পরীক্ষার্থী অসুস্থ: চিকিৎসা দিতে গেলেন হাসপাতালের মালি


Published: 2019-11-07 16:12:06 BdST, Updated: 2019-11-23 01:11:51 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: চাঁদপুর সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা পরীক্ষার কেন্দ্রে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এক ছাত্রী। এসময় ডাক্তারকে খবর দেয়া হলে চিকিৎসা দিতে গেলেন হাসপাতালের মালি। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। শুরু হয়েছে হৈচৈ। এঘটনায় অভিভাবকসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার চাঁদপুর সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে সকালে জেডিসির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ে পরীক্ষা চলছিল। বেলা ১১টায় কানিকাটাল দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার এক ছাত্রী ফাহিমা খাতুন মাথা ঘুরে পড়ে যায়। এসময় পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়োগকৃত (অন-কল) হাসপাতালের ডাক্তার মশিউর রহমানকে ফোনে ডাকা হয়। খবর পেয়ে ওই ডাক্তার না গিয়ে চিকিৎসার জন্য পাঠালেন হাসপাতালে বাগান মালিকে। এতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছে।


ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্র সচিব প্রিন্সিপাল আছম হুমায়ুন কবীর জানান, পরীক্ষার কেন্দ্রে এক পরীক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ায় আমরা পূর্বে নিয়োগকৃত ডাক্তার মশিউর রহমানকে খবর দেই। খবর পেয়েও তিনি না এসে পাঠিয়েছে ওই হাসপাতালের বাগান মালিকে। আমরা প্রশাসনের নিকট ওই ডাক্তারের দায়িত্বের অবহেলার অভিযোগে উপযুক্ত শাস্তি দাবি করছি।

এঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে ড. মশিউর রহমান জানান, ‘মাদরাসার প্রিন্সিপাল অনারিয়াম (টাকা) দেন না, তাই পরীক্ষার কেন্দ্রে যাওয়া যাবে না। অসুস্থ ছাত্রীকে হাসপাতালে পাঠিয়ে দিতে বলা হয়েছে।’ বিগত পরীক্ষাতে দায়িত্বে থাকার পরও কেন্দ্র সচিব টাকা দেননি। একারণে পরীক্ষা কেন্দ্রে না গিয়ে হাসপাতালের বাগান মালি আতোয়ার রহমানকে পাঠিয়েছি।

পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ছাত্রীকে হাসপাতালে নেয়ার খবর শুনে কেন্দ্র সচিব ও উপস্থিত শিক্ষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েন। তারা তড়িঘড়ি করে মাদ্রাসার পাশের এক স্থানীয় চিকিৎসককে ডেকে এনে ছাত্রীর চিকিৎসা করালে কিছুক্ষণ পর ছাত্রী সুস্থ হয়ে পুনরায় পরীক্ষা দিতে বসে।

এঘটনায় কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা নূর হোসেন মিয়া ডাক্তারের এই আচরণে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ডাক্তার কাজটি ঠিক করেন নাই।

বিরামপুর হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সিরাজুল ইসলাম জানান, অনারিয়ামের কারণে অসুস্থ ছাত্রীকে চিকিৎসা দিতে না যাওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌহিদুর রহমান জানান, পরীক্ষা কেন্দ্রে ছাত্রীকে চিকিৎসা দিতে না যাওয়ার বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।


ঢাকা, ০৭ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।