ভাল নেই মদনে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৫০ পরিবার


Published: 2020-08-05 19:36:19 BdST, Updated: 2020-09-23 12:35:57 BdST

নেত্রকোনা লাইভঃ পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে মগড়া ও ধনু নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নেত্রকোনার মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী গুচ্ছগ্রামে দূর্ভোগে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ে থাকা ৫০ পরিবার। বসবাসের শেষ আশ্রয়স্থল প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে পানি প্রবেশ করায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে তারা।

জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে নেত্রকোনার মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর অবদান গৃহহীনদের বাসস্থান গুচ্ছগ্রাম দ্বিতীয় পর্যায় (সিভিআরপি) প্রকল্পের আওতায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ৮৪ লাখ ৩৬ হাজার টাকা ব্যয়ে এ ৫০টি গৃহহীন পরিবারের আশ্রয়স্থল নির্মাণ করা হয়।

সোমবার (৩ আগস্ট) সরেজমিন গোবিন্দশ্রী গুচ্ছগ্রামে গেলে দেখা যায়, ঘরের ভেতরে পানি। বন্যার পানি কমলেও ঘরের ভেতরে পানি থাকায় ঘরে থাকতে পারছেনা কেউ। গুচ্ছ গ্রামের কর্মক্ষম মহিলা ও পুরুষরা দিনের বেলা ঘর পাহারা দেয়, আর কর্মশীল লোকজন দিনের বেলা কাজ করে রাতে তাদের ঘরবাড়ি পাহারা দেয়। গর্ভবতী ও শিশুদের নিয়ে নানা সংশয়ে ভুগছেন পরিবার। সবকটি পরিবার পাশের গ্রামে গিয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। পানিবন্দি অবস্থায় চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে তাদের জীবন।

এ সময় জুবেদা, মজিদ খান, নার্গিস, ঝর্ণা, বকুল মিয়া, তৌহিদ, শহীদুলসহ অনেকেই জানান, আমাদের কোনো ঘরবাড়ি না থাকায় হাওরের মাঝে সরকার আমাদেরকে থাকার জায়গা করে দিয়েছে। পানি আসার সঙ্গে সঙ্গে মাটি সরে গিয়ে ভাঙতে শুরু করলে আমরা নিজেরা টাকা তুলে কোনো রকম বাঁধ দিলেও ভাঙন রোধ হয়নি।

গোবিন্দশ্রী গুচ্ছগ্রাম

 

স্বাভাবিক পানি হওয়ার পরেই (৮ জুলাই) রবিবার থেকে আমাদের ঘরের ভেতর পানি প্রবেশ করায় আমরা খুব কষ্টে দিন যাপন করছি। শুনেছি পাশের গ্রামের সমান উঁচু করার কথা ছিল। কিন্তু পাশের গ্রামের বাড়িতে পানি না উঠলেও আমাদের ঘরে কোমর পানি হয়েছিল।

আমরা গরীব মানুষ এত কিছু জানিনা তবে আপনাদের (সাংবাদিক) মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলতে চাই, আপনার স্বপ্নের গড়া অসহায় গরীব দুঃখী মানুষের জন্য আশ্রয়ন প্রকল্প নির্মাণ করার ক্ষেত্রে যদি কেউ অনিয়ম করে তাহলে তাদের ব্যাপারে আপনি ব্যবস্থা নিবেন, এটা আমাদের দাবি।তাদের কাছে ত্রাণ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, প্রশাসনের লোকজন এসে শুকনো খাবারসহ ত্রাণ দিয়ে গেছে। আমরা খাবার চাই না, উঁচু বাসস্থান চাই।

গোবিন্দশ্রী ইউপি চেয়ারম্যান এ কে এম নূরুল ইসলাম (ছদ্দু মিয়া) সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শওকত জামিল ছুটিতে থাকায় ফোনে যোগাযোগ করেও বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ জানান, গত কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে মদনের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গোবিন্দশ্রী গুচ্ছগ্রামে ঘরের ভেতরে পানি প্রবেশ করেছে। তাদের মাঝে শুকনো খাবারসহ তিনবার ত্রাণ সামগ্রী পৌছে দিয়েছি। তাদের যাতে কোনো সমস্যা না হয় আমি সব সময় তাদের খোঁজ খবর রাখছি। গুচ্ছ গ্রাম পাশের গ্রামের থেকে নিচু থাকেলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

ঢাকা, ০৫ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//কেএইচএম// এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।