স্কুল পরিষ্কার করতে বলায় প্রধান শিক্ষিকাকে পেটালেন দপ্তরি


Published: 2021-05-28 15:49:05 BdST, Updated: 2021-06-18 09:02:50 BdST

ময়মনসিংহ লাইভ: এ কথাও শুনতে হলো। এসব কি চলছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। দপ্তরি এতো সাহস কোথায় পেয়েছে? এলাকাসীর সাফ কথা একে চাকরিচ্যুত করতে হবে। স্কুলের শ্রেণিকক্ষ খুলে পরিষ্কার করতে বলায় ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে প্রধান শিক্ষককে মারধর করে দপ্তরি। শুধু মারধরই না, অকথ্য ভাষায় গালাগালিও করেছে পরিবারের লোকজনকে। এ ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন প্রধান শিক্ষক নিলুফা খানম। বৃহস্পতিবার (২৭ মে) দুপুরে গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার বারইহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা স্কুলের শেণিকক্ষগুলোতে ধুলোর আস্তরণ পরে থাকায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিলুফা খানম দপ্তরি রাকিবকে স্কুলে আসতে বলেন। তারপর রাকিব আসলে তিনি শ্রেণিকক্ষ পরিষ্কার করতে বলায় রাকিব ক্লাসরুম পরিষ্কার করতে সরাসরি অপারগতা প্রকাশ করেন। বন্ধের সময় কোনো রকম কাজ করতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয় সে। এরপর কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক নিলুফার মাথায় ঘুষি মেরে বসে রাকিব।


কেবল মারধর নয় রাকিবের ভাই এসেও গালাগালি করে নিলুফাকে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিলুফা খানম বলেন, যে কোনো দিন স্কুল খুলতে পারে সেজন্য আমরা স্কুলের খোঁজখবর নেয়ার জন্য তিন শিক্ষক মিলে স্কুলে যাই।

এ সময় স্কুল অপরিষ্কার দেখে দপ্তরি রাকিবকে ফোন দেই। কিন্তু সে না আসায় লোক পাঠিয়ে তাকে আনা হয়। সে আসার পর স্কুলের অপরিষ্কার সব শ্রেণিকক্ষ পরিষ্কার করতে বলা হয়। কারণ যেকোনো সময় টিইও কিংবা এ-টিইও স্যার স্কুল পরিদর্শনে আসতে পারে। তারা এসে এই অবস্থা দেখলে তোমারও চাকরি যাবে, আমাকেও শোকজ করবে। এসব কথা শুনে রাকিব আমাকে বলে, তর কথাতে কি আমার স্কুল খোলা লাগব? এই লকডাইনে স্কুল খোলা হয় নাই তাইলে স্কুল পরিষ্কার করব কেন?

নিলুফা খানম আরও বলেন, মূল বিষয় হচ্ছে সে নেশা করে তারপর ঘুমায়। লোক পাঠিয়ে ঘুম থেকে তুলে আনায় আমার প্রতি সে চড়াও হয়েছে। সে আমার মাথায় ঘুষিসহ মারধর করেছে সবার সামনে। এ সময় পাগলা থানার এসআই আব্বাস সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনিই আমাকে উদ্ধার করেছে এবং থানায় নিয়ে গেছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পাগলা থানার ওসি মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, এ ঘটনার পর স্থানীয় শিক্ষক সমিতির যারা আছেন তারা টিইও এবং এ-টিইও’র কা

অভিযুক্ত দপ্তরির নাম মো. রকিব খান। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকালে মারধরের শিকার শিক্ষিকা গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। পাগলা থানা পুলিশ ও প্রধান শিক্ষিকা নিলুফা খানমের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, করোনার কারনে বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে অ্যাসাইমেন্ট দিচ্ছেন ও সংগ্রহ করছেন।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এ কাজে ব্যস্ত ছিলেন নিলুফা খানমসহ বারইহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। দুপুরের পর শিক্ষকদের কাছে থাকা ‘ওয়াক শীট’ শেষ হয়ে যায়। পরে প্রধান শিক্ষিকা নিলুফা খানম দপ্তরি রকিবকে ফোন করে ওয়াক শীট নিয়ে যেতে বললে রকিব তা শোনেনি।

