teletalk.com.bd
thecitybank.com
livecampus24@gmail.com ঢাকা | শনিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২২, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
teletalk.com.bd
thecitybank.com

শেষ কর্মদিবসে পালিয়ে বিদায় নিলেন উপাচার্য

Morsedul Alam | প্রকাশিত: ১৮ নভেম্বর ২০২২ ১৬:৫১

প্রকাশিত: ১৮ নভেম্বর ২০২২ ১৬:৫১

উপাচার্য সৈয়দ সামসুদ্দিন আহমেদ

লাইভ প্রতিবেদক: অবশেষে পালিয়েই বিদায় নিতে হলো উপাচার্য অধ্যাপক সৈয়দ সামসুদ্দিন আহমেদকে। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ছিলেন তিনি। দুর্নীতির অভিযোগে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনের মুখে কয়েক দিন আগে গোপনে ক্যাম্পাস ছাড়েন তিনি। পরে উপাচার্য (ভিসি) পদে চার বছর মেয়াদের শেষ কর্মদিবসটি রাজধানীর ধানমন্ডিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাড়া করা গেস্ট হাউসে কাটিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার উপাচার্যের শেষ কর্মদিবসে বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, পুরো ক্যাম্পাসে সুনসান নীরবতা। তাঁর কক্ষে ঝুলছে তালা। আন্দোলনরত শিক্ষকরা একাডেমিক ভবনে প্রক্টর অফিসে তাঁদের চলমান আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে সভা করছেন।

জানা গেছে, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে উপাচার্য সৈয়দ সামসুদ্দিন আহমেদের অপসারণসহ ১০ দফা দাবি আদায়ে গত ২ নভেম্বর থেকে কর্মবিরতি, অবস্থান কর্মসূচি, সংবাদ সম্মেলনসহ নানামুখী আন্দোলনে নামেন শিক্ষকরা।

তাদের এই আন্দোলনের কারণে বন্ধ হয়ে যায় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম। শিক্ষার্থী শূন্য হয়ে পড়ে ক্যাম্পাস। পাঠদান ও পরীক্ষা বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েন অন্তত ৭০০ শিক্ষার্থী। এক পর্যায়ে ক্লাস ও পরীক্ষা নেওয়ার দাবিতে ভিসি ও আন্দোলনরত শিক্ষকদের সময়সীমা বেঁধে দেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও ছাত্র নেতারা। এ অবস্থায় গত ১৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় আন্দোলনরত শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন উপাচার্য। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ১৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য অর্থ কমিটির সভা ও ১৫ নভেম্বরের সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষকদের সব দাবি অনুমোদন করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ও ভিসি হটাও আন্দোলন কমিটির আহ্বায়ক ড. এএইচএম মাহবুবুর রহমান বলেন, এসব সভার আগেই অসুস্থতার কথা বলে প্রথমে জামালপুর ও পরে পালিয়ে ঢাকায় চলে যান উপাচার্য। পরে বাধ্য হয়েই আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন তাঁরা। বুধবার প্রশাসনিক ভবনের সামনে ভিসির কুশপুত্তলিকা দাহ করেন এবং দুর্নীতিবিরোধী স্লোগান দিয়ে কালো ব্যাজ ধারণ করেন তাঁরা।

গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল উপাচার্যের চার বছরের শেষ কর্মদিবস। এ দিন বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের অনুপস্থিতির বিষয়ে কথা হয় সিন্ডিকেট সদস্য ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুল আলমের সঙ্গে। তার ভাষ্য, কর্মদিবসের শেষ দিনেও বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার সাহস পাননি উপাচার্য। অথচ এ দিনটিতে ফুলেল শুভেচ্ছাসহ আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় সংবর্ধনা পাওয়ার কথা ছিল তাঁর। জীবনের শেষ কর্মদিবসটা তার পালিয়েই কাটাতে হলো।

এবিষয়ে অধ্যাপক সৈয়দ সামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, ২০১৮ সালের ১৯ নভেম্বর বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য হিসেবে যোগ দেন তিনি। দীর্ঘ সময় সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে তাঁর দাবি।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার ছিল তাঁর উপাচার্য মেয়াদের শেষ কর্মদিবস। নিয়ম অনুযায়ী, গতকাল রিলিজ হয়ে গেছেন তিনি। তবে শেষ কর্মদিবসেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপিপি অনুমোদনের জন্য ঢাকা অফিসে অবস্থান করেন এবং ডিপিপি অনুমোদন করান তিনি। তাঁর দাবি, আগামী রোববার আগের কর্মস্থল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক পদে যোগদান করবেন।

ঢাকা, ১৮ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমএ


আপনার মূল্যবান মতামত দিন: