টেবিলে পড়ে আছে ভাত : তৌহিদকে সেহরিও খেতে দেয়নি ওরা!


Published: 2020-05-01 20:20:09 BdST, Updated: 2020-09-19 09:38:34 BdST

রুহুল আমিন আবির : টেবিলে বইগুলো সাজানো, বেডটাও পরিপাটি গুছানো। ছেলেটা তার টেবিলে ভাত বেড়ে রেখেছিল সেহরিতে খাবে বলে। এমন সময় সন্ত্রাসীরা মেসে ঢুকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র তৌহিদুল ইসলামকে মেসে ঢুকে কুপিয়ে হত্যা করে। সন্ত্রাসীরা তৌহিদকে ভাতও তাকে খেতে দেয়নি। অথচ মৃত্যুর কিছুক্ষণ বাবা-মা সেহরি খেতে উঠেছেন কি না তা জানতে শেষ কথা হয়েছিল তৌহিদের। কিন্তু কে জানতো দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাত তার প্রাণ কেড়ে নেবে। ময়মনসিংহ মহানগরীর তিনকোনা পুকুরপাড় এলাকার ছাত্রদের মেসে ঢুকে ওই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত তৌহিদুল ইসলাম ত্রিশালের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

মেসের সদস্যরা জানান, তৌহিদ তার সাহরীর খাবার নিয়ে টেবিলে রেখেছিলেন। রোজা রাখবেন বলে। কিন্তু দুর্বৃত্তরা তাকে সে খাবার গ্রহনের সময়ও দেয়নি। এরি মধ্যে হামলে পড়ে তার ওপর। একথা বলে তার এক সহকর্মী কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

নিহতদের স্বজন ও মেসের সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১ মে) ভোরে সেহরি খাওয়ার পর মেসে কয়েকজন দুর্বৃত্তরা ঢুকে পড়ে। মূহুর্তেই তৌহিদুল ইসলামকে ছুরিকাঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার পর ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। নিহত তৌহিদুল ইসলাম খান নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া থানার রামেশ্বর এলাকার সাইদুল ইসলাম খানের ছেলে। তিনি তিনকোনা পুকুর পাড় এলাকায় মেসে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন। অত্যন্ত মেধাবী ও সৎ হিসেবেই তাকে ক্যাম্পাসে সকলে চিনতো।

সংশ্লিস্টরা আরো জানান, ময়মনসিংহ নগরীর তিনকোনা পুকুরপাড় এলাকায় জনৈক আদিলের বাসায় ভাড়া থাকতেন ওই শিক্ষার্থী। ভোরে কক্ষে ঢুকে দুর্বৃত্তরা তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে শিক্ষার্থীর ডাক চিৎকারে স্থানীয়রা তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে নেয়ার পর ভোর সাড়ে চারটার দিকে ওই শিক্ষার্থী মারা যান।

উল্লেখ্য, মৃত্যুর আগে তৌহিদুল জবানবন্দি দিয়ে গেছে। তাকে কে কে হত্যা করেছে তাদের নামও বলেছেন বলে জানা গেছে। কি কারণে তারা তাকে হত্যা করলো তাও বলে গেছে তৌহিদুল ইসলাম। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাশ ঘরে রাখা হয়েছে।

তৌহিদের ছোট ভাই শহিদুল ইসলাম খান ও চাচা সায়েদ আহমেদ খান জানান, রাত আড়াইটার দিকে সে বাড়িতে ফোন দিয়ে তার বাবার সাথে কথা বলেছে। কিছুক্ষণ পরেই সে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে খবর পেয়ে এসে দেখি মারা গেছে। তার হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান তারা।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পূলিশ সুপার হুমায়ুন কবীর জানান, মৃত্যুর আগে তৌহিদ জবানবন্দি দিয়ে গেছেন। সে অনুযায়ী কাজ চলছে। হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে। শিগগিরই জড়িতরা ধরা পড়বে।

ঢাকা, ০১ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।