প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘কওমী জননী’ ঘোষণা


Published: 2018-11-04 13:51:30 BdST, Updated: 2018-11-17 23:49:40 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুকরানা মাহফিলে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রবিবার বেলা পৌনে ১১টায় তিনি শোকরানা মাহফিলে পৌঁছান। সকাল ৯টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্যদিয়ে মাহফিল শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী মাহফিলে পৌঁছালে কওমি মাদরাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী তাকে অভিবাদন জানান। পরে প্রধান অতিথির আসন গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির স্বীকৃতি দিয়ে সংসদে আইন পাস হওয়ায় এ ‘শোকরানা মাহফিল’ আয়োজন করেছে কওমি মাদরাসাগুলোর ছয় বোর্ডের সমন্বিত সংস্থা আল-হাইয়াতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়্যাহ বাংলাদেশ।

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শোকরানা মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘কওমী জননী’ ঘোষণা করেছেন আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়্যাহ বাংলাদেশের সদস্য, কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের (বেফাক) সাবেক মহাসচিব ও গেপালগঞ্জের গওহরডাঙ্গা মাদরাসার মহাপরিচালক মুফতি রুহুল আমিন।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতার শুরুতেই মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়ন ও আলেম-ওলামাদের জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন। এসময় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, ধর্মীয় শিক্ষা সংযুক্ত হলেই একটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গ হয়। আর কেউ যেন কওমি স্বীকৃতি বাতিল করতে না পারে সেজন্য এই আইন (স্নাতকোত্তর স্বীকৃতি) করা হয়েছে।

এসময় প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, কওমি মাদ্রাসার মাধ্যমেই মুসলমানরা শিক্ষা গ্রহণ শুরু করে। এই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাই ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন শুরু করেন। দেশের প্রতিটি মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে সরকার কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কওমি শিক্ষার্থীদের দেশ ও জাতির জন্য কাজ করতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি গোষ্ঠী অপপ্রচারে লিপ্ত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অপপ্রচারে বিশ্বাস করবেন না। সরকার অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। ইসলামী সংস্কৃতির বিস্তারের জন্য দেশের প্রতিটি অঞ্চলে মসজিদ নির্মাণ করে দেওয়া হবে।

রবিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কওমী ওলামাদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেয়া হয়। শোকরানা মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে হেফাজত নেতা শাইখুল ইসলাম আল্লামা আহমদ শফীকে স্বাধীনতা পদক দেয়ারও দাবি জানান জাতীয় দ্বীনি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও জমিয়াতুল উলামার চেয়ারম্যান শাইখুল হাদিস আল্লামা ফরিদ উদ্দীন মাসউদ।

এসময় আল্লামা ফরিদ উদ্দীন বলেন, দেশের সব মসজিদের ইমাম সাহেব ও মুয়াজ্জিনদের বেতন ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। ইমামদের নূন্যতম ৫ হাজার ও মুয়াজ্জিনদের ৩ হাজার বেতন করার দাবি জানান ফরিদ উদ্দীন মাসউদ। এছাড়া যেসব আলেমদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা রয়েছে তা প্রত্যাহারের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দাবি জানান বক্তারা।

 


ঢাকা, ৪ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।