নিয়মিত তদারকির অভাবে ঝোপঝাড়ে পরিণত হয়েছে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র...মদনের উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের একমাত্র ভরসা আয়া!


Published: 2020-07-13 18:37:40 BdST, Updated: 2020-08-06 19:19:04 BdST

কামাল হোসেন মন্ডল, নেত্রকোনা:  স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। জনবল সঙ্কট ও তদারকির অভাবে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলার মদন ইউনিয়নের উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র। নামে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র হলেও সেবার কোন বালাই নেই । নিয়োগ প্রাপ্ত ডাক্তার থাকলেও কখনো তিনি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আসেন না।

বিভিন্ন পদে জনবল না থাকায় গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা’সহ গ্রামীণ শিশু, নারী ও সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একমাত্র পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের আয়া দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কার্যক্রম।

সূত্রে জানা যায়, মদন উপজেলার একমাত্র উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র মদন সদর ইউনিয়নে অবস্থিত। এই উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ১ জন মেডিক্যাল অফিসার, মিডওয়াইফ, উপ-সহকারী মেডিকেল কর্মকর্তা, ফার্মাসিস্ট, অফিস সহায়কসহ ৬ টি পদ রয়েছে। তন্মধ্যে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে একজন ডাক্তার রয়েছে যিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্ম সম্পাদন করেন। অন্যজন পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরে স্থায়ী একজন আয়া রয়েছে। এ উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে মিডওয়াইফ, উপ-সহকারী মেডিকেল কর্মকর্তা, ফার্মাসিস্ট ও অফিস সহায়ক এর সবকটি পদ রয়েছে শূন্য।

সোমবার (১৩ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, মদন উপজেলার একমাত্র উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র ৩ নং মদন ইউনিয়নে অবস্থিত। এই ইউনিয়নে পঁচিশ হাজারের বিশাল জনসংখ্যা রয়েছে। অফিস খোলা থাকলেও ডাক্তার না বসায় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন আশপাশ ও দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগিরা। এ কারণে গর্ভবতী মহিলারা প্রসব সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জরুরী প্রয়োজনে নিয়ে যেতে হচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। জনবল না থাকায় এবং নিয়মিত তদারকির অভাবে ঝোপঝাড়ে পরিণত হয়েছে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র।

ঝোপঝাড়ে পরিণত হয়েছে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র

 

বাড়ঘুরি থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা ফুলেছা বেগম বলেন, আমার জ্বর কাশি, এসেছিলাম ঔষুধ নেয়ার জন্য এখানে ঔষধও নেই ডাক্তারও নেই তাই বাড়ি ফিরে যাচ্ছি।

খাইকুরিয়া এলাকার শাহ বজলুর রশীদ জানান, দীর্ঘদিন ধরে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসক নেই। শুধুমাত্র একজন আয়া রয়েছেন, যিনি মাঝে মধ্যে আসেন এবং ঘণ্টা দুয়েক পরে আবার চলে যান। তাই জরুরী প্রয়োজনে গুরুতর রোগীরা বাড়ির কাছে স্বাস্থ্য কেন্দ্র থাকা সত্বেও চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

জাকির আহমেদ নামে এক যুবক জানান, অনেক দিন যাবৎ চিকিৎসক নেই, ঔষধও নেই, অন্যান্য পদে লোকও নেই, তাই এই এলাকার মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সঠিক ভাবে দেখভাল না করায় কেন্দ্রেটি ঝোপঝাড়ের পরিণত হয়েছে। আমরা দ্রুত চিকিৎসকসহ অন্যান্য পদে লোকবল দেয়ার জোর দাবী জানাচ্ছি।

উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আয়া রিনা আক্তার বলেন, এই হাসপাতালে আমিই একমাত্র স্থায়ীভাবে কাজ করছি। আমি ছাড়া আরেকজন আপা আছেন যিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রাপ্ত। তিনি আরও বলেন পরিবার পরিকল্পনার সেবা আমিই দিচ্ছি। হাসপাতালে পরিবার পরিকল্পনার ঔষধ ছাড়া অন্য কোন ঔষধ আসেনা।

ভারঃ পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা শিপ্রা শাহা জানান, আমাকে গত মাসে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমি প্রতি রবিবারে এখানে ডিউটি করি। আমি ডিউটি করা অবস্থায় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কাউকে দেখিনি।

সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান শেখ মানিক ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, আমি ইউপির দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে কখনো চিকিৎসা সেবা দিতে দেখিনি।

ডাঃ শান্তানো শাহা জানান, আমার কর্মস্থলে স্টাফ না থাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা স্যারের নির্দেশনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কার্যসম্পাদন করে আসছি।

এব্যাপারে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য পঃ পঃ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল হাসান চৌধুরী টিপু ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, জমি সংক্রান্ত জটিলতা ও স্টাফ না থাকায় ওখানে চিকিৎসা সেবা দেওয়া যাচ্ছে না।

নেত্রকোনা সিভিল সার্জন ডাঃ তাইজুল ইসলাম ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, আমি উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসকের সাথে কথা বলব যেন সপ্তাহে দুদিন চিকিৎসা সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করে।

ঢাকা, ১৩ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//কেএইচএম//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।