দুই বছরের কাজ শেষ হয়নি ৫ বছরেও; ব্যয় বেড়েছে ৭০ লাখ!


Published: 2021-03-21 12:17:18 BdST, Updated: 2021-06-17 15:40:23 BdST

জাককানইবি লাইভ: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে শুরু হওয়া বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য ও কবি নজরুল ভাস্কর্যের বেদি নির্মাণ কাজ ২০১৯ এর জুন-জুলাই মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সুতিয়া কর্পোরেশন।

বছরের বেশিরভাগ সময় কাজ বন্ধ থাকলেও বিভিন্ন অজুহাতে সময়ে সময়ে প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব করে প্রতিষ্ঠানটি। যা একের পর এক অনুমোদনও দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ৪২ লাখ টাকায় দুটি ভাস্কর্যের বেদি নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা থাকলেও ব্যয় বেড়ে সেই অর্থ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১২ লাখ টাকায়!

অন্যদিকে চুক্তি অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু ও নজরুল এর মূল ভাস্কর্য নির্মাণ বাবদ শিল্পী শ্যামল চৌধুরীকে দেয়া হয়েছে ৫৫ লাখ টাকা।

অভিযোগ রয়েছে, পরিকল্পনা ও ইঞ্জিনিয়ারিং দপ্তরের দুই কর্মকর্তার সহযোগিতায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি বারবার ব্যয় বৃদ্ধি করছে এবং কারণ হিসেবে তুলে ধরছে বেদির নকশা পরিবর্তন করাকে। যা দেখিয়ে প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, সম্পূর্ণ কাজটি শেষ করতে আরো ১০-১৫ লাখ টাকার ব্যয় দেখানো হবে। যেখানে নকশা পরিবর্তন করা ও দ্রুত নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা উল্লেখ করা হবে। সেটি বাস্তবায়নে কাজ করবে দপ্তরটির একাধিক কর্মকর্তা।

ব্যয় বৃদ্ধি ও প্রকল্পের অবস্থা জানতে চাইলে পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তর পরিচালক প্রকৌশলী মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, 'এগুলোর তথ্য বলা যাবে না। খরচ কত হয়েছে এগুলো বলতে আমি বাধ্য নই। এগুলো নিউজ করতে হবে না। মাহাবুব ইলাহী সাহেব (একই দপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক) আসলে দেখা করো, সব ঠিক হয়ে যাবে।’

তবে প্রকল্পের অর্থ বৃদ্ধির কথা স্বীকার করেছেন অর্থ দপ্তরের উপ-পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি জানিয়েছেন, দুটি ভাস্কর্যের বেদি নির্মাণের শুরুতে ৪২ লাখ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। যা পরবর্তী সময়ে বেড়ে ২০২১ সালের শুরু পর্যন্ত হয়েছে ১ কোটি ১২ লাখ টাকা।

প্রকল্পের কাজ পেছানো এবং বরাদ্দকৃত অর্থের বিষয়ে মেসার্স সুতিয়া করপোরেশনের মালিক জিএম নূরুল করিম স্বপন বলেন, ‘আমি ব্যস্ত আছি। এ বিষয়ে কথা বলতে চাই না। তবে আগামী এক মাসের ভেতর কাজ শেষ হয়ে যাবে।’

ভাস্কর্যের ব্যয় ও বাস্তবায়নের সময় বৃদ্ধির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ ড. হুমায়ুন কবীর ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ‘অনেক অভিযোগ থাকতে পারে। তবে আগে কী হয়েছে তা আমরা এখন দেখতে চাই না। আমাদের লক্ষ্য আগামী নজরুল জয়ন্তীর আগেই ভাস্কর্যের পুরো কাজ শেষ করা। আমরা সে লক্ষ্যেই কাজ করছি।’

উল্লেখ্য, কাজ শেষ না হতেই ২০২০ সালের ১৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য উদ্বোধন করেছিলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। উদ্বোধনের পরপরই পলেস্তারা ও টাইলস খসে পড়ার চিত্রও দেখা গেছে। এদিকে সম্পূর্ণ নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই ভাস্কর্য বুঝে নেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আলাদা অর্থও গুণতে হয়েছিলো।

ঢাকা, ২১ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেজে//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।