পরীক্ষাকেন্দ্রে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা, পাস করেছেন সেই নুসরাত!


Published: 2019-07-17 17:06:30 BdST, Updated: 2019-12-07 07:29:16 BdST

ফেনী লাইভ : মাদরাসায় আলিম (এইচএসসি সমমান) পরীক্ষা দেয়ার সময় সোনাগাজীতে মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। পরীক্ষা কেন্দ্রেরই ছাদেই পুড়িয়ে হত্যা করা হয় তাকে। সেই নুসরাত দুটি পরীক্ষা দিয়েছিলেন। সেই পরীক্ষায় তিনি এ পেয়ে পাস করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় যান নুসরাত জাহান রাফি। রোল নম্বর ছিল ১৪৯৬১৪। ৬ এপ্রিলের আগে শুধুমাত্র কুরআন মাজিদ ও হাদিস পরীক্ষা দিতে পেরেছিলেন নুসরাত। আজ বুধবার সারাদেশের এইচএসসি সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফলে নাম আছে নুসরাতেরও। ফলাফলের পাশে লেখা আছে ফেল।

তবে বাস্তবে পাসই করেছেন নুসরাত। যে দুটি বিষয়ে পরীক্ষা দিয়েছিলেন তাতে মিলিত ‘এ’ গ্রেড পেয়েছেন। ওই দুটি বিষয়ে মিলিয়ে গড় করে একটি ফল দেওয়া হয়। বাকি পরীক্ষা দেওয়ার আগেই দুর্বৃত্তদের হাতে প্রাণ দিতে হয়েছে তাকে। পরীক্ষার কেন্দ্রেই তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।

১০ এপ্রিল (বুধবার) রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান অগ্নিদগ্ধ নুসরাত। পরদিন সকালে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের বুঝিৃয়ে দিলে বিকেলে সোনাগাজী পৌরসভার উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। ওই ঘটনার তদন্ত শেষে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) জানায়, ফেনীর সোনাগাজীর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়ার সময় উপস্থিত বোরকা পরা চারজনের তিনজনই ছিল পুরুষ। অন্য একজন নারী সদস্য। তারা সবাই ওই মাদ্রাসার বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থী।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৬ এপ্রিল (শনিবার) সকালে রাফি আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় গেলে সেখানেই ভবনের ছাদে নিয়ে কেরোসিন ঢেলে তাকে আগুনে পোড়ানো হয়। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দুই ছাত্রীর মাধ্যমে তিনটি বোরকা আনা হয়। আনা হয় কেরোসিন তেল।

৬ এপ্রিল বান্ধবী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করছে বলে শম্পা ওরফে চম্পা নামে এক ছাত্রীর দেয়া সংবাদে ভবনের চারতলায় যান নুসরাত। তারা নুসরাতকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। কিন্তু নুসরাত অস্বীকৃতি জানালে ওড়না দিয়ে বেঁধে গায়ে আগুন দিয়ে তারা নির্বিঘ্নে বেরিয়ে যায়। নুসরাত হত্যায় মোট ১৩ জনের সংশ্লিষ্টতা মিলেছে। এর মধ্যে এজাহারভুক্ত আট আসামির মধ্যে পরিকল্পনাকারী শাহাদাত হোসেন শামীম (২০), নূর উদ্দিন (২০), মাকসুদ আলম কাউন্সিলর (২০), জোবায়ের আহম্মেদ, জাবেদ হোসেন (১৯) ও আফছার উদ্দিনকে (৩৫) গ্রেফতার করা হয়েছে।

একই ঘটনায় আগে শ্লীলতাহানির অভিযোগে আটক সিরাজ উদ দৌলাকে হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এজাহারভুক্ত অপর আসামি হাফেজ আব্দুল কাদের পলাতক। গ্রেফতারদের মধ্যে নূর উদ্দিন হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকার করে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে বলে জানান তিনি


ঢাকা, ১৭ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।