ভর্তি পরীক্ষা নিতে চান না। তবে এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য নেয়া টেস্ট পরীক্ষার ফলাফল মূল্যায়ন করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তাব এসেছে। এতে অনেকে সায় দিয়েছেন। কেউ আবার এইচএসসি-সমমানের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে ভর্তির প্রস্তাব করেছেন।

তবে অনেকেরই এই প্রস্তাবে না বলেছেন এমন তথ্য মিলেছে। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান কাজী শহীদুল্লাহ এতে সভাপতিত্ব করেন। সভায় ইউজিসির সদস্য ও দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিরা উপস্থিত ছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির বিষয় নিয়ে উপাচার্যদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পরীক্ষা না নিয়ে ভিন্ন পদ্ধতিতে ভর্তি করাতে অনেকে ভিন্ন ভিন্ন মত দিয়েছেন।

করোনাকালে এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষা আয়োজন করাটা ঝুঁকিপূর্ণ বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না হলেও আগামী শনিবার ভিসিরা বৈঠক করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদের সঙ্গে আবারও বৈঠক করার কথা রয়েছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে। কীভাবে ভর্তি পরীক্ষা নেয়া যায় সে বিষয়ে সবার কাছে মতামত চাওয়া হয়।

কোভিড-১৯ এর মধ্যে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করতে প্রায় সবাই আপত্তি জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, সরাসরি পরীক্ষা আয়োজন করা সম্ভব না হলেও কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো যায়, সে বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে। আগামী শনিবার (১৭ অক্টোবর) পাবলিক ভিসি পরিষদের সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে।

অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করতে গিয়ে পরীক্ষার্থীদের কেউ করোনায় আক্রান্ত হলে নতুন সঙ্কট সৃষ্টি হতে পারে। এই ইস্যুতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামতে পারে। এসব বিষয় বিবেচনা করে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করা হবে নাকি ভিন্ন পদ্ধতিতে ভর্তি করানো হবে আলোচনার মাধ্যমে সেসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এখনই ফাইনাল কিছু বলা যাবে না।

ভর্তি পরীক্ষা না নিয়ে এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের আগে টেস্ট পরীক্ষার ফলাফল মূল্যায়ন করে ভর্তি করার প্রস্তাব দেন সিরাজগঞ্জের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক রফিকুল্লাহ খান। তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেয়াটা ঝুঁকিপূর্ণ। আবার শিক্ষার্থীদের ভর্তি না করালেও নতুন সঙ্কট তৈরি হবে।

যেহেতু পরীক্ষা বাতিল করে জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার মাধ্যমে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে- তাই এ ফল মূল্যায়ন করে ভর্তি না করে এইচএসসির টেস্ট পরীক্ষার ফলাফল মূল্যায়ন করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তাব জানান তিনি। তার এ প্রস্তাবে কয়েকজন ভিসি সম্মতি দিয়েছেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক হারুন অর রশিদ বলেন, কয়েক বছর ধরে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করানো হচ্ছে। যেহেতু এবার ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করাটা কঠিন হয়েছে দাঁড়িয়েছে, তাই দুই পাবলিক পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তাব দেন তিনি। তবে এটাও ফাইনাল কোন সাজেশন নয়। ভিসি পরিষদের এ ব্যাপারে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

ঢাকা, ১৫ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।