পরে শিক্ষকরাই বিদ্যালয়ে গিয়ে ওয়াক শীট সংহগ্রহ করেন। ওই সময় রকিব বিদ্যালয়ে গেলে নিলুফা খানম রকিবকে বলেন, বিদ্যালয় পরিষ্কার করতে। এতে রকিব কিছুটা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।

এ পর্যায়ের রকিব খান খুন্তি নিয়ে শিক্ষক নিলুফার উপর আক্রমন করে।উপস্তিত লোকজন তাকে ফিরালেও কিল ঘুষি মেরে নিলুফাকে মাটিতে ফেলে দেয়। এতে নিলুফা খানম আহত হন। বিকারল নিলুফা খানম গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। রকিব খান মুঠোফোনে বলেন, আমি তাঁকে (নিলুফা খামন) মারধর করিনি। অভিযোগ মিথ্যা ।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার ( ভারপ্রাপ্ত ) সালমা আক্তার বলেন, প্রধান শিক্ষক নিলুফার খানম আমাকে অভিযোগ দিয়েছিল। আমি তাকে প্রথমে থানায় অভিযোগ দায়ের করার জন্য পরামর্শ দিয়েছি । এ ব্যাপারে তদন্তপূর্বক শিক্ষা বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাগলা থানার ওসি মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। এই ঘটনায় এলাকায় নানান আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

সেই দপ্তরি গ্রেপ্তার

স্কুলের শ্রেণিকক্ষ খুলে পরিষ্কার করতে বলায় ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে প্রধান শিক্ষককে মারধর করে দপ্তরি। শুধু মারধরই না, অকথ্য ভাষায় গালাগালিও করেছে পরিবারের লোকজনকে। এ ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন প্রধান শিক্ষক নিলুফা খানম। বৃহস্পতিবার (২৭ মে) দুপুরে গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার বারইহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত রাকিবকে শুক্রবার (২৮ মে) ভোরে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা স্কুলের শেণিকক্ষগুলোতে ধুলোর আস্তরণ পরে থাকায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিলুফা খানম দপ্তরি রাকিবকে স্কুলে আসতে বলেন। তারপর রাকিব আসলে তিনি শ্রেণিকক্ষ পরিষ্কার করতে বলায় রাকিব ক্লাসরুম পরিষ্কার করতে সরাসরি অপারগতা প্রকাশ করেন। বন্ধের সময় কোনো রকম কাজ করতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয় সে। এরপর কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক নিলুফার মাথায় ঘুষি মেরে বসে রাকিব। এ সময় রাকিবের ভাই এসেও গালাগালি করে নিলুফাকে।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিলুফা খানম বলেন, যে কোনো দিন স্কুল খুলতে পারে সেজন্য আমরা স্কুলের খোঁজখবর নেয়ার জন্য তিন শিক্ষক মিলে স্কুলে যাই। এ সময় স্কুল অপরিষ্কার দেখে দপ্তরি রাকিবকে ফোন দেই। কিন্তু সে না আসায় লোক পাঠিয়ে তাকে আনা হয়। সে আসার পর স্কুলের অপরিষ্কার সব শ্রেণিকক্ষ পরিষ্কার করতে বলা হয়।

কারণ যেকোনো সময় টিইও কিংবা এ-টিইও স্যার স্কুল পরিদর্শনে আসতে পারে। তারা এসে এই অবস্থা দেখলে তোমারও চাকরি যাবে, আমাকেও শোকজ করবে। এসব কথা শুনে রাকিব আমাকে বলে, তর কথাতে কি আমার স্কুল খোলা লাগব? এই লকডাইনে স্কুল খোলা হয় নাই তাইলে স্কুল পরিষ্কার করব কেন?

বিষয়টি নিশ্চিত করে পাগলা থানার ওসি মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, এ ঘটনার পর স্থানীয় শিক্ষক সমিতির যারা আছেন তারা টিইও এবং এ-টিইও’র কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। এছাড়া থানায় অভিযোগ দায়েরের পর অভিযুক্ত দপ্তরি রাকিবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঢাকা, ২৮ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।