ধর্মঘটে জনদুর্ভোগ চরমে


Published: 2018-10-29 15:25:17 BdST, Updated: 2018-11-18 01:55:25 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: রাজধানী ঢাকা সহ সারা দেশে পরিবহন শ্রমিকদের ডাক ৪৮ ঘন্টা ঘর্মঘটে জনদুর্ভোগ এখনো কাটেনি। শ্রমিকদের ডাকা ধর্মঘটে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নানা ভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। কর্ম প্রিয় মানুষের স্থবিরতা নেমে এসেছে। শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে দ্বিতীয় দিনের মতো সারা দেশে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ সংশোধনসহ আট দফা দাবিতে রবিবার সকাল ৬টা থেকে শুরু করে ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘট পালন করছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। ধর্মঘটের প্রথম দিনে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অফিসগামী সাধারণ কর্মজীবীরা। গাড়ি না পেয়ে পায়ে হেঁটেই অনেকে গন্তব্যস্থলে রওনা হয়েছেন। সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ অন্যান্য ব্যক্তিগত গাড়ি পাওয়া গেলেও চালকরা কয়েকগুণ বেশি ভাড়া নিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রজধানীর বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখা যায়, আব্দুল্লাহপুর, জসিমউদ্দিন রোড, এয়ারপোর্ট, খিঁলক্ষেত, বনানী, মহাখালী ও ফার্মগেট, কারওয়ানবাজার ও সাতরাস্তাসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার যাত্রী কাঙ্খিত গাড়ির অপেক্ষায় সড়কে দাঁড়িয়ে আছেন। অফিস সময় হওয়ায় অনেকে পাগলের মতো হন্য হয়ে খুঁজছে গাড়ি। গণপরিবহন ছাড়া সিএনজি, পাঠাও ও উবারের মতো গাড়ি পাওয়া গেলেও গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। বাধ্য হয়ে অনেকে বেশি ভাড়া দিয়ে অফিসে যাচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাস না পাওয়ায় নারী ও বয়স্কদের পড়তে হয়েছে বেশি ভোগান্তিতে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যক্তিগত গাড়ি ছাড়া রাস্তায় কোনো গণপরিবহন নেই।

ধর্মঘটের বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি সংসদ সদস্য ওয়াজিউদ্দিন খান ও সাধারণ সম্পাদক উছমান আলী ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, গত ১৯ সেপ্টেম্বর ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। ফেডারেশনের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন যুগোপযোগী আধুনিক ও উন্নত সড়ক পরিবহন আইন প্রণয়নের দাবি করে আসছে।

সেই দাবিকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান সরকার আইন পাস করলেও বেশ কিছু ধারা শ্রমিক স্বার্থের বিরুদ্ধে করা হয়েছে। যে কারণে পরিবহন শ্রমিকদের চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে।

এ ছাড়াও তিনি আরো জানান, আইনে সড়ক দুর্ঘটনাকে দুর্ঘটনা হিসেবে গণ্য না করে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে জামিন অযোগ্য করা হয়েছে। আমরা জানি, দুর্ঘটনা পরিকল্পিতভাবে ঘটে না। কিন্তু অপরাধ পরিকল্পিতভাবেই ঘটে।

পরিবহন শ্রমিকদের ঘোষিত আট দফ দাবিগুলো হচ্ছে, সড়ক দুর্ঘটনায় মামলা জামিনযোগ্য করতে হবে, শ্রমিকদের অর্থদন্ড পাঁচ লাখ টাকা করা যাবে না। সড়ক দুর্ঘটনা তদন্ত কমিটিতে শ্রমিক প্রতিনিধি রাখতে হবে। ড্রাইভিং লাইসেন্সে শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম শ্রেণি করতে হবে। ওয়েস্কেলে (ট্রাক ওজন স্কেল) জরিমানা কমানোসহ শাস্তি বাতিল করতে হবে। সড়কে পুলিশের হয়রানি বন্ধ করতে হবে। গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের সময় শ্রমিকদের নিয়োগপত্র সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সত্যায়িত স্বাক্ষর থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। সব জেলায় শ্রমিকদের ব্যাপক হারে প্রশিক্ষণ দিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু করতে হবে এবং লাইসেন্স ইস্যুর ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ করতে হবে।

 

ঢাকা, ২৯ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।