কেন দপ্তরে যাই না, ভিসি জানেন!১৫ মাস অফিস করছেন না জাককানইবির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক


Published: 2021-06-19 19:21:08 BdST, Updated: 2021-07-28 14:31:30 BdST

জাককানইবি লাইভ: প্রধান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ছাড়াই অফিস চলছে। কারো যেন কোন মাথা ব্যথা নেই। বেতন, ভাতা, নানান সুযোগ সুবিধা সবই নিচ্ছেন তিনি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে যান না। করেন না রুটিন কাজও। এ বিষয়টি এখন ওপেন সিক্রেট। ১৫ মাসেও বিষয়টি রয়েছে ধরা ছোয়ার বাইরে। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের অনুপস্থিতিতে ফলাফল নিয়ে বিপাকে বিভাগগুলো। দীর্ঘ ১৫ মাস ধরে অফিস করছেন না জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) প্রধান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. নির্মল চন্দ্র সাহা। ফলে পরীক্ষা নিয়েও ফলাফল প্রকাশ করতে পারছে না বিভিন্ন বিভাগ।

করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় গতবছর মার্চের শেষ দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করা হয়। বিভিন্ন ধাপে ছুটি বাড়লেও অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম ও সীমিত পরিসরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তর চালু রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তা রুটিন মাফিক অফিস করলেও আসেন না প্রধান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. নির্মল চন্দ্র সাহা।

গত বছরের মার্চ থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত এই ১৫ মাসে তিনি মাত্র ৭ দিন দপ্তরে এসেছেন। সাপ্তাহিক ও অন্যান্য ছুটি বাদ দিলেও ১৫ মাসের মধ্যে ৩৭০ দিনের বেশি অফিসে আসেননি বলে তার দপ্তরের অন্যান্যরা অভিযোগ করেছেন। এ সময়ে বিভিন্ন বিভাগ পরীক্ষা নিয়ে কোর্স শেষ করলেও আটকে রয়েছে ফলাফল।

সংশ্লিষ্টরা জানান, শিক্ষার্থীদের সনদ, পরীক্ষা আয়োজন, ফলাফল প্রকাশ, শিক্ষকদের কাছে খাতা পাঠানোসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ নথিতে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। দপ্তরের প্রধান নির্মল চন্দ্র না আসায় স্বাক্ষর সংগ্রহে বিপাকে পড়ছে বিভিন্ন বিভাগ ও শিক্ষার্থীরা।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বারবার দপ্তরে আসার তাগাদা দিলে নির্মল চন্দ্র ব্যক্তিগত গাড়ি দাবি করে বসেন। সেটি না দেওয়ায় তিনি বাসা থেকেই অফিস করছেন এবং অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ফাইল নিয়ে তার বাসায় গিয়ে স্বাক্ষর এনে কাজ চালাচ্ছেন। নির্মল চন্দ্রের অফিসে না আসার সুযোগ নেন অন্যরাও, সঠিক সময়ে তারাও অফিসে আসেন না।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, কেবল ড. নির্মল চন্দ্রের স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য গোপনীয় নথি নিয়ে তার বাসায় যেতে হয়। এটি অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়াও নথি আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময় গণপরিবহন ব্যবহার করায় বাড়তি খরচ হয়। আবার বাসায় গিয়েও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়।

সম্প্রতি চাকরির জন্য চারুকলা বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থীর জরুরী সনদ প্রয়োজন হলে তিনি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে যান। কিন্তু নির্মল চন্দ্র না থাকায় তিনি সনদ নিতে পারছিলেন না। পরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান রাকিব দপ্তর থেকে সনদ সংগ্রহ করে স্বাক্ষরের জন্য পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের বাসায় পাঠান, যা দপ্তরের নিরাপত্তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ড. নির্মল চন্দ্র সাহা ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেব না। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথাও বলব না। তোমাদের কিছু জানার থাকলে ভিসিকে জিজ্ঞেস করো। আমি দপ্তরে যাব কি যাব না, তা তিনি বলতে পারবেন। আমি বাসায় বসে কাজ করব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ ড. হুমায়ুন কবীর বলেন, গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে তার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। বরং দপ্তরপ্রধান হিসেবে কথা বলা তারই দায়িত্ব। কেন বলছেন না, সেটি তিনিই ভালো জানেন।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এএইচএম মোস্তাফিজুর রহমান ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, বহুবার দপ্তরে আসতে বলেছি, লাভ হয়নি। তার চাকরির মেয়াদ রয়েছে দুই মাসের মতো। এটিকে কাজে লাগাচ্ছেন তিনি। ভিসি আরও বলেন, তবে নির্মল চন্দ্রকে ছাড়াই কীভাবে কাজ করা যায়, তা নিয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। শিগগিরই সংকট কেটে যাবে বলে জানান তিনি।

ঢাকা, ১৯ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআইটি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।