ঢাকায় মিলছে উটপাখির মাংস, আমিষের চাহিদা পূরণ


Published: 2021-07-30 18:44:22 BdST, Updated: 2021-10-16 21:45:02 BdST

জাহিদুর রহমান, সাভার: খাবারের প্লেটে উটপাখির মাংস! হোটেলে গেলেন, হোটেল বয় জিজ্ঞেস করছে, ‘স্যার- কোনটা খাবেন? উটপাখি, মুরগি গরু না খাসি?’ কি অবাক হচ্ছেন? আগামীতে এমন দৃশ্যপটের বাস্তব রূপ দিতে কাজ করছেন দেশের প্রাণিবিজ্ঞানীরা। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও উটপাখির মাংস খাওয়া হালাল। তাই বাণিজ্যিকভাবে উটপাখির খামার দেশজুড়ে ছড়িয়ে দিতে কাজ শুরু করেছে সাভারে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআইএ)।

প্রথমবারের মতো গবেষণার মাধ্যমে উন্নত জাতের উটপাখি পালন শুরু করে বিএলআরআইএ। গবেষণার মাধ্যমে এরই মধ্যে বাণিজ্যিক খামারে উটপাখি পালনে সম্ভাবনাময় ও ইতিবাচক ফলাফল পেয়েছে সংস্থাটি। এখন মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারণের জন্য প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার অপেক্ষায় রয়েছে সংস্থাটি।

দেশে মাংসের চাহিদা মেটানোর জন্য বছরখানেক আগে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে কিছু উটপাখি আনে বিএলআরআইএ। এখানেই উটপাখিগুলো পালন করা হচ্ছে। তিন বছর গবেষণা শেষে পাখিগুলো দেশের বিভিন্ন খামারিদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার কথাও ভাবছে সংস্থাটি। উটপাখির অবাধ প্রজনন, ডিম ফোটানো থেকে শুরু করে খাবার, লালন-পালন এবং এর মাংসের গুণাগুণ নিয়ে এরই মধ্যেই বেশ ইতিবাচক ফলাফল পাওয়ার বিষয়টি সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলকে জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান।

সর্ববৃহৎ পাখি হলেও উটপাখি উড়তে পারে না। এদের মরুভূমির সৌন্দর্য বলা হয়। উটপাখি সাত থেকে আট ফুট পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। এদের ১৫০ থেকে ১৮০ কেজি পর্যন্ত ওজন হয়। ওজনে যেমন তেমনি আকৃতিতেও বড় উটপাখির ডিম। উটপাখির প্রতিটি ডিমের গড় ওজন প্রায় দেড় কেজি।

ঘাস খাওয়াচ্ছে

 

সাধারণত তৃণভোজী অর্থাৎ শুধুমাত্র ঘাস ও লতাপাতা খেয়ে বেঁচে থাকে উটপাখি। একেকটি উটপাখি বছরে গড়ে ১০০টি ডিম দিয়ে থাকে। উটপাখি পালনে তেমন খরচ নেই, তাই বাংলাদেশেএটি একটি লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হতে পারে। এ পাখির মাংস বেশ সুস্বাদু। স্বাদ অনেকটা মুরগির মাংসের মতোই। তবে মুরগির মাংসের চাইতেও উটপাখির মাংসে কোলেস্টেরলের পরিমাণ অনেক কম, তাই এর মাংসের কদরও বেশ। বর্ধনশীল পাখি হিসেবে দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে সহজেই মানিয়ে নিয়েছে উটপাখি।

পুষ্টি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ প্রকল্পের আওতায় বিএলআরআইয়ে উটপাখি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছেন প্রকল্প পরিচালক ও প্রধান বৈজ্ঞানিক ড. মো. সাজেদুল করিম সরকার। তিনি বলেন, ‘এতদিন অনেকেই সৌন্দর্যবর্ধন এবং শখে উটপাখি পালন করেছে‌। অনেকে জানতেনই না যে উটপাখির মাংস শতভাগ হালাল। এর লালন-পালনকে সহজলভ্য এবং এর মাংসকে জনপ্রিয় করার জন্য আমরা কাজ করছি। গুণাগুণ বিচারে উটপাখির মাংসের তুলনা হয় না।’

বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. আব্দুল জলিল বলেন, ‘বাংলাদেশে উটপাখির মাংসের খুবই চাহিদা রয়েছে। একটা সময় মানুষ বয়লার মুরগি খেতে ইতস্ততা করতো। এখন বয়লার মুরগি দিয়েই আমিষের চাহিদা পূরণ হচ্ছে। তেমনিভাবে অদূর ভবিষ্যতে দেশে আমিষের চাহিদা পূরণে বেশ ভূমিকা রাখবে উটপাখির মাংস।’

ড. আব্দুল জলিল আরও বলেন ‘মানুষের খাবারে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি উটপাখির মাংস সুলভ মূল্যে তুলে ধরার জন্য আমাদের গবেষণা অব্যাহত রয়েছে। দ্রুতই দেশে উটপাখির বাণিজ্যিক খামার গড়ে তোলার ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

কার্টেসি এনটিভি অনলাইন।

ঢাকা, ৩০ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।