বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা আর ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে উদযাপিত হচ্ছে ঈদুল আজহাদেশে ত্যাগের মহিমায় ঈদুল আজহা পালিত


Published: 2019-08-12 21:39:06 BdST, Updated: 2019-08-18 15:44:17 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: সারা দেশে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা আর ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে আজ সারাদেশে উদযাপিত হচ্ছে মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। মহান আল্লাহর অপার অনুগ্রহ লাভের আশায় ঈদুল আজহার জামাত শেষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সামর্থ অনুয়ায়ী পশু কোরবানি দিচ্ছেন।সোমবার সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন ঈদের জামাতে সমাবেত হন লাখো মানুষ।

নামাজ আদায়ের পর মোনাজাতে মুসলিম উম্মাহ ও বিশ্বের শান্তি কামনা করা হয়। জাতীয় ঈদগাহে অনুষ্ঠিত ঈদের প্রধান জামাতে দোয়া ও
মোনাজাতে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনার পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া লোকজনের রুহের মাগফেরাত ও আক্রান্তদের রোগ মুক্তির জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়েছে।
এর আগে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সোমবার সকাল ৮টায় ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এই জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের জ্যেষ্ঠ ইমাম মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান। ঈদের প্রধান জামাতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, পদস্থ সামরিক বেসামরিক কর্মকর্তারা অংশ নেন।

রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে সকাল ৭টায় ঈদুল আজহার প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম মসজিদের পেশ ইমাম মুফতী মাওলানা মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে সকাল ৮টায় দ্বিতীয়, সকাল ৯টায় তৃতীয়, সকাল ১০টায় চতুর্থ এবং ১০টা ৪৫ মিনিটে শেষ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহে সকাল সাড়ে ৮টায় অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও ধর্মীয় ভাব-গাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদুল আজহার ১৯২তম জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। নামাজে খুতবা পাঠ, ইমামতি ও মোনাজাত পরিচালনা করেন শহরের মারকাস মসজিদের খতিব মাওলানা হিফজুর রহমান খান।

দিনাজপুরের গোর-এ শহীদ বড় ময়দানে মুসল্লিরা ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেন। সকাল সাড়ে ৮টায় লাখো ধর্মপ্রাণ মুসলিম জামাতে অংশ নেন। মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান এ ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে পৃথক বাণী দিয়েছেন।

নামাজ শেষে রাষ্ট্রপতি মুসুল্লিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) তত্ত্বাবধায়নে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় ঈদগাহে নারী মুসুল্লিদের নামাজ আদায়ের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঈদগাহ ও এর আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

এর আগে রাষ্ট্রপতি ঈদগাহে পৌঁছালে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তাকে অভ্যর্থনা জানান।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ কোরবানির মর্ম অনুধাবন করে সমাজে শান্তি ও কল্যাণের পথ রচনা করতে সবাইকে সংযম ও ত্যাগের মানসিকতায় উজ্জীবিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মুসলিম ভাই-বোনদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানান। তিনি বলেন, মহান আল্লাহর প্রতি গভীর আনুগত্য ও সর্বোচ্চ ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর পবিত্র ঈদুল আজহা। ‘আজহা’ অর্থ কোরবানি বা উৎসর্গ করা।
ঈদুল আজহা উৎসবের সাথে মিশে আছে চরম ত্যাগ ও প্রভুপ্রেমের পরাকাষ্ঠা। মহান আল্লাহর নির্দেশে স্বীয় পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করতে উদ্যত হয়ে হযরত ইব্রাহিম (আ.) আল্লাহর প্রতি অগাধ ভালোবাসা, অবিচল আনুগত্য ও অসীম আত্মত্যাগের যে সুমহান দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা ইতিহাসে অতুলনীয়।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘কোরবানি আমাদের মাঝে আত্মদান ও আত্মত্যাগের মানসিকতা সঞ্চারিত করে, আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীর সঙ্গে সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নেয়ার মনোভাব ও সহিষ্ণুতার শিক্ষা দেয়। কোরবানির মর্ম অনুধাবন করে সমাজে শান্তি ও কল্যাণের পথ রচনা করতে আমাদের সংযম ও ত্যাগের মানসিকতায় উজ্জীবিত হতে হবে। ত্যাগের শিক্ষা আমাদের ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে প্রতিফলিত হলেই প্রতিষ্ঠিত হবে শান্তি ও সৌহার্দ্য।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত। আবহমানকাল থেকে বাংলাদেশে সকল ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে জাঁকজমকের সাথে নিজ-নিজ ধর্ম ও আচার-অনুষ্ঠানাদি পালন করে আসছে। এটা দেশের সম্প্রীতির এক অনুপম ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্যকে সমুন্নত রেখে দেশ ও জাতির কল্যাণে তা কাজে লাগাতে হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, সকল ধর্মের মূল বাণী হচ্ছে মানবকল্যাণ। কোন ধর্মই সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সমর্থন করে না। কোরবানির শিক্ষা ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে প্রতিফলিত হোক।

আবদুল হামিদ বলেন, মহান আল্লাহর নিকট কোরবানি কবুল হওয়ার জন্য শুদ্ধ নিয়ত ও উপার্জন থাকা আবশ্যক। পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত স্থানে কোরবানি দেয়া ও কোরবানির বর্জ্য অপসারণে সকলে সচেষ্ট থাকবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ঢাকা, ১২ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এবিএম

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।